Opu Hasnat

আজ ১৩ নভেম্বর বুধবার ২০১৯,

সুনামগঞ্জে জীবন দাসের খুনীদের কঠোর শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে জীবন দাসের খুনীদের কঠোর শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন  ও বিক্ষোভ

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার কুলজ্ঞ ইউনিয়নের বোয়ালিয়া বাজারের তরুণ ব্যবসায়ী জীবন দাসের খুনীদের দ্রুত গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি প্রদানের দাবীতে মানববন্ধন  ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ২৮ গ্রামবাসীর আয়োজনে বোয়ালিয়া বাজারে দীর্ঘ দুই কিলোঃ জুড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে কিকিয়ানা মডেল ডিগ্রি কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, বিএসটি সমাজ কল্যাণ পরিষদ, দূর্বার যুব পরিষদ, গলিশাল আর্দশ যুব সংঘ, বাউশী যুবসংঘ, আনোয়ারা বেগম কিন্ডার গার্ডেন,ফকির মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন গ্রামের হাজারো লোকজন অংশ নেন। 

বোয়ালিয়া বাজার কমিটির সভাপতি কুলজ্ঞ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ মিলন মিয়ার সভাপতিত্বে ও শফিকুল আলম চৌধুরী ও মন্নান মিয়ার যৌথ সঞ্চালনায় মানববন্ধনে এ সময় বক্তব্য রাখেন, কুলজ্ঞ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান তালুকদার, ১নং বড় ভাকৈর ইউপি চেয়ারম্যান সত্যজিৎ দাস, বিবিয়ানা মডেল ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা  পবিত্র মোহন দাস, অধ্যক্ষ  নৃপেন্দ্র চন্দ্র দাস, ফরিক মোহাম্মদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রদান শিক্ষক দিলীপ কুমার চৌধুরী, হাতিয়া সুরিয়ারপাড় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকেতু রঞ্জন দাস, বাউশি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুকৃতি রানী দাস, ইউপি সদস্য বিল্লুল কুমার দাস, ফিজলে রাব্বী, নিহতের পিতা জয়কৃষ্ণ দাস, মাতা, মালতী রানী দাস, বড়ভাই লিটন দাস, বোন স্কুল শিক্ষিকা সম্পা রানী দাস প্রমুখ।  

নেতৃবৃন্দরা মানববন্ধনে বলেন বোয়ালিয়া বাজারের তরুণ ব্যবসায়ী জীবন দাসকে তার সহকারী কুলজ্ঞ গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে শীর্ষ সন্ত্রাসী রাজন মিয়া গংরা গত ২৪ মে সন্ধ্যায় তাকে বোয়ালিয়া বাজার নিজ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে জীবন দাসের কোন খোজঁ খরব মিলেনি। ঘটনার প্রায় ৯ দিন পর গত ২ জুন পাশর্^বর্তী বিবিয়ানা নদীতে কচুরিপানায় অর্ধগলিত লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন দিরাই থানা ও পাশ^বর্তী নবীগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে এবং এটা জ্য্যীবন দাসের লাশ বলে সনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড়ভাই লিটন দাস বাদি হয়ে গত ৪ জুন কুলজ্ঞ গ্রামের কুখ্যাত সন্ত্রাসী খুনী রাজন মিয়া গংদের আসামী করে দিরাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায়  সন্দেহভাজন অবস্থায় পাশর্^বর্তী আমড়াখাই গ্রামের তোফায়েল মিয়া ও বোয়ালিয়া বাজারের ব্যবসায়ী ঘাতক রাজনের খালু ওয়াহিদ মিয়াকে পুলিশ আটক করলেও অদৃশ্য কারণে পুলিশ তাদেরকে ছেড়ে দেয়। ঘটনার একমাস পেরিয়ে গেলেও পুলিশ আজো আসামীদের গ্রেফতার না করায় এলাকাবাসী হতাশ। সন্ত্রাসী রাজন মিয়া আরো দুটি মামলার ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী থাকার পরও সে প্রকাশ্যে দিবালোকে আইন শংখলা বাহিনীর সামনে দিয়ে গেলেও একজন সন্ত্রাসী এবং খুনীকে গ্রেফতার না করায় পুলিশের ভাবমূর্র্তি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার করে কঠোর শাস্তি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশ সুপারের নিকট জোর দাবী জানান। অন্যতায় আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচী দেয়ার ও হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয় মানববন্ধনে আসা নেতৃবৃন্দরা। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর