Opu Hasnat

আজ ১৯ আগস্ট সোমবার ২০১৯,

সৈয়দপুরে ট্রাফিক আইন মানছে না চালকরা, ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা নীলফামারী

সৈয়দপুরে ট্রাফিক আইন মানছে না চালকরা, ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা

সৈয়দপুর নীলফামারী থেকে সৈয়দা রুখসানা জামান শানু : ট্রাফিক আইন না মেনে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে চলছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যাত্রীর যত্রতত্র ওঠানামা। বর্তমানে প্রকট আকার ধারণ করেছে শহরের যানজট সমস্যা। ফলে অহরহ ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

ট্রাফিক আইন মেনে চলতে এরইমধ্যে ট্রাফিক আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের। তারপরও চালকদের কোন কাজেই আসছে না সে প্রশিক্ষণ। তাদের বেশিরভাগ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই আগের মতোই বেপরোয়াভাবে এবং সড়কের ওপর যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করছে।

দেশের অষ্টম বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুরে ঠিক কতোগুলো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে তার সঠিক হিসেব নেই। তবে এ সংখ্যা ১০ সহস্রাধিক ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমানে ঘিঞ্জি শহর সৈয়দপুরে যানজটের অন্যতম কারণ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। যদিও একসময় সৈয়দপুর শহরে রিকশার আধিক্য ছিল। কিন্তু বর্তমানে সে স্থান দখল করে নিয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। এসব বাহনের চালকরা ট্রাফিক আইন না মেনে যেখানে সেখানে গড়ে তুলেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড। ফলে এ শহরে যানজট প্রকট আকার ধারণ করেছে। শহরের বঙ্গবন্ধু সড়ক মোড় (তাজির হোটেলের সামনে), শেরে বাংলা সড়ক (তামান্না সিনেমা হল এলাকা), জাসদ অফিস মোড়,  বিমানবন্দর সড়ক, শহীদ তুলশীরাম সড়ক, শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক, বিজলী সিনেমা মোড় থেকে শুরু করে থানা মোড় পর্যন্ত এলাকায় গড়ে উঠেছে অটোরিকশার স্ট্যান্ড। এসব সড়কে অটোরিকশার কারণে পথচারীসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল ব্যহত হয়ে পড়ছে।

যেসব চালক অটোরিকশা চালান তাদের মূলত কোনো প্রশিক্ষণই নেই। আবার অনেকে রিকশা চালানো ছেড়ে দিয়ে অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আবার এসব চালকদের মধ্যে অনেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক। ফলে শহরের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে তারা একেবারে অজ্ঞ। এ অবস্থায় শহরের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

সৈয়দপুর ইউনাইটেড ভলেন্টিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (সুভা)-এর উদ্যোগে সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ট্রাফিক বিভাগ ও অটোরিকশা মালিক শ্রমিক সংগঠনের সহযোগিতায় গত ২২ জুন অটোরিকশা চালকদের মাঝে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে ও সচেতনতা সৃষ্টিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অটোরিকশা চালকদের ট্রাফিক আইন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

কর্মশালায় ট্রাফিক আইন মেনে অটোরিকশা চালনোর জন্য চালকদের  বিভিন্ন নির্দেশনাও দেওয়া হয়। এসব নির্দেশনার মধ্যে ছিল ট্রাফিক মেনে চলা, নির্ধারিত স্থানে অটোরিকশা থামানো এবং যাত্রী ওঠানামা করা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের হাতে অটোরিকশা না দেওয়া, স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালানো, যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য ও দুর্ঘটনা এড়াতে অটোরিকশার ডানদিকে লক সিস্টেম চালু করা, নির্দিষ্ট রুটে গাড়ি চালানো ও বিভিন্ন রুটের ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন করা ইত্যাদি। 

ওই প্রশিক্ষণে অটোরিকশা চালকরা ট্রাফিক আইন মেনে চলাসহ অন্যান্য দিক নির্দেশনা মেনে চলার অঙ্গীকার করেন। কিন্তু  এ প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরেও আগের মতোই বেপরোয়া অটোরিকশা চালাচ্ছেন তারা। ট্রাফিক আইন না মেনে যত্রতত্র সড়কের ওপরেই যাত্রী ওঠানামা করছেন। এ ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও অটোরিকশা চালাতে দেখা যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অটোরিকশা  চালক বলেন, দুই-একজন চালক নিয়ম মানলে চলবে না, ট্রাফিক আইন সবাইকে মানতে হবে। কিন্তু যাত্রী ওঠানামার প্রতিযোগিতায় সবাই মেতে ওঠায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির সৈয়দপুর টার্মিনাল চিকলী কমিটির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান শাওন বলেন, কর্মশালার পর অটো চালকরা যাতে ট্রাফিক আইন মেনে চলেন সেজন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর শাখা থেকে গত ২ জুলাই অটোচালকদের মাঝে পরিচয়পত্র, ইউনিফর্ম ও ভাড়ার তালিকা বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া দুর্ঘটনারোধে অটোরিকশার ডান পাশে নিরাপত্তা লক লাগানো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এরপরও যদি অটোচালকরা সংগঠনের নির্দেশনা না মানেন তবে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নীলফামারী জেলা ট্রাফিক বিভাগের শহর ও যানবাহন পরিদর্শক মো. আবু নাহিদ পারভেজ চৌধুরী বলেন, শহরের যানজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এবং রিকশা ভ্যানচালকরা ট্রাফিক আইন মানলে শহরের যানজট পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। কিন্তু তারা ট্রাফিক আইন না মানায় শহরের যানজট পরিস্থিতি নিরসনে হিমশিম খেতে হচ্ছে ট্রাফিক বিভাগকে।