Opu Hasnat

আজ ১৩ নভেম্বর বুধবার ২০১৯,

চসিক মেয়রের সাথে ভারতীয় হাই কমিশনারের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ এগিয়ে যাক ভারত সরকারও তা চায় : রিভা গাঙ্গুলী চট্টগ্রাম

বাংলাদেশ এগিয়ে যাক ভারত সরকারও তা চায় : রিভা গাঙ্গুলী

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র  আ.জ.ম.নাছির উদ্দীনের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ। ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব লাভের পর  চট্টগ্রামে এসে সোমবার সকালে চসিক মেয়র দপ্তরে প্রথমেই সিটি মেয়রের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন ভারতীয় এ কূটনীতিক। 

ভারতীয় হাই কমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ বলেন,  সম্ভাবনাময় এই চট্টগ্রাম। উন্নয়নের ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম অনেকদুর এগিয়ে গেছে। ইতোপুর্বে আমি এই শহরে অনেকভার এসেছি। কিন্তু এই রকম সৌন্দর্ষ মন্ডিত শহর ইতোপূর্বে আমি দেখি নি। চট্টগ্রামের এ উন্নয়নে আমি বিস্মৃত ও অভিভুত।  বাংলাদেশ উন্নয়ন এগিয়ে যাক ভারত সরকারও তা চায়। এতে ভারতের সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়নে পাশে থাকতে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ।। বাংলাদেশকে ভারত সবসময় বন্ধু প্রতিম রাষ্ট্র হিসাবেই দেখে বলে দু’দেশের জনগণের মধ্যেও বন্ধুত্বপুর্ণ আচরণ লক্ষ্য করা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বহুমুখি ব্যবহারের মাধ্যমে সেভেন সিস্টারসহ দু’দেশের জনগণের আর্থিক উন্নতি সম্ভব। চট্টগ্রাম বন্দর শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। চট্টগ্রাম বন্দরের বহুমুখি ও সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এ অঞ্চলে শ্রমবাজার, কর্মসংস্থান, পুঁজি বিনিয়োগ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দু’দেশের জনগণের আর্থিক উন্নতি ঘটবে।  

সিটি মেয়র আ.জ.ম.নাছির উদ্দীন নবনিযুক্ত হাইকমিশনকে  বলেন, ভারত আমাদের অকৃত্রিম বন্ধু । বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা এক অনবদ্য ইতিহাস। সমগ্র ভারতবাসী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তথা ভারত সরকার এবং বিএসএফ ও ভারতীয় সৈন্যদের কিংবদন্তি সাহায্য-সহযোগিতা ও আত্মত্যাগের সফল পরিণতি বাংলাদেশ। এমনকি  সে সময়ে ভারত বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি শরনার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছিল।  বাংলাদেশের জন্য ভারতবাসীর এতটা ত্যাগ ও ভালোবাসা বিশ্বের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

নবনিযুক্ত হাইকমিশনার চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা সম্পর্কে জানতে সিটি মেয়র বলেন, বিগত ১০ বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে সক্ষমতা অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বন্দরের সক্ষমতার জন্য প্রধান মন্ত্রী নিজেই উদ্যোগী হয়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছেন ।  বন্দরের সক্ষমতা আরো বৃদ্ধির জন্য বে-টামিন্যাল, কন্টেইনার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে বর্তমানে বন্দরে যে সক্ষমতা আছে, তা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে হাইকমিশনারকে অবহিত করেন। 

এই প্রসঙ্গে মেয়র বলেন প্রতিনিয়ত ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার পরিবহন চট্টগ্রাম বন্দরের গমন-বহিগমন করে থাকে। চট্টগ্রাম পোর্ট কানেকটিং রোডই এর একমাত্র মাধ্যম। এই সড়কটি বন্দরের প্রবেশের একমাত্র মাধ্যম হলে ও অতীতে পরিকল্পিত ভাবে সড়কটি  নির্মাণ করা হয়নি। বর্তমানে জাইকার অর্থায়নে পরিকল্পিতভাবে এই সড়কটি  নির্মাণ করা হচ্ছে বলে তিনি উপস্থিত হাইকমিশনারকে জানান। 

প্রসঙ্গক্রমে মেয়র বর্তমান সরকারের গৃহীত প্রকল্প মাতারবাড়ী ডিপ সি-পোর্ট , মিরাসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মানাধীন ট্যানেলসহ চট্টগ্রাম অঞ্চলে চলমান উন্নয়ন সর্ম্পকিত বিষয়াদিও আলোচনায় তুলে ধরেন। 

ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ চট্টগ্রাম নগরীর জন্য ভারত সরকারের প্রদত্ত এলইডি প্রকল্প সম্পর্কে মেয়রের কাছ থেকে জানতে জাইলে মেয়র বলেন অতি শিঘ্রই এই প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হবে। 

এই প্রসঙ্গে মিস রিভা গাঙ্গুলী বলেন, দু’দেশের বন্ধুত্বে  নির্দশন হিসেবে নমনীয় ঋণ চুক্তির আওতায়  চট্টগ্রামে এলইডি প্রকল্প উপহার দিয়েছেন ভারত সরকার।  এটা ভারত সরকারে গ্রাউন্ড ওয়ার্ক। শুধুমাত্র ঘর-গৃহস্থালির কাজেই নয়, এলইডি বাল্বের সাহায্যে আলোকিত হবে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের পথ-ঘাটও। এর ফলে দিনের যে সময়টিতে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে সবচেয়ে বেশী, সেই সময় বিদ্যুতে চাহিদা কমিয়ে আনতে এই এলইডি বাতি কার্যকর ভুমিকা রাখে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এতে বিদ্যুতের সাশ্রয় হবে। জ্বালানী  সাশ্রয়ী এলইডি বাল্বের সাহায্যে অতিরিক্ত উৎপাদন খরচ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব এবং পরিবেশ রক্ষাও সহায়ক বলে তিনি সিটি মেয়রকে জানান। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন ভরতীয় সহকারী হাইকমিশনার  অনিন্দ্য ব্যানার্জি,  কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, চসিক প্রধান নিবার্হী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম ও প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ একেএম রেজাউল করিম।