Opu Hasnat

আজ ২৭ জুন বৃহস্পতিবার ২০১৯,

কর্মস্থলগামী গাড়ির চাপে পারের অপেক্ষায় সহস্রাধিক যানবাহন রাজবাড়ী

কর্মস্থলগামী গাড়ির চাপে পারের অপেক্ষায় সহস্রাধিক যানবাহন

দক্ষিনাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া পাটুরিয়া। প্রতিদিন এই নৌপথ দিয়ে দক্ষিনাঞ্চলের ২১টি জেলার কয়েক হাজার যানবাহন পারাপার করা হলেও ঈদ শেষে কর্মস্থলগামী যানবাহনের বাড়তি চাপে তার পরিমান দাড়িয়েছে এখন দ্বিগুণ। এই নৌরুট দিয়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি না হলেও কর্মস্থলে ফিরতে ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহনের চালকদের। 

দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্নে করতে সরকারী দুটি সংস্থা কাজ করে। তারা হলো বিআইডব্লিটিএ এবং বিআইডব্লিটিসি। ঘাট এলাকার পল্টুন ও ঘাট সচল রাখার কাজটি করে থাকে বিআইডব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ। আর ফেরি সার্ভিস দেখভাল করে বিআইডব্লিটিসি কর্তৃপক্ষ।

বিআইডব্লিটিএ দৌলতদিয়া কার্যালয়ের তথ্যমতে, নদীর দৌলতদিয়া অংশে মোট ছয়টি ঘাট রয়েছে। ঈদের আগে ছয়টি ঘাট সচল করে কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ পদ্মার পানি কমে যাওয়ায়, ৩,৪ এবং ৫ নম্বর ফেরিঘাট বন্ধ হওয়ার পথে। কোনক্রমে খুরিয়ে খুরিয়ে চলছে ঘাট তিনটি। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ৫ নম্বর ঘাটটির। এই ঘাটে পানি কমে যাওয়ায় পল্টুন থেকে মহাসড়কের সংযোগ সড়কটি এতই উচু হয়েছে যে কোন পন্যবাহি ট্রাক সহজে উঠতে পারে না। যে কারনে একটি ফেরি লোড ও আনলোড হতে সময় লাগছে প্রায় একঘন্টা। 

এদিকে ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার সংযোগ সড়কটি চলাচলের অনুপযোগি হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন একাধীকবার ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।

জানাযায়, মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতদিয়া ৫ নম্বর ফেরিঘাট দিয়ে কর্মস্থল ঢাকায় যাচ্ছিলেন আমিন সরিফ ও খাদিজা বেগম দম্পতি। ফেরিঘাটের পল্টুনের উঠার সময় একটি ট্রাকের ধাক্কার দেড় বছরের মেয়ে রুবাইয়াত আহম্মেদ রিন্তিকে নিয়ে পদ্মায় পরে যায় এই দম্পতি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় পারে উঠতে পারেন তারা।

ট্রাকের ধাক্কায় নদীতে পরে যাওয়া আমিন সরিফ জানান, ঘাটের এমন অব্যস্থাপনা আগে ছিলো না। ট্রাকগুলো পারে উঠতে গিয়ে আবার স্লিপ কেটে পিছনে যাচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই। আজ স্থানীয়রা যদি নদীতে নেমে আমাদের রক্ষা না করতো হয়তো এ পৃথীবির আলো বাতাস আর দেখা হতো না। এর একটি প্রতিকার হওয়া দরকার।  

সরেজমিনে মঙ্গলবার বিকেল পাচটায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ বাজার পর্যন্ত অন্তত ছয় কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত দুটি সাড়িতে পারের অপেক্ষায় আটকে আছে অন্তত আটশত ছোট বড় যানবাহন। অপরদিকে পন্যবাহি অন্তত ২৪০ টি দৌলতদিয়া ট্রাক টার্মিনালে পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে আছে।

এ সময় সাতক্ষীরা থেকে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহনের যাত্রি সুমন হোসেন বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে আটকে আছি ছয় ঘন্টা গাড়ি একটু সামনে এগিয়ে আবার বসে থাকে কতক্ষনে ফেরির নাগাল পাবো তা জানা নেই। তবে এই ঘাটে বসে থেকে ঈদের আনন্দটুকু ম্লান হয়ে যাচ্ছে। বেলা ১২ টা থেকে বসে আছি আমরা অনেকে তারও আগে থেকে বসে আছে।

অপর এক যাত্রী পারভীন আক্তার জানান, দৌলতদিয়া ঘাটে বসে থেকে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছে শিশু ও মহিলা যাত্রীরা। বাসের মধ্যে প্রচন্ড গরম। সবাই অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাস থেকে একটু নামবো তারও উপায় নেই।
 
বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা ট্রাক চালক হাবিবুল্লাহ বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে বসে আছি দুইদিন। আমি কবে ফেরির নাগাল পাবো বলতে পারবো না। ঘুরছি ফিরছি হোটেলে খাচ্ছি আর আল্লাহকে ডাকছি। তবে দ্রুত পারাপারের ব্যপারে ঘাট কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ চোখে পরছে না। বরং সিরিয়াল ভেঙ্গে অনেক যানবাহন ডানপাশ দিয়ে আগে চলে যাচ্ছে কিভাবে যাচ্ছে আমার জানা নেই।

বিআইডব্লিটিএ দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, হঠাৎ পানি কমে যাওয়ায় ঘাটগুলো সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বুধবার থেকে ঘাটগগুলো মেরামতে চেষ্টা করা হবে।

বিআইডব্লিটিসি আরিচা সেক্টরের এজিএম (মেরিন) আব্দুস সালাম জানান, এবার আমাদের প্রস্তুুতি ভালো ছিলো। সমস্যা দেখা দেওয়া ঘাটগুলো মেরামত করা হবে। আর ৫ নম্বর ঘাটটি দ্রুত সময়ে স্থানান্তর করা হবে। তবে দুই একদিন সময় লাগবে।

বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যাবস্থাপক মোঃ সফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে এই নৌপথে ১৯ টি ফেরি চলাচল করছে। ঘাট সমস্যার কারনে ফেরিগুলো ভীরতে পারছে না। ঘাটের অপেক্ষায় নদীতেই দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। যে কারনে পারের অপেক্ষায় এই সিরিয়াল তৈরি হচ্ছে।