Opu Hasnat

আজ ২৩ অক্টোবর বুধবার ২০১৯,

গৃহবধুকে নির্যাতনের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যা, শ্বশুর-শ্বাশুড়ি গ্রেফতার ঝিনাইদহ

গৃহবধুকে নির্যাতনের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যা, শ্বশুর-শ্বাশুড়ি গ্রেফতার

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ড উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের চর আড়ুয়াকান্দি গ্রামের গৃহবধূ সোনালী খাতুনকে বিষপান প্রয়োগ করে হত্যার অভিযোগে শ্বশুর শাশুড়িকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে তাদেরকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নিহত সোনালী চর আড়ুয়াকান্দি গ্রামের মহিউদ্দীনের ছেলে বিপুলের স্ত্রী এবং সোহাগপুর গ্রামের খাকচার আলীর মেয়ে। নিহত সোনালীর পিতা খাকচার আলী বাদী হয়ে হরিণাকুন্ডু থানায় জামাই বিপুল, শাশুড়ি সুফিয়া খাতুন ও শ্বশুর মহিউদ্দিনকে আসমি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। 

অভিযোগে উল্লেখ করা হয় তার মেয়েকে নির্যাতনের পর মুখে বিষ দিয়ে হত্যা করেছে জামাই বিপুল তার মা সুফিয়া ও শ্বশুর মহিউদ্দিন। অভিযোগে বলা হয় গত ২৭ জুন পরের ক্ষেতে কাজ করে বাড়ি এসে জামাই বিপুল দেখে তার স্ত্রী পাড়া বেড়াতে গেছে। এই অপরাধে তাকে বেধড়ক পেটায়। সোনালী খাতুন অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বামী বিপুল ও তার মা সুফিয়ার সহযোগিতায় মুখে বিষ ঢেলে দেয়। এই দৃশ্য পাশের বাড়ীর পিঞ্জিরা খাতুন নামে এক গৃহবধু ঘটনাস্থলে এসে দেখে ফেলে। 

গৃহবধু পিঞ্জিরা খাতুন বলেন, সোনালী আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলে তার স্বামী বিপুল ও বিপুলের মা সুফিয়া অনেক মারধর করে এবং তার মুখে জোরপূর্বক বিষ ঢেলে দিয়েছে। আমাকে যে অমানুষিক নির্যাতন করে আমার মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে আমি যদি মারা যায় তাহলে তুই সবাইকে সত্যটা জানিয়ে দিস। মুমূর্ষ অবস্থায় সোনালীকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোনালীর মৃত্যু ঘটে। 

এ বিষয়ে হরিণাকুন্ড থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান জানান, মামলা দায়েরের পর নিহতের শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।