Opu Hasnat

আজ ১৫ নভেম্বর শুক্রবার ২০১৯,

ঝালকাঠিতে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে পুত্র হত্যার বিচার চাইলেন অভাগা পিতা ঝালকাঠি

ঝালকাঠিতে কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে মানববন্ধনে পুত্র হত্যার বিচার চাইলেন অভাগা পিতা

আমার পুত্র জাহিদ হোসেন শ্রমজীবীর কাজ করতো। গাবখান টোলে ইজারাদারের নিয়ন্ত্রণে ইজারা আদায়ের শ্রমিক হিসেবে চাকরী করতো। সেখানে যে বেতন পেতো তা দিয়ে আমাদের সংসার চলতো। কাউন্সিলর হুমায়ুন কবীরের ক্যাডারের গাড়ি ইজারা না দিয়ে যাবার সময় তাদের সাথে তর্কাতর্কি হয়। পরে দলবল নিয়ে জাহিদের উপর হামলা করে রক্তাক্ত আহত করা হয়। বরিশাল শেরেই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহিদ মারা যায়। আমরা অসহায় পরিবারটি এখন অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছি। 

আমি পুত্র হত্যার বিচার চাই বলে কান্না জড়িত কণ্ঠে বক্তৃতা করেন জাহিদের পিতা বৃদ্ধ ফারুক হোসেন। একই এলাকার বৃদ্ধ জিয়াদ ব্যাপারী বক্তৃতাকালে বলেন, আমার পুত্র জেলা হ্যান্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আবুল কালাম হাওলাদার। গতবছর নির্বাচনে বিজয়ী হবার দিন সন্ধ্যায় কাউন্সিলর হুমায়ুন কবীরের ক্যাডাররা কালামসহ আমার ৩পুত্রকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এতেও খ্যান্ত না হয়ে কির্ত্তীপাশার একটি হত্যা মামলায় ষড়যন্ত্রকরে আমার পুত্র কালামকে আসামী করে। কয়েকমাস জেল খাটার পরে বের হলে ১৩ জুন রাতে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। সে বর্তমানে বরিশাল শেরে বাংলা হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমি আমার পুত্রের রক্তের প্রতিশোধ চাই। 

ঝালকাঠি পৌর কাউন্সিলর ও পৌর প্যানেল মেয়র-২ হুমাযুন কবির খানের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজী, নারী নির্যাতন, দখল ও লুটসহ নানা অপরাধের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনের সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েকশ মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আল মাসুদ মধু, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজবা আহমেদ আলভী, যুবলীগ নেতা পিকলু তালুকদার, শহীদুল ইসলাম, মাসুম হাওলাদার, ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিম ঝালকাঠির বাসিন্দা ফারুক হোসেন, জিহাদ বেপারী, শাহিন খলিফা, খুশি বেগম । 

বক্তারা বলেন, কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির খান এলাকায় একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজী, নারী নির্যাতন, লুটসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী তৎপরতার সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকলেও প্রশাসন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে সে দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে শহরের পশ্চিম ঝালকাঠি এলাকার মানুষ অতংকে দিন কাটাচ্ছে। ওই কাউন্সিলর সন্ত্রাসী বাহিনী ভাড়া করে যুবলীগ নেতা কামাল শরীফ ও তাঁর পরিবারকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। এ সংক্রান্ত একটি  ফোনালাপ ফেসবুকসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। 

অভিযোগ অস্বীকার করে পৌর কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির জানান, কামাল শরীফ ও তাঁর লোকজন মিথ্যা মামলা দিয়ে উল্টো তাকে হয়রানি করছেন।