Opu Hasnat

আজ ১৮ সেপ্টেম্বর বুধবার ২০১৯,

ব্রেকিং নিউজ

কয়রার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা সব সময় উন্নয়ন বঞ্চিত, চান্নিরচক রাস্তা হবে কি? খুলনা

কয়রার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা সব সময় উন্নয়ন বঞ্চিত, চান্নিরচক রাস্তা হবে কি?

আলাউদ্দীন রাজা, কয়রা থেকে ফিরে : কয়রার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা গুলো সকল সময় উন্নয়ন বঞ্চিত রয়েছে। তাদের ভোট ব্যাংকের উপর ভিত্তি করে একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে নামলেও নির্বাচন পরবর্তীতে তাদের বেমালুম ভুলে যান নির্বাচিত ব্যক্তিরা। তবে বর্তমান সাংসদ কি করেন, এটাই দেখার অপেক্ষায় হিন্দু সম্প্রদায়ের অবহেলিত জনগণ।এ ক্ষেত্রে কয়রার একটি জনগুরুত্ব পূর্ণ রাস্তা শুড়িখালীর চান্নিরচক হতে ভান্ডারপোল পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা। পূর্বে রাস্তাটি দেখার কেউ ছিল না। নির্বাচন পূর্ববর্তী সময়ে প্রার্থীরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচনের পর বেমালুম ভুলে গিয়েছিল রাস্তাটির সংস্কার বা মেরামতের কথা। ফলে রাস্তাটি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কাদা মাটিতে পরিনত হলে চরম দুর্ভোগের স্বীকার হয় পাইকগাছা-কয়রার শিক্ষার্থী সহ হাজার হাজার জনগণের। 

সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, শুড়িখালীর চান্নিরচক হতে ভান্ডারপোল পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার রাস্তা ইটের সলিং ও কাঁচা রাস্তা। রাস্তাটির ইটের সলিং সরে শতশত গর্তে পরিণত হয়েছে। উক্ত সলিংয়ের রাস্তায় গর্তগুলোয় পানি জমে কর্দমাক্তে পরিণত হয়েছে। পাইকগাছার গড়ইখালী ইউনিয়ন সহ কয়রার কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার লোকের যাতায়াতের প্রধান রাস্তা হিসেবে পরিচিত এটি। শুড়িখালীর পার্শ্ববর্তী চান্নিরচক কলেজিয়েট স্কুলে প্রতিদিন শতশত শিক্ষার্থীরা উক্ত রাস্তা দিয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করে। ফলে বর্ষা মৌসুমে বই খাতা ভিজে কাদা মাটি মেখে তাদেরকে আসা যাওয়া করতে হয়। এছাড়া উক্ত এলাকায় বছরে ২টি মৌসুমে ফসল উৎপাদন হয়। আমন মৌসুমে ও সবজি মৌসুমে বিশেষ করে তরমুজ-বাঙ্গির সময় উক্ত রাস্তায় শতশত ট্রাক প্রবেশ করে। যা উক্ত বাহনগুলোকে অত্যন্ত ঝুকির মধ্যে চালাতে হয়। আবার রুটি-রুজি আয়ের জন্য শতশত মটরসাইকেল, নছিমন-করিমন চলাচল করে এই ভঙ্গুর রাস্তা দিয়ে। যা প্রতিনিয়ত তাদেরকে দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। প্রতি ইউপি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে প্রার্থীরা রাস্তাটি সংস্কারের জন্য বারংবার প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে রাস্তাটির কথা আর করোর খেয়াল থাকে না। 

জনৈক সুকুমার মন্ডল বলেন, আমাদের এই এলাকা আওয়ামী অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার ৯০% ভোটার নৌকায় ভোট দিয়ে থাকে। আমাদের কাঙ্খিত দলটি দীর্ঘ ১০ বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকা স্বত্ত্বেও এই রাস্তাটির কোন উন্নয়ন হয়নি।তবে আশা করছি বর্তমান সাংসদ আক্তারুজ্জামান বাবু আমাদের দিকে তাকাবেন এবং উন্নয়ন বঞ্চিত রাস্তাটি পিচ ঢালাইয়ে পরিনত করবেন। 

ইউপি সদস্য অচিন্ত মন্ডল বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে আমাদের ছেলে-মেয়েরা বর্ষা মৌসুমে স্কুল-কলেজে যাওয়া প্রায় বন্ধ করে দেয়। এছাড়া আমন ওসবজি মৌসুমে রাস্তা খারাপ থাকায় সবজি বহনে পরিবহন খরচ দ্বিগুন দিতে হয়। ফলে কৃষকরা খরচ তুলতে পারে না। 

গোবিন্দ মন্ডল বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হওয়ায় ধান্য ও সবজি মৌসুমে আমাদেরকে কমদামে ফসল বিক্রি করতে হয়। কারণ, এই জরাজীর্ণ রাস্তায় ট্রাক আনতে গেলে ভাড়া বেশি দিতে হয়। আবার অনেক সময় আসতে রাজী হয় না। এলাকার শতশত লোকজন রাস্তাটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের রাস্তার দু’ধারের জনগণ বর্তমান সাংসদ তারুণ্যের প্রতীক আক্তারুজ্জামান বাবুর উপর পূর্ণ আস্তা আছে বলে জানিয়েছেন।