Opu Hasnat

আজ ২১ জুলাই রবিবার ২০১৯,

চট্টগ্রাম বন্দরের নিট আয় বেড়েছে ৮৩৫ কোটি টাকা চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরের নিট আয় বেড়েছে ৮৩৫ কোটি টাকা

দেশের রাজস্ব আয়ের চট্টগ্রাম বন্দরে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে কর-পরবর্তী আয় বেড়েছে। উল্লিখিত মেয়াদে বন্দরের নিট আয় দাঁড়িয়েছে ৮৩৫ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৬৩৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরের নিট আয় বেড়েছে প্রায় ৩২ শতাংশ। চট্টগ্রাম বন্দরের সদ্যসমাপ্ত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বন্দরের নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বন্দরে মোট রাজস্ব আহরণ (অপারেশনাল ও নন-অপারেশনাল খাত মিলিয়ে) হয়েছে ২ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা। এখান থেকে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। আর আয়কর বাবদ সরকারকে পরিশোধ করা হয়েছে ৪৩৬ কোটি টাকা। মোট রাজস্ব থেকে এ দুটি হিসাব বাদ দিয়ে বন্দরের নিট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩৫ কোটি টাকা। 

২০১৬-১৭ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মোট রাজস্ব এসেছিল ২ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা। সেখান থেকে ব্যয় হয় ১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। সরকারকে কর হিসেবে পরিশোধ করা হয় ৪২২ কোটি টাকা। এ হিসাবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বন্দরের নিট আয় হয় ৬৩৩ কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, রাজস্ব আহরণ ও ব্যয়ের এ হিসাবে ব্যাংকের সুদ থেকে পাওয়া টাকা ও মূলধনি ব্যয় (চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন প্রকল্প, নতুন কেনাকাটা বাবদ খরচ) যুক্ত করা হয়নি। তবে মূলধনি ব্যয় হিসাব করা না হলেও অবচয় বাবদ নির্দিষ্ট অংকের টাকা রাজস্ব ব্যয়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বন্দর কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, কোনো যন্ত্র, অবকাঠামো বা সম্পদ যদি ১০০ টাকায় কেনা হয় এবং আয়ুষ্কাল ১০ বছর হয়, তাহলে প্রতি বছর ১০ টাকা করে অবচয় হিসাব করা হয়। এ টাকা প্রতি বছর রাজস্ব ব্যয় হিসেবে দেখিয়ে আলাদা তহবিলে রাখা হয়। সম্পত্তির আয়ুষ্কাল শেষ হলে অবচয় খাতের ওই টাকায় নির্দিষ্ট যন্ত্র, অবকাঠামো বা সম্পদ প্রতিস্থাপন করার কাজে ব্যবহার করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ব্যবহার করে পণ্য পরিবহন বাড়ছে । নিট আয়ও বাড়ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের মোট রাজস্বের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে পণ্য ওঠানামা থেকে। বাকি আয়ের মধ্যে রয়েছে জাহাজ, স্টোরেজ, মুরিং ভাড়া, জেটি ভাড়া, জমি ও নদী ভাড়াসহ বিবিধ খাতের আয়।

অন্যদিকে রাজস্ব আয়ের বড় অংশই ব্যয় হয় পরিচালন, রক্ষণাবেক্ষণ ও বেতন-ভাতা খাতে। এর মধ্যে রয়েছে যন্ত্রপাতি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, জ্বালানি খরচ, বেতন-ভাতা, ঠিকাদারদের বিল, যন্ত্রপাতির অবচয় খাত ইত্যাদি। এছাড়া আয়কর ও সরকারি কোষাগারে জমার পরিমাণও রাজস্ব ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে পড়ে।

গত অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে মোট পণ্য ওঠানামা হয়েছে ৯ কোটি ৩০ লাখ টন। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল আট কোটি টন। অর্থাৎ পণ্য ওঠানামা বেড়েছে প্রায় ১৬ শতাংশ।

নিরীক্ষিত হিসাব থেকে বন্দরের আয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পণ্যের ওঠানামার প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে লোডিং-ডিসচার্জিং বাবদ ৭৫১ কোটি টাকা, স্টোরেজ চার্জ বাবদ ৬৯০ কোটি ও রিভার ডিউজ বাবদ ২৭৩ কোটি টাকা।