Opu Hasnat

আজ ১৯ আগস্ট সোমবার ২০১৯,

পাইকগাছার চাঁদখালীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭ : আটক ২ খুলনা

পাইকগাছার চাঁদখালীতে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭ : আটক ২

পাইকগাছার চাঁদখালী বাজারে পোল্ট্রি ব্যাবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়েছে। গুরুতর অবস্থায় ইয়াসিন কে খুলনায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দু’জনকে পুলিশ আটক করেছেন। রবিবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। দু’পক্ষই এ ঘটনার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছেন। 

থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার চাঁদখালীর মুরগীর বাজারে ব্যবসায়ীরা দর ও খরিদ্দার ডাকা-ডাকি নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরে চাঁদখালী-বাজারের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী স্থানীয় মঈনউদ্দীনের ছেলে সাঈদুল- ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমানের ছেলে আকরাম ও মালেক সরদারের ছেলে ইয়াসিনের মধ্যে মতপার্থক্য সহ দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এর জের ধরে রবিবার সকালে প্রথম দফায় দু’পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটলে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ খবর উভয় পরিবারে ছড়িয়ে পড়লে দু’পক্ষই পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করে ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে তর্কে-বিতর্কের মধ্যে এক পর্যায়ে সংঘর্ষ ও মারপিটে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় মারপিটে একই পরিবারের ব্যবসায়ী ইয়াসিনের মাথা ফেটে জখম সহ তার ভাই হোসেন, পিতা মালেক সরদার, গফফার ও রেজাউল সরদার ও ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমানের ভাই জনাব গাজী, কলেজ পড়ুয়া ছেলে সাইফুল ও মঈনুউদ্দীনের অনার্স পড়ুয়া ছেলে ফুটবলার আবু রায়হান আহত হয়। সংঘর্ষে লাঠি-সোটা, ইট-পাটকেল সহ মুরগী কাটা চাপাতির ব্যবহার ঘটে বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের সহয়তায় আহত দু'পক্ষকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহত ইয়াসিনের মাথার আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাকে খুলনায় পাঠানো হয়েছে। 

খবর পেয়ে পুলিশের এসআই মহিউদ্দীন আহম্মদ ঘটনাস্থল থেকে মঈনউদ্দীন গাজীর দু’ছেলে সাঈদুল ও সবুজকে আটক করে। এ ঘটনায় কালীদাশপুরের মৃত সিবাজ সরদারের ছেলে সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে আটক দু’ভাই সহ ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান, হাসান গাজী, আবু তালেব, সাইফুল, শাহিন সহ ১০ ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন, যার নং- ২৩। এদিকে প্রতিপক্ষ মালেক-গফফার গংদের বিরুদ্ধে মঈনউদ্দীন গাজী বাদী হয়ে থানায় পাল্টা আরোও একটি অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে মালেক পরিবার অভিযোগ করেছেন প্রতিপক্ষ পোল্ট্রি ব্যবসায়ী সাঈদুল-আকরাম গংরা চড়া দামে পোল্ট্রি বিক্রি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করত। তার ছেলেরা এ ব্যবসায় নেমে বাজারে উপযুক্ত মুল্যে পোল্ট্রি বিক্রি শুরু করলে এখান থেকে দ্বন্দ্ব শুরু এবং ঘটনার সময়ে লাঠি-সোটা ও চাপাতি দিয়ে হামলা করে আমার, দু’ছেলে ও ভাইদের কুপিয়ে জখম করে। 

অন্যদিকে ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমানের ছেলে বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সাইফুল অভিযোগ করেন আমি সকালে বাজারে মাংস নিতে গেলে প্রথমে মাদক মামলার আসামী গফফার আমাকে লাঠিপেটা করলে আমার পরিবারকে অবহিত করি। এরপর আমার ও সবুজের পরিবারের সদস্য এ ঘটনা জানতে আসলে ইয়াসিন গংরা আমাদের মারপিট করে আহত করে। 

মঈনউদ্দীন গাজী জানান, প্রতিপক্ষ ইয়াসিন আমার ছেলের মুরগী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থান দখল করে নিয়ে ব্যবসা করতে গেলে প্রতিবাদ করলে আমাদের মারপিট করে। 

ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রহমত আলী, থানায় মামলা ও দু’জন আটকের কথা স্বীকার করে জানান, মুরগি ব্যবসার দ্বন্দ্বের জেরে দু’পক্ষের মধ্যে এ মারপিটের ঘটনা ঘটেছে।