Opu Hasnat

আজ ২২ সেপ্টেম্বর রবিবার ২০১৯,

মোরেলগঞ্জে ঈদের বিশেষ বরাদ্ধের ২১৩ বস্তা চাল উদ্ধার বাগেরহাট

মোরেলগঞ্জে ঈদের বিশেষ বরাদ্ধের ২১৩ বস্তা চাল উদ্ধার

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার ৬নং চিংড়াখালী ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে অতিদরিদ্রদের জন্য বরাদ্ধকৃত ২১৩ বস্তা ভিজিএফের  চাল বিতরণ না করে গুদামজাত ও গুদামজাতকৃত এসব চাল বৃহস্পতিবার সকালে কালোবাজারে পাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ বেলা ১০ টার সময় একটি বাড়ি থেকে ২ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে। 

জানা গেছে, ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ এ শ্লোগানকে সামনে নিয়ে এবং এ শ্লোগান সম্বলিত ৩০ কেজির বস্তার চাল খাদ্য অধিদপ্তর থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের ন্যায় চিংড়াখালী ইউনিয়নে বরাদ্ধ হয়। ঈদের আগেই  বরাদ্ধকৃত সব চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও ইউপি চেয়ারম্যান দক্ষিণ চিংড়াখালী গ্রামের হোসাইনিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার একটি কক্ষে ২১১ বস্তা চাল গুদামজাত করেন। 

অত্র ইউনিয়নের  ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ও ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আক্কাস হাওলাদার জানান, খুব ভোরে চেয়ারম্যান আলী আক্কাস বুলুর সহযোগী আবুল কালাম ও বাইজিদ গুদামের তালা খুলে ভ্যানেযোগে এ বিশেষ বরাদ্ধের চাল পাচার করছে। এ খবরের প্রেক্ষিতে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম ও আক্কাস হাওলাদার এলাকার চাল বঞ্চিত এলাকাবাসী তাদের বাঁধা দেয় । এর আগেই পাচারকারীরা ২ টি ভ্যানে করে ৪০ বস্তা সরিয়ে নিতে সক্ষম হয় বলে ইউপি সদস্যরা জানায়। 

মোরেলগঞ্জ পোলেরহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইন চার্জ মো. রফিকুল ইসলাম সহ ফোর্স মাদ্রাসার সন্নিকটের জনৈক আলমগীর শেখের বাড়িতে ফেলে যাওয়া ২ বস্তা চাল ও গুদামের বাইরে ফেলে যাওয়া আরো ৭ বস্তা চাল উদ্ধার করেতে সক্ষম হন। এসময় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রনব কুমার বিশ্বাসসহ মোরেলগঞ্জ থানা ও পোলেরহাট ফাড়ি পুলিশ উপস্থিত ছিল। এ বিষয়ে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রনব কুমার বিশ্বাস ইউপি চেয়ারম্যান ও দুই মেম্বর সহ অন্যান্যের পৃথক লিখিত বক্তব্য নিয়েছেন।

বিশেষ বরাদ্ধে কার্ডধারী ২ নং ওয়ার্ডের কার্ডধারী ছালাম শেখ জানান, তার এ বরাদ্ধের কার্ড থাকা সত্ত্বেও চাল নেই বলে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। মো. জালাল, মহিদুল শেখ, ছালাম মুন্সী ,শহিদুল শেখ, সোহরাব শেখ, লোকমান শেখ সহ অনেকের কার্ডের চাল না দিয়ে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে ছিড়ে ফেলা হয়েছে বলে জানান। 

ইউপি চেয়ারম্যান আলী আক্কাস বুলু জানান, এসব চাল ঈদের বিশেষ বরাদ্ধের চাল নয়। ঈদের আগেই মৎস্যজীবীদের সেসব চাল বন্টন করা হয়েছে। গুদামে ১৪২ জন মৎস্যজীবী ও কয়েকজন মেম্বরের বিশেষ বরাদ্ধের চাল মজুত ছিল। ২ ম্মেবরের সাথে সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ মিথ্যা অভিযোগ সাজেয়েছে। 

থানা অফিসার ইন চার্জ কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে বিষয়টি আরো গভিরে তদন্ত করে দেখা হবে যাতে কোন নিরহ ব্যাক্তি হয়রানির শিকার না হয়।

উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ এ্যাড. শাহ-ই-আলম বাচ্চু বলেন, আমি সংবাদ পেয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: কামরুজ্জামান বলেন, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে পাঠিয়েছি। ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আমাকে প্রতিবেদন দিতে বলেছি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রনব কুমার বিশ্বাস বলেন, চেয়ারম্যানের ভাস্য মতে গুদামে মৎস্য জেলেদের ১৪০ কার্ডের চাল এবং কিছু ভিজিএফ এর চাল রয়েছে।

কিন্তু স্থানীয় জনসাধারণ, চেয়ারম্যান, মেম্বরদের ও প্রশাসনের ভিন্ন ভিন্ন মতামত রয়েছে। তাই বিষয়টি উচ্চ মহলে তদন্ত আশা করছেন স্থানীয় সাধারন মহল।