Opu Hasnat

আজ ২৭ জুন বৃহস্পতিবার ২০১৯,

রাজবাড়ীতে স্কুলছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা রাজবাড়ী

রাজবাড়ীতে স্কুলছাত্রীকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা

রাজবাড়ীর সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়িয়া গ্রামের ১০ম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রী (১৬) কে গায়ে কেরোসিন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শনিবার সকালে রাজবাড়ী সদর থানায় স্কুল ছাত্রীর বাবা ফজলুর রহমান বাদী হয়ে প্রতিবেশি শিল্পী বেগমসহ অজ্ঞাত আরো ৪ জনের নামে মামলা দায়ের করেছেন। ঐ স্কুল ছাত্রী খানখানাপুর তমিজউদ্দীন খান উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। 

স্কুল ছাত্রীর মা নাসিমা বেগম বলেন, ঈদের দিন (বুধবার) স্থানীয় প্রতিবেশী শিল্পী বেগম  আমার মেয়ের কাছে অন্য ছেলের সাথে সম্পর্ক ও আপত্তিকর ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। এতে আমার মেয়ে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরদিন  বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টার দিকে আমি ঘুমাচ্ছিলাম, এ সময় ছোট মেয়ের চিৎকারে আমার ঘুম ভাঙ্গে। বড় মেয়ের কথা জিজ্ঞাসা করতেই ছোট মেয়ে বোরখা পড়া দুইজন লোক তাকে তুলে বাড়ির পিছনের দিকে নিয়ে গেছে বলে জানায়। তখন আমিও চিৎকার করতে থাকি। আমার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অনেক খোজাখুজির পর ঘরের পিছনের পাটক্ষেত থেকে বড় মেয়েকে উদ্ধার করা হয়।   

স্কুল ছাত্রীর বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মোঃ সোহেল ব্যাপারী জানান, এ ঘটনায় গত (শুক্রবার) রাতে আমি নিরাপত্তাহীনতায় থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে  পোস্ট করি । কিছুক্ষণ পর রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার মজুমদার পুলিশ পাঠিয়ে থানায় ডেকে নিয়ে বিস্তারিত জেনে মামলা দায়েরের পরামর্শ প্রদান করেন। 

ঐ স্কুল ছাত্রী জানান, পাশের গ্রামের রাজু নামে একটি ছেলে আমাকে মাঝে মধ্যেই বিরক্ত করতো। এই কথা স্থানীয় বাসিন্দা শিল্পী বেগম জানতো আর এটাকে কেন্দ্র করেই সে আমার কাছে দুই লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। আমি বিষয়টি পরিবারকে জানালে তার পরের দিন শিল্পি বেগম আক্রোশে ফেটে পড়ে। এবং বোরকা পরা দুইজন আমাকে ধরে নিয়ে যায়। এ সময় আগে থেকেই বোরকা পরা আরো দুজন বসে ছিলো। তারা ওড়না দিয়ে আমার হাত-পা বেঁধে গায়ের জামায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এবং জামা কাপর টেনে ছিরে ফেলে। 

স্থানীয় বাসিন্দা সাথী সরকার জানান, চিৎকার চেচামেচিতে আমরাও এগিয়ে গিয়ে স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করি। তার মাথায় আঘাতের চিহ্নসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং গায়ের জামা কাপড় ছেড়া ছিল। 

পাচুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আলমগীর হোসেন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শ কাতর। এবং এলাকায় সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পরেছে। এ ব্যপারে আমরাও শঙ্কিত হয়ে পরেছি। দিনের বেলায় এভাবে মেয়েটি পাটক্ষেতে নিয়ে গিয়ে হত্যা চালিয়েছে এটার দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হওয়া দরকার।
 
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম ও পিপিএম জানান, এ ঘটনায় রাজবাড়ী সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। স্পর্শকাতর এ বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দুইটি টিম মাঠে কাজ করছে এবং আসমী গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যহত রয়েছে। খুব তারাতারি এ ব্যপারে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।