Opu Hasnat

আজ ২০ আগস্ট মঙ্গলবার ২০১৯,

ঝালকাঠি থেকে বিদায়টাও শিখিয়ে গেলেন ডিসি হামিদুল হক ঝালকাঠি

ঝালকাঠি থেকে বিদায়টাও শিখিয়ে গেলেন ডিসি হামিদুল হক

সরকারি চাকরিজীবীরা আসবেন, আবার বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাবেন। এটাতো একটা চিরাচরিত ব্যাপার। সরকারি চাকরির রীতিনীতি যেন এমনই। কিন্তু এমন একজন আসলেন আর নিজের চাকরির সীমানা পেরিয়ে গেলেন তার কর্মের মধ্য দিয়ে। তিনি যেভাবে স্বল্প সময়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে আসন নিলেন, তা নিজ চোখে না দেখলে লিখে বোঝানো সম্ভব নয়। সরকারি দপ্তরগুলোর কিছুটা আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান, এনজিও, স্কুল-কলেজসহ আরও কত শত মানুষের পক্ষ থেকে আসা ফুল বলে দিচ্ছে কতটা জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। বিদায় মূহুর্তে ফুলে ফুলে ও সম্মাননা স্মারকে ভরে গেছে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও তার বাংলো। বলছি রাজশাহী জেলার বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হকের কথা কথা। তিনি ২৩ জুন পর্যন্ত ২৫ মাস ১১ দিন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দায়িত্ব পালন করেছেন। 

রোববার (২৩ জুন) সকালে নবাগত জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলীর হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়ে বেলা ১১টার দিকে রওনা দেন তিনি। রওনা দিয়ে তিনি ফেসবুকে “বিদায় ঝালকাঠিবাসী, সকলে ভালো থাকবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন।” এমন একটি স্ট্যাটাসও দেন। ২৪ জুন সোমবার তিনি রাজশাহীর জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করে ফেসবুক স্ট্যাটাসে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। বিদায়টা কেমন হয় সরকারি অন্যসব চাকরিজীবীদের যেন সেই বিষয়টিও নমুনা হিসেবে রেখে গেলেন হামিদুল হক  গত এক সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে অর্ধশতাধিক বিদায় অনুষ্ঠান হয়েছে। এতো বিদায় অনুষ্ঠান, এতো ফুল আগে কখনো দেখেনি কোনো জেলা প্রশাসক। আর তাকে নিয়ে আয়োজিত এমন কোনো বিদায় অনুষ্ঠান নেই যেখানে মানুষ কাঁদেনি। শুধুইকি ঝালকাঠি জেলার মানুষ কেঁদেছেন, পাশাপাশি কেঁদেছেন জেলা প্রশাসক হামিদুল হকও। বিদায় বেলায় দীর্ঘ দিনের সহকর্মীরাও কেঁদেছেন তাকে জড়িয়ে ধরে। আর এই ভালোবাসা ঝালকাঠিবাসী এমনিতেই দেখাননি। 

২০১৭ সালের শুরুতে যোগদান করেই ঝালকাঠিবাসীকে সেবা দেওয়া শুরু করেন জেলা প্রশাসক হামিদুল হক। মাত্র এক বছরের মাথায় ছাত্র-ছাত্রীদের আধুনিক ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার কাজ শুরু করে সফল হন। ই-সেবা কেন্দ্র, ইউডিসি হেল্প ডেস্ক, ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা, শতভাগ ই-ফাইলিং এর মাধ্যমে ডিজিটাল ব্যবস্থায় কাজের গতি সঞ্চারণে ঈর্ষনীয় অবদান রাখেন। বিদায়ের আগ মূহুর্তে তিনি কালেক্টরেট স্কুল ও বিনোদন বঞ্চিত ঝালকাঠিবাসির জন্য তিনি ডিসি পার্ক স্থাপন করেছেন। এভাবে ঝালকাঠি জেলার উন্নয়নের স্বার্থে সততা, স্বচ্ছতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করেছেন। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে নিয়ে জেলার এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে সুশাসনের ব্যবস্থা করেননি তিনি। সকল শ্রেণি পেশার মানুষের অবাধ বিচরণ ছিল তার কাছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সর্বদা সজাগ ছিলেন ডিজিটাল বাংলাদেশের এই সারথি। ২৪ ঘণ্টা ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার থেকে তথ্য নিয়েছেন এবং সে অনুযায়ী দ্রæত ব্যবস্থা নিয়ে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন হামিদুল হক। তার কর্মের কারণেই স্মরণকালের স্মরণীয় বিদায়টি পেয়েছেন তিনি। 

ঝালকাঠির নবাগত জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালেও বক্তারা বিদায়ী জেলা প্রশাসক হামিদুল হক’র ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রশংসা শুনে মুগ্ধ হন নবাগত জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলীও। তিনিও কর্মে যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন মতবিনিময় সভায়।