Opu Hasnat

আজ ১৮ জুন মঙ্গলবার ২০১৯,

স্বপ্নবিথী বিনোদন কেন্দ্রের কর্মচারীদের প্রহারে যুবকের মৃত্যু নড়াইল

স্বপ্নবিথী বিনোদন কেন্দ্রের কর্মচারীদের প্রহারে যুবকের মৃত্যু

নড়াইলের লোহাগড়া পৌর এলাকার কচুবাড়িয়ায় স্বপ্নবিথী বিনোদন কেন্দ্রের কর্মচারীদের প্রহারে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত যুবকের নাম নুর মোহাম্মদ শেখ (৩২)। তিনি উপজেলার শালনগর ইউনিয়নের চরশালনগর গ্রামের মৃত জহুর শেখের ছেলে। পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রী। 

এ ঘটনায় ২৬ মে লোহাগড়া থানায় নিহতের স্ত্রী শারমীন একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই বিনোদন কেন্দ্র্রের তিন কর্মচারী লক্ষীপাশার মুকুল মোল্যা (৪০), কচুবাড়িয়া গ্রামের শামীম জমাদ্দার (৩৫) ও সদর উপজেলার তালতলা গ্রামের তারিক মুন্সী (৩৬)কে আসামী করা হয়েছে। এছাড়া আসামী হয়েছে নুর মোহাম্মদের প্রতিবেশী সাহেব আলী, লাহুড়িয়া ডহরপাড়া গ্রামের আলম ফকিরের মেয়ে শলোকা বেগম (২৫)। 

এদিকে, হত্যা কান্ডের সাথে কর্মচারীদের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন স্বপ্নবিথী বিনোদন কেন্দ্রের স্বত্বাধীকারী মফিজুর রহমান। তিনি  বলেন, ২৪ মে বিনোদন কেন্দ্রে শলোকা বেগমের সাথে ঘুরতে আসেন নূর মোহাম্মদ। বিকালে বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ করার পূর্বে মামলায় অভিযুক্ত কর্মচারীরা পার্কের একটি শৌচাগার থেকে শলোকার চিৎকার শুনতে পান। সেখানে গেলে নূর মোহাম্মদ দৌড়ে পালিয়ে যান।

এ প্রসঙ্গে শলোকা বেগম বলেন, ২৪ মে বিনোদন কেন্দ্রে নুর মোহাম্মদকে নিয়ে ঘুরতে আসি। তখন গেটে দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা আমাদেরকে অবাধে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য প্রবেশ মুল্য দুইশ টাকা করে মোট চারশ টাকা রেখেছিল। প্রবেশ মূল্য দুইশ টাকা করে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বপ্নবিথীর স্বত্বাধীকারী মফিজুর রহমান বলেন, এধরনের অনিয়োমের কথা আমি অস্বীকার করছিনা। তবে যারা পরিবারের সাথে আসে তাদের জন্য প্রবেশ মূল্য ত্রিশ টাকা। আর যারা পরিবারের বাইরে অন্য কাউকে নিয়ে আসেন তাদের জন্য ৭০ টাকা নির্ধারণ করে টিকিট করেছি। কারন তাদের নিকট একটি শেড ভাড়া দেওয়া হয়।  

অভিযোগকারী  শারমীন ও তার স্বজনদের অভিযোগ প্রতারোনার ফাঁদ পেতে স্বপ্নবিথীতে নিয়ে গিয়ে নুর মোহাম্মদ শেখকে মারধর করা হয়েছে। এতে তার মৃত্যু হয়। ওই সময় প্রতারকরা মোহাম্মদের কাছে থাকা ৭৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. আতিকুজ্জামান বলেন, আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। আশা করছি দ্রুতই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পারব।