Opu Hasnat

আজ ৮ ডিসেম্বর রবিবার ২০১৯,

ঝালকাঠির বানি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা ঝালকাঠি

ঝালকাঠির বানি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

মুক্তা বেগমের সিজারিয়ান অপারেশন পূর্ব মুহুর্তে রক্তের প্রয়োজন। এজন্য তার রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করার জন্য সদর হাসপাতাল সংলগ্ন বানি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাকে নিয়ে যায় ভাই মোঃ ইয়াসিন হাওলাদার। সেখানে রক্ত পরীক্ষা করানোর “বি নেগেটিভ” ফলাফল আসে। সে অনুযায়ী রক্তদাতা সন্ধান করে ক্রোসম্যাচিং করানোর সময় রোগীর রক্তের গ্রুপ আসে “ও নেগেটিভ”। পরে আরেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রক্ত পরীক্ষা করালে সেখানে রোগীর রক্ত গ্রুপ “ও নেগেটিভ” আসে। পরে আবার বানিতে রক্ত পরীক্ষা করালে সেখানে রোগীর রক্ত গ্রুপ “ও নেগেটিভ” আসে। গত ২৩ এপ্রিলে একই দিনে একই রোগীর দু’ধরনের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে বানি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বোন মুক্তা বেগমের সিজার অপারেশন শেষে সুস্থ্য করে গত ১৩ জুন বৃহস্পতিবার ঝালকাঠি ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাফিয়া সুলতানা’র কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভাই মোঃ ইয়াসিন হাওলাদার। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বানি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে নোটিশ দিয়ে শুনানীর দিন ধার্য্য করে ১৬ জুন রোববার। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় ঝালকাঠি ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর সহকারী পরিচালকের কার্যালয়ে অভিযোগের শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। শুনানীতে বানি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকপক্ষ তাদের দায় স্বীকার করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঝালকাঠি ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাফিয়া সুলতানা বানি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪০হাজার টাকা জরিমানা করেন। নিয়মানুযায়ী অভিযুক্তের কাছ থেকে আদায়কৃত জরিমানার ২৫% অভিযোগকারীর প্রাপ্য। সে অনুযায়ী রোববার বিকেলে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মোঃ হামিদুল হক অভিযোগকারী মোঃ ইয়াসিন হাওলাদারের হাতে জরিমানার প্রাপ্য অংশ ১০ হাজার টাকা তুলে দেন। এসময় ঝালকাঠি ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাফিয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন। 

ঝালকাঠি ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাফিয়া সুলতানা জানান, ভুল রিপোর্ট প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে ভোক্তা অধিকার আইনের ৫৩ ধারায় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নিয়মানুযায়ী অভিযুক্তের কাছ থেকে আদায়কৃত জরিমানার ২৫% অভিযোগকারীর প্রাপ্য। সে অনুযায়ী জরিমানার প্রাপ্য অংশ ১০ হাজার টাকা অভিযোগকারীকে দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক মোঃ হামিদুল হক’র প্রেরণা ও নির্দেশনায় এধরনের অভিযান করা সম্ভব হচ্ছে বলেও জানান ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাফিয়া সুলতানা। 

জেলা প্রশাসক মোঃ হামিদুল হক জানান, বানি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রতি আমাদের নজরদারী থাকবে। সিভিল সার্জনকে বিষয়টি তদারকির জন্যও বলা হবে বলে জানান তিনি।