Opu Hasnat

আজ ১৭ জুলাই বুধবার ২০১৯,

সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারছেন না হরিণাকুন্ডু উপজেলার কৃষকেরা কৃষি সংবাদঝিনাইদহ

সরকারের কাছে ধান বিক্রি করতে পারছেন না হরিণাকুন্ডু উপজেলার কৃষকেরা

ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুন্ডু উপজেলায় মোট  ৩৮ হাজার ৭শ ৫০ জন কৃষক পরিবার। এর মধ্যে কৃষি অফিস থেকে ৩ হাজার ২শ ১ জন কৃষকের তালিকা উপজেলা খাদ্য বিভাগে প্রেরণ করা হয়েছে। কৃষকেরা সরকারীভাবে প্রথমে ২৭৩ মেট্রিক টন এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে ৪৫৫ মেট্রিকটন ধান বিক্রির সুযোগ পাবেন। প্রতিজন সর্বোচ্চ ৩ টন করে ধান সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। 

সরকারের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক চলতি বোরো মৌসুমে হরিণাকুন্ডু সরকারী খাদ্য গুদামে ২৬ টাকা কেজি দরে ২৭৩ মেট্রিক টন এবং দ্বিতীয় কিস্তির ৪৫৫ মেট্রিকটন ধান ও ৩৬ টাকা কেজি দরে ১০২৯ মেট্রিক টন বোরো চাল কেনা মে মাস থেকে শুরু হয়ে ৩০ আগষ্ট পর্যন্ত সংগ্রহ করা হবে। ২২৬ মেট্রিকটন ধান এ পর্যন্ত সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষক সরকারী ক্রয় কেন্দ্রে এসব ধান-চাল সরবরাহ করতে পারলে হাসি ফুটে তাদের মুখে। কিন্তু কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করছে তা পরিমানে একেবারে কম। 

জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন ঘটিয়েছেন হরিণাকুন্ডুর কৃষকেরা। ধান কেটে ঘরে তুলেছেন আরো আগে। আশানুরুপ মূল্য না পাওয়ায় অনেকে বিক্রি করতে পারছেন না। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, হরিণাকুন্ডুতে ৯ হাজার ৫শ ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। চাষকৃত জমি থেকে ৬১ হাজার ৭শ ১৮ মেট্রিক টন বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে। জানা গেছে, বোরো মৌসুমের শুরুতে কৃষকেরা দায় দেনা করে বোরো ফসল চাষাবাদ করে এবং মৌসুম শেষে ফসল বিক্রি করে তারা ধার কর্জ পরিশোধ করে থাকেন। আর অবশিষ্ট ফসল ও ধান বিক্রয়ের টাকা সারা বছরের সঞ্চয়ের জন্য রাখেন। কিন্তু এবছর ধানের দাম কম থাকায় ও ফসলের উৎপাদন ব্যায় বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচের টাকাও ঘরে তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। 

খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল হক (চলতি দায়িত্ব) বিরুদ্ধে খাদ্যবান্ধব কর্মস‚চিতে বন্ধ এবং অকার্যকর চালকলের সাথে চুক্তি করে চাল ক্রয় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চলতি দায়িত্বে থাকা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল ইসলামসহ ক্রয় কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে ২০১৯ অর্থ বছরে বোরো মৌসুমে ধান-চাউল সংগ্রহে অনিয়ম-দূর্ণীতির অভিযোগ উঠেছে। হরিণাকুন্ডু উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সুত্রে জানা গেছে, এ বছর বোরো মৌসুমে হরিণাকুন্ডু উপজেলা থেকে ৪০ জন চালকল মালিকদের মাধ্যমে ১ হাজার ২৯ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাউল সংগ্রহ করার কথা। যা গত মাসে শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) রেজাউল হক বলেন, ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব হলেও আমি অসহায়। আমার কাধে বন্দুক রেখে অন্যরা ফায়ার করছে। কৃষকের তালিকা এবং কোন চালকল মালিকদের সাথে চাল ক্রয়ে চুক্তি করা হয়েছে এমন তালিকা তার দপ্তরে নেই। মিল চাতালের অস্তিত্ব নেই এমন মিলের সাথে চুক্তি করা হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে নিম্নমানের চাল ক্রয় করে গুদামে সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যাতিত কোন তথ্য দিতে পারবেন না বলে জানান। এছাড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট রয়েছে তারাই খাদ্য বিভাগ নিয়ন্ত্রন করেন বলেও তিনি জানান।
ক্রয় কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের স্বাক্ষরিত স্লিপে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। সরকারী কর্মচারিরাও খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহের স্লিপ পেয়েছেন বলে জানা গেছে। দ্বিতীয় কিস্তির ৪৫৫ মেট্রিকটন ধান ভাগাভাগি করে সরবরাহ করার পায়তারা করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে। 

সম্প্রতি খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি কঠোর হঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, মানসম্পন্ন চাল কেনা নিশ্চিত করতে চলতি মৌসুমে সরকারি ভাবে ধান সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোনো রকম অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। কৃষকদের হয়রানি করলে সংশ্লিষ্ট খাদ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ধান চাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে কোন বিশেষ বরাদ্ধ দেয়ার সুযোগ নেই। তিনি আরো বলেন, ভালো মানের চাল আর ধান নিতে হবে। সরকার কৃষকদের ধানের ন্যায্য মুল্য দিতে সংগ্রহ মুল্য ধার্য করেছে। 

খাদ্য কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে ধান কিনতে হবে। মধ্যস¦ত্বভোগীরা যেন ফায়দা লুটতে না পারে সে দিকে নজর রাখতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে ধান কিনবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে ধান চাল সংগ্রহ অভিযান অব্যাহত থাকবে। 

এ বিষয়ে জানতে হরিণাকুন্ডু উপজেলা ধান-চাল ক্রয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সাইয়ুল ইসলাম ফোন রিসিভ না করাই তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।  

সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা নিশ্চিত করতে খাদ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হরিণাকুন্ডু উপজেলার কৃষকেরা।