Opu Hasnat

আজ ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ২০১৯,

ফরিদপুরে দুই গ্রামবাসির সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১৪ ফরিদপুর

ফরিদপুরে দুই গ্রামবাসির সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১৪

ভাড়ার মাইক্রো চালককে মারধরের জেরে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বর্দী ইউনিয়নের পরমেশ্বর্দী গ্রাম ও পাশের সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের খারদিয়া গ্রামের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার বিকেল ৫ টা থেকে ৬টা পর্যন্ত প্রায় ঘন্টা ব্যাপি এ সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে সালথা ও বোয়ালমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১৪ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন আনে। এ সময় পুলিশের ৪ এসআই সহ কমপক্ষে ১৪জন আহত হয়েছে। 

এ সময় পরমেশ্বর্দীর উজিরপুর ঘাটবাজারে ৮টি দোকান ও ৪টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহত পরমেশ্বর্দী গ্রামের সরোয়ার খাঁর ছেলে ৮ম শ্রেণীর ছাত্র শরিফুল খাঁকে (১৪) উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সংঘর্ষে ইটের আঘাতে আহত এসআই দিপংকর সান্যাল, সাইফুদ্দিন, নারায়ন চন্দ্র, ইকরাম ও মাহমুদ হোসেনসহ অন্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

পরমেশ্বর্দী গ্রামের আইয়ুব খন্দকার ও সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান মো. নুরুল আলম মিনা জানান, শনিবার পরমেশ্বর্দী গ্রামের কবির খন্দকারের ছেলে মারুফ খন্দকারের বিয়ে উপলক্ষে বরযাত্রী নিয়ে সকাল ১১টায় সালথা উপজেলার সোনাতন্দী গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বরযাত্রী বহনকারী সাখাওয়াত হোসেনের মাইক্রো কনের বাড়ি থেকে অর্ধ কিলোমিটার দুরে নষ্ট হয়ে গেলে বরযাত্রীরা পায়ে হেঁটে কনের বাড়িতে যায়। এক পর্যায়ে মাইক্রো চালক তিন ঘন্টা পর অন্য আরেকটি গাড়ি নিয়ে কনের বাড়িতে যায়। এ সময় বরযাত্রীর লোকজন তাকে দেরী হওয়ার কৈফিয়াত চেয়ে মারধর করে। সাখাওয়াত তার মালিক খারদিয়া গ্রামের ফরিদ হোসেনকে এ ঘটনা জানায়। বিকেল ৫টার দিকে বরযাত্রীরা ফেরার পথে পরমেশ্বর্দী উজিরপুর ঘাট ব্রীজে পৌঁছালে খারদিয়া গ্রামের ফরিদের পক্ষের ২০/২৫জন লোক বরযাত্রীদের গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করে। এর জের ধরে দুই গ্রামবাসি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালিন সময় উজিরপুর বাজারের ইনামুল, মান্নান রিপনেরসহ ৮টি দোকান ভাংচুর ও ৫ থেকে ৬লাখ টাকার মালামাল লুটপাট হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এ ব্যাপারে সাখাওয়াতের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে লাইনটি কেটে দেন। 

বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, মাইক্রোবাস নষ্ট হওয়ার জেরে চালকের সাথে কথা কাটাকাটি কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ ঠেকাতে ১৪ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত  থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।