Opu Hasnat

আজ ১৭ জুলাই বুধবার ২০১৯,

শ্রীলংকাকে ৯ উইকেটে হারালো দক্ষিণ আফ্রিকা খেলাধুলা

শ্রীলংকাকে ৯ উইকেটে হারালো দক্ষিণ আফ্রিকা

এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে অনেক আগেই ছিটকে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। লিগ পর্ব থেকে এবারের আসর শেষ করা নিশ্চিত প্রোটিয়াদের শেষ দুই ম্যাচ কেরলই নিয়মরক্ষার। সেই নিয়মরক্ষার ম্যাচে শুক্রবার শ্রীলংকাকে ৯ উইকেটে হারালো দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ে ৮ খেলা শেষে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের অষ্টমস্থানে উঠলো প্রোটিয়ারা। ৭ খেলা শেষে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সপ্তমস্থানে থাকলো শ্রীলংকা। আজ ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের সাথে বেশ ভালোভাবেই সেমির দৌঁড়ে টিকে আছে লংকানরা।

সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন ধুলিসাৎ হওয়ায়, শ্রীলংকার বিপক্ষে নিয়মরক্ষার ম্যাচে টস জিতে প্রথমে বোলিং বেছে নেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। চেষ্টার-লি-স্ট্রিটে অনুষ্ঠিত ম্যাচে খেলতে নেমেই ইনিংসের প্রথম বলেই শ্রীলংকার অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নকে শুন্য হাতে বিদায় দেন দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাদা। ফলে শুরুতেই বড় ধরনের ধাক্কা খায় শ্রীলংকা।

তবে এই ধাক্কা দ্রুতই কাটিয়ে উঠে শ্রীলংকা। দ্বিতীয় উইকেটে ৬৭ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা ভুলিয়ে দেন শ্রীলংকার আরেক ওপেনার উইকেটরক্ষক কুশল পেরেরা ও তিন নম্বরে নামা আবিস্কা ফার্নান্দো। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের বিপক্ষে মারমুখী ব্যাট চালান পেরেরা ও ফার্নান্দো। ফলে শুন্য রানে প্রথম উইকেট হারিয়েও ৯ ওভারে ৫৭ রান পেয়ে যায় শ্রীলংকা।

তবে দশম ওভারে পেরেরা-ফার্নান্দোর পথে বাঁধা হয়ে দাড়ান দক্ষিণ আফ্রিকার ডান-হাতি পেসার ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস। ফার্নান্দোকে ৩০ রানে থামিয়ে দেন তিনি। পরের ওভারেই পেরেরাকেও বিদায় দেন প্রিটোরিয়াস। ফলে ৫ রানের ব্যবধানে উইকেটে সেট হয়ে থাকা পেরেরা ও ফার্নান্দোকে হারায় শ্রীলংকা। দু’জনই ৪টি করে চারের সহায়তায় ৩০ রান করে করেন। তবে পেরেরা ৩৪ ও ফার্নান্দো ২৯ বল মোকাবেলা করেন।

৭২ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর শ্রীলংকাকে খেলায় ফেরানোর চেষ্টা করেন কুশল মেন্ডিস ও সাবেক অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। তবে দলের জন্য একত্রে বেশি রান যোগ করতে পারেননি তারা। ১১ রানে থাকা ম্যাথুজকে বিদায় দেন দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক পেসার ক্রিস মরিস। ১টি চারে ২৯ বলে ১১ রান করেন ম্যাথুজ।

ম্যাথুজের সাথে ২৮ রান যোগ করা মেন্ডিস খেলছিলেন ধীরলয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের সামলাতে বেশ হিমশিম খাচ্ছিলেন তিনি। তবে বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন মেন্ডিস। আবারো দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে উইকেট শিকারে মেতে উঠেন প্রিটোরিয়াস। ২টি চারে ৫১ বলে ২৩ রান করা মেন্ডিসকে দলীয় ১১১ রানে আউট করেন প্রিটোরিয়াস।

কিছুক্ষণবাদে শ্রীলংকার মিডল-অর্ডারের আরেক ভরসা ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে বোল্ড করে শ্রীলংকার ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটনার দক্ষিণ আফ্রিকার অফ-স্পিনার জেপি ডুমিনি। ডি সিলভাও রান তুলেছেন ধীর গতিতে। ২টি চারে ৪১ বলে ২৪ রান করেন তিনি। এ অবস্থায় দেড়শ’র নীচে গুটিয়ে যাবার শংকায় পড়ে যায় শ্রীলংকা।

তবে শ্রীলংকাকে অল্প রানে গুটিয়ে যাবার লজ্জা থেকে রক্ষা করেন জীবন মেন্ডিস ও থিসারা পেরেরা। সপ্তম উইকেটে ২৮ রান যোগ করেন তারা। জীবন ১৮ রানে ফিরলেও, বোলার ইসুরু উদানাকে নিয়ে ২১ রানের জুটি গড়েন পেরেরা। ফলে সম্মানজনক স্কোরের পথ পায় শ্রীলংকা। তবে দলীয় ১৮৪ রানে থিসারা নামের পাশে ২১ রান রেখে ফিরলে লংকানদের ২শ স্কোর করার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়।

কিন্তু শ্রীলংকার টেল-এন্ডাররা ঠিকই শ্রীলংকার স্কোর ২শ অতিক্রম করান। উদানার ১৭, সুরাঙ্গা লাকমলের অপরাজিত ৫ ও লাসিথ মালিঙ্গার ৪ রানে ২শ পেরিয়ে অলআউট হয় শ্রীলংকা। ৩ বল বাকী থাকতে অলআউট হবার আগে ২০৩ রানের সংগ্রহ পায় শ্রীলংকা। দক্ষিণ আফ্রিকার মরিস-প্রিটোরিয়াস ৩টি করে উইকেট নেন।

২০৪ রানের সহজ টার্গেটে ভালো শুরু করতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকাও। পঞ্চম ওভারের পঞ্চম বলে শ্রীলংকার অভিজ্ঞ পেসার লাসিথ মালিঙ্গার দুর্দান্ত ইয়র্কারে বোল্ড হন প্রোটিয়ারা ওপেনার কুইন্টন ডি কক। ৩টি চারে ১৬ বলে ১৫ রান করেন তিনি।

ডি কককেও হারালেও, দ্বিতীয় উইকেটে জুটি বেধে শ্রীলংকার বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন আরেক ওপেনার হাশিম আমলা ও অধিনায়ক ফাফ ডু-প্লেসিস। বড় জুটি গড়ার চেষ্টা করেন এই দুই ব্যাটসম্যান। তাতে কেবল সফলই হননি তারা। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলেই দলীয় স্কোর শতরানে নিয়ে যান আমলা-ডু-প্লেসিস। আর ২৮ দশমিক ১ ওভারে দলের স্কোর দেড়শ স্পর্শ করান তারা। এসময় দু’জনই হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন। আমলা ৩৯তম ও ডু-প্লেসিস ৩৫তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন। ফলে আমলা-ডু প্লেসিসের ব্যাটিং দৃঢ়তায় সহজ জয়ের পথেই হাটতে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা।

শেষ পর্যন্ত তাই-ই হয়েছে। ৭৬ বল বাকী রেখেই জয়ের স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৫টি চারে ১০৫ বলে আমলা অপরাজিত ৮০ ও ১০টি চার ও ১টি ছক্কায় ১০৩ বলে ডু-প্লেসিস অপরাজিত ৯৬ রান করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পতন হওয়া একমাত্র উইকেটটি নেন শ্রীলংকার মালিঙ্গা।