Opu Hasnat

আজ ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ২০১৯,

ছাতকে মৌসুমী সবজি চাষ করে সফল কৃষকরা কৃষি সংবাদসুনামগঞ্জ

ছাতকে মৌসুমী সবজি চাষ করে সফল কৃষকরা

ছাতকে মৌসুমী সবজি চাষ করে পুষ্টির চাহিদা পূরন ও আর্থিকভাবে সফল হয়েছেন কৃষকরা। উপজেলায় এ গ্রীষ্ম মৌসুমে ২৯৭ হেক্টর মৌসুমী সবজী উৎপাদন হয়েছে। সুরমা নদীর পাড়ে জেগে ওঠা চরে পতিত ভূমিতে অন্যের জায়গা বর্গা নিয়ে মৌসুমী সবজি চাষ করেন বতুল্লাহ মিয়া। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে পাথর শ্রমিকের কাজ করে সাবলম্বী হতে না পারায় কৃষি কাজের প্রতি মনোনিবেশ করেন। উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের হরিশপুর গ্রামের মৃত কালা মিয়ার ছেলে বতুল্লাহ মিয়া ৩ বছর আগে পাথর শ্রমিকের কাজ ছেড়ে দিয়ে গ্রামের কাছে সুরমা নদীর পাড়ে জনৈক ব্যক্তির কাছ থেকে ১ একর ভূমি সবজি চাষের জন্য বর্গা নেন। পরে এ ভূমিতে মৌসমী সবজী ভূট্টা, ডাটা, মুলা, ধনিয়া, টমেটো, কলমশাক, শসা, মিষ্টিলাউ, কুয়াসলাউ, সহ নানা শাক সবজি ফলিয়ে পরিচর্চা করতে থকেন। কোন ধরনের সার ও কীটনামক ব্যবহার না করে গোবর সার ও সময়মত পানি দিয়ে বাম্পার ফলন পেয়ে খুশিতে আত্মহারা। প্রায় ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে প্রতিমাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকা আয় করে ৪ মাসে প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয় করতে পেরেছেন। 

বতুল্লাহ মিয়া জানান, তিনি স্থানীয় কৃষি অফিস হতে সহযোগীতা চেয়েও কোন ধরনের সহযোগীতা পাননি। তিনি ক্ষুভের সাথে জানান যদি আমি কৃষি অফিস হতে সঠিক পরামর্শ ও  রোগ বালাই সম্পর্কে ধারণা নিতে পারতাম এবং কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারি তাহলে দ্বিগুন ফসল উৎপাদন করতে সক্ষক হইতাম। বতুল্লাহ মিয়ার স্বপ্ন আগামী মৌসুমে সুরমা নদীর চরে কয়েক একর ভূমি বর্গা নিয়ে এবং কয়েকজন বেকার শ্রমিক কে কাজে লাগিয়ে বাম্পার ফসল উৎপাদন করে সাবলম্বী হয়ে দারিদ্র বিমোচনে স্বচেষ্ট হবেন। তার আক্ষেপ তিনি সরকারী সহযোগীতা পেলে ফসল উৎপাদনে আরো এগিয়ে যাবেন। বতুল্লাহ মিয়া বলেন কৃষকের হাত দ্বারা বাংলার মাটিতে সোনালী ফসল ফলানো সম্ভব। 

তিনি বলেন, নিত্য দিনের বিষ মুক্ত শাক সবজি নিজের পরিবারে পুষ্ঠি পুরনে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছে। বাজার থেকে সবজি ক্রয় করলে প্রতিদিন প্রায় ১শ টাকার উপরে খরচ হত। সেই টাকা বাচিয়ে কৃষি কাজে বিনিয়োগ করে আয় করতে পারছি। এতেই আমি সন্তোষ্ট এবং গ্রামের অন্যরাও বিষমুক্ত শাক সবজি আমার কাছ থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান জানান, মৌসুমী সবজী চাষে কৃষকরা আরো উৎসাহিত হতো যদি মাঠে অবাদে গোচারন না হতো। সরকার এখন হাইব্রীড বীজ আমদানীতে গুরুত্ব দিয়েছে এতে ১২ মাস সবজি ফলানো সম্ভব।