Opu Hasnat

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার ২০১৯,

পাইকগাছার পারিশামারী উন্নয়ন বঞ্চিত রাস্তার বেহাল দশা খুলনা

পাইকগাছার পারিশামারী উন্নয়ন বঞ্চিত রাস্তার বেহাল দশা

পাইকগাছার সোলাদানা ইউপির পারিশামারী এলাকায় সকল সময় উন্নয়ন বঞ্চিত রয়েছে। যাদের ভোট ব্যাংকের উপর ভিত্তি করে একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে নামলেও নির্বাচন পরবর্তীতে তাদের এলাকা উন্নয়নে বেমালুম ভুলে যান নির্বাচিত ব্যক্তিরা। তবে বর্তমান সাংসদ কি করেন, এটাই দেখার অপেক্ষায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অবহেলিত পাইকগাছার পারিশামারী গ্রামের জনগণ। এ ক্ষেত্রে পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউপির পাইকগাছা-বেতবুনিয়া সড়ক হতে শিবসা নদীর ওয়াপদা বাধ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার পারিশামারী গ্রাম। যেখানে তিনটি পরিবার বাদে সকল জনগণ হিন্দু। কিন্তু অবাক হলেও সত্য গ্রামটির চলাচলের রাস্তাটি আজও কাচা ও কিছু অংশ ইটের সোলিং এর জরাজীর্ণ। উক্ত গ্রামটিতে জাতীয় নির্বাচনে নৌকার কোন এজেন্ট না দিলেও ৯৫ ভাগ ভোট নৌকায় পড়ে। অথচ এ এলাকায় উন্নয়নের কোন ছোয়া লাগে না। ইতিপূর্বে সকল নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর বেমালুম ভুলে গিয়েছিল রাস্তাটির সংস্কার বা মেরামত কথা। ফলে পারিশামারীর রাস্তাটি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কাদা মাটিতে পরিনত হলে চরম দুর্ভোগের স্বীকার হয় শিক্ষার্থী সহ অত্র এএলাকার জনগণ। 

সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউপির পাইকগাছা - বেতবুনিয়া সড়ক হতে শিবসা নদীর বাধ পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার পারিশামারী গ্রামের রাস্তা ইটের সলিং ও কাঁচা রাস্তা। রাস্তাটির ইটের সলিং সরে শতশত গর্তে পরিণত হয়েছে। উক্ত সলিংয়ের রাস্তা ও কাঁচা রাস্তার গর্তগুলোয় বর্ষা মৌসুমে পানি জমে কর্দমাক্তে পরিণত হয়। গ্রামে একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় একটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় রয়েছে। গ্রাম হতে শত শত ছেলে মেয়ে বিদ্যালয় দুটিতে যাতায়াত করে।হিন্দু অধ্যুষিত পারিশামারী গ্রামটির রাস্তার বেহাল দশার কারনে কোন যানবাহন সহজে প্রবেশ করতে পারে না। অথচ পাইকগাছা পৌর সদর হতে মাত্র ২ কিলোমিটার দুরে এ অবহেলিত গ্রাম। আবার বর্ষা মৌসুমে উক্ত গ্রামের শিক্ষার্থীদের বই খাতা ভিজে কাদা মাটি মেখে বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে হয়। 

এছাড়া উক্ত এলাকায় রয়েছে চিংড়ি চাষের একাধীক মৎস্য লীজ ঘের। ভাংগাচুরা রাস্তার কারণে বাগদা, গলদা ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সরবরাহের জন্য কোন যানবাহন পারিশামারী গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। সেক্ষেত্রে বাগে অথবা মাথায় করে মাছ বহন করতে হয় এলাকারর জনগণের । যাতে এলাকার লোকজন অত্যন্ত ঝুকির মধ্যে পড়ে । আবার রুটি-রুজি আয়ের জন্য শতশত মটরসাইকেল জীবন বাজী রেখে চলাচল করে এই ভঙ্গুর রাস্তা দিয়ে। যা প্রতিনিয়ত তাদেরকে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। প্রতি ইউপি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প‚র্বে সকল প্রার্থীরা রাস্তাটি সংস্কারের জন্য বারংবার প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাস্তাটির কথা আর করোর খেয়াল থাকে না। 

জনৈক হাজারী লাল সানা (৭০) বলেন, আমাদের এই এলাকা আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার ৯৫% ভোটার নৌকায় ভোট দিয়ে থাকে। আমাদের কাঙ্খিত দলটি দীর্ঘ ১০ বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকা স্বত্বেও পৌর সদরের নিকট বর্তী এ গ্রামের রাস্তা সংস্কার সহ এলাকার কোন উন্নয়ন হয়নি।তবে আশা করছি বর্তমান সাংসদ আক্তারুজ্জামান বাবু তারুন্যের অহংকার হিসাবে কোন ভুল করবেন না। তিনি আপন পর বিবেচনা করে আমাদের দিকে তাকাবেন এবং উন্নয়ন বঞ্চিত রাস্তাটি সংস্কারের ব্যবস্থা করবেন। 

পুলিন কৃষ্ণ সানা বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে আমাদের ছেলে-মেয়েরা বর্ষা মৌসুমে স্কুল-কলেজে যাওয়া প্রায় বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশে কোন পৌর সদরের নিকট বর্তী কোথাও এমন অবহেলিত এলাকা আছে বলে আমি মনে করি না। অথচ আমরা জন্ম সুত্রে নৌকার ভোটার। তবে আমরা গত নির্বাচনে ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। বাবু ভাই প্রার্থী হওয়ায় আমরা সিদ্ধান্ত বদল করি। আশা করছি আওয়ামীলীগের পরিক্ষিত সৈনিক আক্তাজ্জামান বাবু এমপি হয়েছে। তার ভোট ব্যাংক এলাকার উন্নয়ন হবেই। 

স্থানীয়রা জানান, গত ১০ বছরে আমাদের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা ফিরে তাকায়নি পারিশামারী গ্রামের দিকে, তবে আকতারুজ্জামান বাবু ভাই এমপি হয়েছে রাস্তাটি জরাজীর্ণ থাকবে না এবং ধান্য ও মৎস্য মৌসুমে আমাদেরকে আর বেশি কষ্ট করা লাগবে না। এলাকার শতশত লোকজন রাস্তাটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় জন প্রতিনিধি সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি এ এলাকার জনগণ বর্তমান সাংসদ তারুণ্যের প্রতীক বর্তমান এমপির প্রতি পূর্ণ আস্তা আছে বলে জানিয়েছেন।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর