Opu Hasnat

আজ ২৩ অক্টোবর বুধবার ২০১৯,

চট্টগ্রাম নগরীতে পাহাড় থেকে সরানো হলো ৩৪ পরিবার চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরীতে পাহাড় থেকে সরানো হলো ৩৪ পরিবার

নগরীর জালালাবাদ আবাসিক এলাকা সংলগ্ন মধু শাহ পাহাড়ে ‘মৃত্যুঝুঁকি’ নিয়ে বাস করা ৩৪টি পরিবারকে উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। এসময় ব্যক্তি মালিকানাধীন মধু শাহ পাহাড় দখল করে গড়ে উঠা একাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। রোববার পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান, চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফোরকান এলাহী অনুপম, বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাবরিনা আফরীন মোস্তফা এবং কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলাম এ উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার অভিযান চালিয়ে মধু শাহ পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা ৩৪টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ শেষে উদ্ধারকৃত জায়গা সংশ্লিষ্ট মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির তালিকা অনুযায়ী নগরের ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ৮৩৫টি পরিবার বসবাস করছে। গত ১৬ মে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ১৯তম সভায় এসব পরিবারকে ১৫ জুনের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দেন বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান।

রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির বাধা সত্বেও রমজানে উচ্ছেদ অভিযানের প্রথম পর্যায়ে মতিঝর্ণা পাহাড়, বাটালী হিল, পোড়া কলোনি পাহাড় এবং একে খান পাহাড় থেকে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা ৩৫০টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর দিন গত ৩ জুলাই পরিবেশ অধিদফতর সংলগ্ন পাহাড় থেকে ৫০টি পরিবার উচ্ছেদ করা হয়। ১৭ জুলাই পর্যন্ত বাকী পাহাড়গুলোতে উচ্ছেদ অভিযান চালাবে জেলা প্রশাসন।

এদিকে, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে গতকাল রোববারও তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগে দিনভর ভারি বর্ষণও হতে পারে। আবহাওয়া অফিস থেকে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এদিকে ভারি বর্ষণে ভূমিধসের শঙ্কায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরত লোকজনকে সরে যেতে মাইকিং করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ‘মৃত্যুঝুঁকি’ নিয়ে বাস করা এসব লোকজনের জন্য নগরের আকবর শাহ’র পাহাড়তলি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ফয়’স লেকের ফিরোজ শাহ ই-ব্লক স্কুল, পলিটেকনিক কলেজ এলাকায় চট্টগ্রাম মডেল হাইস্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া জালালাবাদ হাউজিং এলাকায় জালালাবাদ বাজার সংলগ্ন শেড, ট্যাংকির পাহাড় এলাকায় আল হেরা ইসলামিয়া মাদ্রাসা, মিয়ার পাহাড় এলাকায় রৌফাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝর্ণা পাহাড় এলাকায় লালখান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পোড়া কলোনি এলাকায় ছৈয়দাবাদ স্কুলকেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

নগরের ৬টি সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৬ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার সমন্বয়ে এসব আশ্রয়কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে আশ্রয় নিতে আসা লোকজনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানিও মজুদ রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মাযহারুল ইসলাম বলেন, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আজকেও ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে আজ পুরোদিন ভারি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৭৯ দশমিক ৪ মিলিলিটার বৃষ্টি হয়েছে।