Opu Hasnat

আজ ২০ অক্টোবর রবিবার ২০১৯,

চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া ডিগ্রী ব্যবহার করায় চিকিৎসক রাজীবকে জরিমানা চুয়াডাঙ্গা

চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া ডিগ্রী ব্যবহার করায় চিকিৎসক রাজীবকে জরিমানা

ভুয়া ডিগ্রী ও অন্যের রেজিষ্ট্রেশন ব্যবহার করায় চুয়াডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে ডা. আনোয়ার হোসেন রাজিবকে জরিমানা এবং ভুয়া চিকিৎসক দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানো ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় গ্রীন লাইফ মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিককে জরিমানাসহ প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সড়কে এ অভিযান চালানো হয়। ডা. আনোযার হোসেন ময়মনসিংহ জেলা শহরের আউটার স্টেডিয়াম পাড়ার মৃত ইসাহাক চৌধুরীর ছেলে এবং বর্তমানে রাজশাহীর উপশহরের ২নং সেক্টরের বাসিন্দা।  

ভ্রাম্যমাণ আদালত সুত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াশীমুল বারী গোপণ সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন সদর হাসপাতাল সড়কের গ্রীন লাইফ মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুয়া ডিগ্রী ব্যবহার করে ডা. আনোয়ার হোসেন রাজিব দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা দিয়ে সাধারন মানুষকে ঠকিয়ে যাচ্ছেন। এসময় তিনি সেখানে অভিযান চালান এবং এর সত্যতা নিশ্চিত করেন। 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াশীমুল বারী বলেন, ডা. আনোয়ার হোসেন রাজিব ২০১৪ সালে বগুড়া মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। তিনি তার নামের পাশে এফসিপিএস ডিগ্রী ও একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজের নাম অবৈধভাবে ব্যবহার করে গত ২ মাস ধরে চুয়াডাঙ্গার সদর হাসপাতাল সড়কের গ্রীন লাইফ মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসা দিয়ে আসছে। শুধু তাইনা, ডা. আনোয়ার হোসেন ৭২৭৩০ নাম্বারের যে রেজিষ্ট্রেশন ব্যবহার করছেন সেটিও সঠিক না। ওই রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার লালমনিরহাট জেলা শহরের থানাপাড়া এলাকার হানিফ আলির মেয়ে ডা. হালিমা খাতুনের। ডা. আনোয়ার হোসেন রাজিব গত সপ্তাহ থেকে দর্শনার বহুল সমালোচিত চাঁদসিক্ষত চিকিৎসক আব্দুল হান্নানের চেম্বারে নিয়মিত রোগীও দেখতে শুরু করেছেন। তিনি বর্তমানে রাজশাহী সিডিএম হাসপাতালে ডিউটিরত চিকিৎসক হিসাবে দ্বায়ীত্ব পালন করে আসছেন এবং প্রতি শুক্রবার গ্রীন লাইফ মেডিকেল সেন্টারে রোগী দেখে আসছেন। 

এদিকে ডা. আনোয়ার হোসেন বাজিব অভিযোগ করে বলেন, আমি এফসিপিএস কোর্স শেষ করতে পারিনি কিন্তু গ্রীন লাইফ মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মুকুল হোসেন ও আনারুল ইসলাম আমার প্যাডের ওপর জোরপুর্বক লিখে রেখেছেন। আর প্যাডের ওপর যে রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার লেখা আছে সেটা ভুল করে লেখা হয়েছে। ডা. আনোয়ার হোসেন রাজিব মুচলেকা দিয়ে তার নিজের অপরাধ শিকার করেন এবং ভবিশ্যতে আর এরকম করবেনা বলে অঙ্গীকার করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মধ্যমে মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের ২০১০/১৯ ধারায় ডা. আনোয়ার হোসেন রাজিবকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এদিকে মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরিজ অধ্যাদেশ ১৯৮২/১৩ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন ২০০৯/৪৫ ধারায় গ্রীন লাইফ মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মুকুল হোসেন ও আনারুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার কারনে গ্রীন লাইফ মেডিকেল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করা হয়। চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের মালিক জরিমানার অর্থ নগদ প্রদান করেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএমএ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি ডা. মার্টিন হীরক চৌধুরী, এনএসআই’র সহকারী পরিচালক এবিএম লুৎফুল কবীর ও তপু কুমার ভৌমিক।