Opu Hasnat

আজ ১৩ ডিসেম্বর শুক্রবার ২০১৯,

সৈয়দপুরে নির্মাণের পরেই ভেঙ্গে পড়েছে ড্রেন ! নীলফামারী

সৈয়দপুরে নির্মাণের পরেই ভেঙ্গে পড়েছে ড্রেন !

সৈয়দা রুখসানা জামান শানু, নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে : নীলফামারীর সৈয়দপুরে সরকারি বরাদ্দে নির্মাণের সাত দিন যেতে না যেতেই ভেঙে পড়েছে ড্রেনের  কিছু অংশ। উপজেলার তিন নং বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের এক নং ওয়ার্ডের পশ্চিম লক্ষণপুর এলাকায় ওই ড্রেন নির্মাণ করা  হয়। এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ অতি নিম্নমানের কাজের কারণে এমনটি ঘটেছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বার্ষিক উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিপি) আওতায় গত ২০১৮-২০১৯খ্রি: অর্থবছরে সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষণপুর এলাকায় পানি নিষ্কাশনের একটি ড্রেন নির্মাণে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়। ১৯২ ফুট দীর্ঘ এ ড্রেনটি  ইউনিয়ন পরিষদের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) অধীন ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়। এর প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি হচ্ছে  সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য অজিত চন্দ্র রায়। গত জুন শেষে ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়। উল্লিখিত স্থানে আগেও একটি সরু ড্রেন ছিল। সেটি ভেঙ্গে একই স্থানে ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ড্রেন নির্মাণে পুরাতন ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও ড্রেন নির্মাণ কাজে পরিমাণ মতো সিমেন্ট ও বালুসহ অন্যান্য উপকরণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয় নাই। আর এটির কারণে ড্রেন নির্মাণের সপ্তাহ দিন পার না হতেই ড্রেনটি প্রায় ৩০ ফুট ভেঙ্গে হেলে পড়েছে। সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়  ড্রেনের পাঁচ ইঞ্চি  গাঁথনির এক পাশের ওই অংশ ভেঙ্গে গেছে।

এ সময় এলাকার মো. আব্দুস্ সামাদ অভিযোগ করে বলেন, আগের ড্রেনের ইটগুলো দিয়ে ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়। এছাড়াও পুরাতন ইটগুলো ভালভাবে পরিস্কার করা হয়নি। ব্যবহার করা হয়নি নির্দিষ্ট পরিমাণে সিমেন্ট এবং বালুও। আমরা সে সময় ভালভাবে কাজ করার জন্য বলেছিলাম ঠিকাদার সংশ্লিষ্ট সকলকে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা আমাদের কথায় কোন গুরূর্ত্ব দেয়নি। মূলতঃ তড়িঘড়ি এবং সঠিক ভাবে কাজ  না করায়  এমনটি হয়েছে বলে তিনি জানান। একই এলাকা নিবাসী সাজ্জাদ হোসেন জানান, এমন ড্রেন নির্মাণ করলো যে নির্মাণের পর পরই তা ভেঙে পড়েছে। সরকারি কাজ এমন নিম্নমানের হয় তা আগে কখনো দেখিনি।

বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও পিআইসির সভাপতি শ্রী অজিত চন্দ্র রায়  নির্মিত ড্রেনের কিছু অংশ ভেঙে পড়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তবে তিনি নিম্নমানের কাজ করার কথা অস্বীকার করে বলেন ড্রেন নির্মাণের দিন থেকে মুষল ধারায় বৃষ্টি শুরু হয়। আর ড্রেনের মুখ বন্ধ থাকায় ড্রেনে জমাকৃত পানির চাপে কিছুটা অংশ ভেঙ্গে যায়। তবে ভাঙা অংশ মেরামত করা হবে বলে জানান তিনি। একই ধরনের কথা বলেন সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শ্রী প্রণোবেশ চন্দ্র বাগচী। 
 
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এস. এম. গোলাম কিবরিয়া বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।