Opu Hasnat

আজ ২৩ অক্টোবর বুধবার ২০১৯,

সৈয়দপুরে বোরো ধান বিক্রির সুবিধা বঞ্চিত হয়েছেন ২৯ হাজার ৫০৯ জন কৃষক কৃষি সংবাদনীলফামারী

সৈয়দপুরে বোরো ধান বিক্রির সুবিধা বঞ্চিত হয়েছেন ২৯ হাজার ৫০৯ জন কৃষক

সৈয়দা রুখসানা জামান শানু, নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে : নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় বোরো ধান নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন কৃষক। কৃষি সূত্র হতে জানা যায়, এখানে কৃষক রয়েছেন ২৯ হাজার ৮শ’ জন। আর সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান দিতে পারছেন মাত্র ৪৯১’জন কৃষক। এরপরও ক্রয়ের ক্ষেত্রে পরিমাণে স্বল্পতা রয়েছে। একজন কৃষক মাত্র ৪৮০ কেজি করে ধান দিতে পারবেন সরকারি ক্রয়কেন্দ্রে। এতে করে উপজেলার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত বোরো ধান নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধান যে দামে বিক্রি হচ্ছে, তাতে তাদের উৎপাদন খরচ উঠছে না। তারপরও সংসারের ব্যয়ভার মেটানোর তাগিদ থেকে পানির দামে লোকসানে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
 
উপজেলা কৃষি দপ্তর সূত্র হতে জানা যায়, সৈয়দপুর উপজেলায় কৃষক রয়েছেন ২৯ হাজার ৮ শ’ জন। এবারে প্রায় ৩০ হাজার কৃষক প্রায় আট হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। তাতে প্রায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছে। কৃষি  সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বক্ষণিক পরামর্শ প্রদান আর কৃষক সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবারে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে গোটা উপজেলা জুড়ে। অথচ স্থানীয়ভাবে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান কেনা হচ্ছে মাত্র ২৩৬ মেট্রিক টন। আর সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে উল্লিখিত পরিমাণ ধান বিক্রয়ের সুযোগ পাচ্ছে মাত্র ৪৯১ জন কৃষক।  ফলে  সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান বিক্রির সুবিধাবঞ্চিত হয়েছেন ২৯ হাজার ৫০৯ জন কৃষক। সরকারিভাবে প্রতি কেজি চাল ২৬ টাকা দরে কেনা হলেও ক্রয়ের বরাদ্দ স্বল্পতার কারণে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না কৃষকরা। কারণ গোটা উপজেলা থেকে মাত্র ২৩৬  মেট্টিক টন ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। অথচ এ সব সুবিধাবঞ্চিত কৃষকের আয়ের প্রধান উৎস হচ্ছে বোরো ধান। ধানকে ঘিরেই তাদের সারা বছরের বাজেট নির্ধারণ হয়। চাষাবাদ, ছেলে মেয়েদের পড়ালেখায় খরচ, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, আত্মীয় স্বজন ও সামাজিকতার ব্যয় নির্বাহ করা হয় ধান উৎপাদনকে ঘিরে। প্রধান ফসলের মূল্য না মেলায় সবকিছু উলট-পালট অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে কৃষক পরিবারগুলোতে। 

উপজেলা খ্যাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারে বোরো মৌসুমে উপজেলা সরকারিভাবে ২৩৬ মেট্টিক টন ধান ও দুই হাজার ৩৭৬ মেট্টিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। সারা দেশে গত ২৫ এপ্রিল থেকে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। অথচ সৈয়দপুরে এ সংগ্রহ অভিযান শুরু হয় গত ২১ মে। ওই দিন সরকারি খাদ্যগুদামে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের শুভ উদ্বোধন করা হয়। এবারে সরকারি ভাবে প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা এবং প্রতি কেজি চাল ৩৬ টাকা কেজি দরে কেনা হচ্ছে। গত ১৩ জুন পর্যন্ত সৈয়দপুর সরকারি খাদ্য গুদামে সাড়ে ২৮ মেট্টিক টন ধান ও ৫৭২ মেট্টিক টন চাল ক্রয় করা হয়েছে। এবারে সরকারি খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহের জন্য ২৬ জন মিল মালিক চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত ধান চাল ক্রয় অভিযান চলবে। 

সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কৃষক আইনউদ্দিন জানান, অন্যের কাছে টাকা পয়সা ধারকর্জ করে ধান কাটা-মাড়াইয়ের শ্রমিকদের মজুরী পরিশোধ করেন। এখন  বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় মারাত্মক সমস্যায় পড়েছেন তিনি। 

তিনি আরো জানান, সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির জন্য তিনি কয়েক দফা কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ইউএনও অফিসে ধর্ণা দিয়েছেন। কিন্তু তারা শুধুমাত্র একে অপরের কাছে যেতে বলেন। ফলে বাজারে ৮৪ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা ধান  ৮৫০ টাকা দরে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। 

সৈয়দপুর উপজেলার বাঙালিপুর ইউনিয়নের কৃষক নিজাম উদ্দিন বলেন, এবারে ১১দোন জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করেছেন। ধান পেয়েছেন প্রায় ২৪০ বস্তার মতো। এর মধ্যে সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে মাত্র ১২ বস্তা ধান বিক্রি করতে পেরেছেন। বাজারে ধানের দাম কম। বাকি ধান তিনি কী করবেন ভেবেচিন্তে কুল কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না।

সৈয়দপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব সোহেল আহমেদ জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে নেওয়া ও কৃষি বিভাগের কৃষক তালিকা থেকে সমন্বয় করে ৪৯১ জন কৃষকের বোরো ধান ক্রয়ের তালিকা করা হয়েছে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৪৮০ কেজি ধান ক্রয় কেন্দ্রে সরবরাহ করতে পারবেন। তবে তিনি জানান, সরকারিভাবে ধান চাল ক্রয় লক্ষ্য মাত্রা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে বরাদ্দ আসলে আমরা আরো বেশি সংখ্যক কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় করতে সক্ষম হবো। তখন মূলতঃ লটারির মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ক্রয় কমিটির সভাপতি এস. এম. গোলাম কিবরিয়া জানান, ক্রয় নীতিমালা মেনেই উপজেলায় ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান চলছে।