Opu Hasnat

আজ ২৬ জুন বুধবার ২০১৯,

ফরিদপুরে বারোমাসি হলুুদ ও লাল তরমুজে কৃষকের নতুন লাভের গল্প কৃষি সংবাদফরিদপুর

ফরিদপুরে বারোমাসি হলুুদ ও লাল তরমুজে কৃষকের নতুন লাভের গল্প

ফরিদপুরের সদরপুর, ভাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী উপজেলার সাদিপুর, সাতৈর, কাটাখালী, শৈলডুবি, মজুমদার বাজার ও যাত্রাবাড়ীসহ ৫০টি এলাকায় গত দুবছর যাবত চাষ করা হচ্ছে খুবই সুস্বাদু বারোমাসি হলুদ ও লাল তরমুজ। গত বছর স্বল্প পরিসরে এই ভিন্নধর্মী দুই ধরনের তরমুজ চাষ করে বাজার মূল্য ভালো পাওযায় চাষ বেড়েছে এবার দ্বিগুন। তবে কৃষকরা বেশী লাভজনক ফসল হওযায় সামনের বছর এই দুই ধরনের তরমুজের চাষ আরো বেশী বাড়বে বলে জানিয়েছেন। এদিকে ভিন্নধর্মী তরমুজ হওযায় জেলা জুরে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে এই দুই ধরনের তরমুজ।  

জানাযায়, ফরিদপুরের কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিগত বছর থেকে পরীক্ষামূলক ভাবে বারোমাসি হলুদ ও লাল তরমুজ চাষ শুরু করা হয়। সারা বছরের ফসল প্রচুর দাম পাওযায় এই চাষের দিকে ঝুকছেন কৃষকরা। এই দুধরনের তরমুজ চাষ কৃষকরা বিষমুক্তভাবে চাষ করছেন। হলুদ তরমুজ (কার্নিয়া) ও লাল তরমুজ (সুইট ব্লাক-২) মাত্র ৬০ দিনের মধ্যে চাষ করে ফলন পাওয়া যায়। এরমধ্যে হলুদ তরমুজ মাটিতে ও লাল তরমুজ মাচা (ব্যালচিং পদ্ধিতি) ও মাটিতে চাষ করা যায়। তেমন কোন পরিশ্রম না থাকায় খুব সহজে এই তরমুজ চাষ এখন খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।  তবে কৃষি বিভাগের কাছে কত হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে এর কোন তথ্য নেই। তারপরেও তারা কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতা করে আসছে বলে জানিয়েছেন।

কাটাখালী এলাকার হলুুদ তরমুজ চাষ করা কৃষক লিটন ফকির বলেন, আমি প্রথম এ এলাকায় হলুুদ তরমুজের চাষ শুরু করি। এ ক্ষেত করে আমার সফলতা দেখে এখানকার অন্য কৃষকরা এ চাষ শুরু করে। আমিও তাদেরকে নানা ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছি বীজ থেকে পরিচর্যা কিভাবে করতে হয়। তিনি বলেন দত্ত সীডের মালিক তাপস দত্ত আমাকে প্রথমে এই বীজ দেয়। তিনি অমাদের নানাভাবে মাঠে এসে এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিয়েছে বলেই এর সুফল পাওয়া সম্ভব হয়েছে। 

ভাঙ্গার সাদিপুর এলাকার কৃষক শেখ জুয়েল জানান, আমি ১০ শতাংশ জমিতে তাপসদার কথা মতো পরীক্ষা মূলকভাবে সুইট ব্লাক-২ বারোমাসি কালো তরমুজ চাষ শুরু করে। আমি এর আগেও অনেক ফসল চাষ করেছি কিন্তু এতো লাভজনক কোন ফসল পায়নি। তিনি বলেন আমার খরচ হয়েছে মাত্র ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। ক্ষেতের মাঝ পথে এসে এ পর্যন্ত বিক্রি নেমেছে ৫০ হাজার টাকা আশা করছি আরো অনেক হবে। বারোমাসি লাল তরমুজ মাচাতে (ব্যালচিং পদ্ধিতি) চাষ করেছি বিষ মুক্তভাবে। তরমুজটি সুস্বাদু ও দেখতে সুন্দর হওযায় এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে বাজারে বলে তিনি জানান।  

এদিকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যাপারীরা এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় এখান থেকে ট্রাকে করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে ফরিদপুরের সুস্বাদু ভিতরে শ্বাস হলুদ তরমুজ (কার্নিয়া) ও লাল তরমুজ (সুইট ব্লাক-২)। 

ঢাকা থেকে আসা ব্যাপারী সুমন মাতুব্বর বলেন, দেশের বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যে কারেন যে দামই হইক আমরা এ তরমুজ কিনতে আসি এই বাজারে। তিনি বলেন দাম বেশী হলেই এর পার্থক্য সবার থেকে আলাদা করেছে বাজারে।  

দত্ত সীডের মালিক তাপস দত্ত বলেন. তিনি থ্যাইলান্ড থেকে এর বীজ সংগ্রহ করেছেন বলে জানান। গত বছর কয়েকজন কৃষককে এই জাতের বীজ দেয়া হয়। এরপর এর সুফল দেখতে পেয়ে অন্য কৃষকরা এবার এ ধরনের তরমুজের চাষ শুরু করেছে। তিনি বলেন আমি মাঠে মাঠে গিয়ে প্রতিটি কৃষককে এ ব্যাপারে সব সময় পরামর্শ প্রদান করেছি কখন কি করতে হবে। তার আশা এ তরমুজ বেশী সুস্বাদু হওয়া ও বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় এবার থেকে এর চাষ অনেক পরিমানে বাড়বে।   

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কার্ত্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, সুস্বাদু ও বারোমাসি হলুদ ও লাল তরমুজ স্বল্প সময়ের ফসল হওযায় এটা কৃষকের জন্য ভালো আয় হচ্ছে। তিনি বলেন ভিতরে হলুদ শ্বাস থাকায় এর ভিন্নতা রয়েছে একই সাথে এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে বাজারে। যে কারেন এ চাষ এ জেলায় গত দুবছরের তুলনায় সামনে আরো বাড়বে।  

এসব দিক বিবেচনা করে আমরা কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকি আমাদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে। 

এই চাষের সাথে জরিতরা আশা করেন বীষমুক্ত হলুদ তরমুজ (কার্নিয়া) ও লাল তরমুজ (সুইট ব্লাক-২) চাষে তারা সকল ধরেনের সহযোগিতা পেলে তারা সারা বছর দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী করতে পারবে বলে তাদের আশা।