Opu Hasnat

আজ ২২ সেপ্টেম্বর রবিবার ২০১৯,

কাঠালতলা বদ্ধ জলমহলের ইজারা গ্রহণ করে মহা বিপাকে ইজারাদার খুলনা

কাঠালতলা বদ্ধ জলমহলের ইজারা গ্রহণ করে মহা বিপাকে ইজারাদার

পাইকগাছা-কয়রার সীমান্তবর্তী কাঠালতলা বদ্ধ জলমহলের ইজারা গ্রহণ করে মহা বিপাকে ইজারাদার। পূর্বের দখলদাররা জলমহলের প্রধান বাসা সহ ৫টি বাসা আগুন জ্বালিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এলাকায় টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাটি শুক্রবার ভোরে পাইকগাছা-কয়রা সীমান্তবর্তী কাঠালতলা বদ্ধ জলমহলের বাইনবাড়িয়া ও চান্নিরচক গ্রামে।  

জানা যায়, কয়রা উপজেলার পাইকগাছা সীমান্তবর্তী ভান্ডারপোল মৌজায় কাঠালতলা বদ্ধ জলমহল সরকারি ১ খতিয়ানের ১৪৪৩, ১৬ ও ৪৭ দাগের ২৭.০৮ একর জমি। যা খুলনা জেলা প্রশাসকের সায়রাত কেস নং- ২০/২০১৯। উক্ত জলমহলটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের সায়রাত কেস নং- ১, তাং- ০৪/০৪/১৯ দীর্ঘ মেয়াদী ইজারা দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসক, খুলনাকে নির্দেশ দিলে ২৪/০৪/২০১৯ তারিখে কয়রার পাটনীখালী পূর্বপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় ৬ বছর মেয়াদী ইজারা নেন। ইতোপূর্বে উক্ত বদ্ধ জলমহলের উত্তর খন্ডে রবিউল ইসলাম ও তৌহিদ হোসেন চান্নিরচক মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নিকট থেকে ৩ বছর মেয়াদী দেখাশুনার দায়িত্ব নেন। তাদের মেয়াদ ৩০ চৈত্র ১৪২৫ শেষ হয়। কিন্তু রবিউল জলমহল ছেড়ে দিলেও তৌহিদ হোসেন অবৈধভাবে জলমহল দখল করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খুলনা থেকে আসা তৌহিদ হোসেন ও হায়েনা রায়হান এলাকার বেশ কয়েকজন চোর ডাকাতদের সঙ্গে নিয়ে উক্ত জলমহলের পাশে বাহিনী গড়ে তোলে। আমরা স্থায়ী বাসিন্দারা তাদের ভয়ে পথ চলতে বা কার্যক্রম করতে বাঁধাগ্রস্থ হই। জলমহলে আমাদের হাঁস গেলেও তা ফেরত আসে না। সব সময় তৌহিদ ও হায়েনা রায়হান মন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে। তাদের সাথে চোর বিল্লাল, রহমান ঢালী, আজগার সানা, সাঈদ, খোকন, আয়জুল, কার্তিক সরদার, সাইফুল ডাকাত একত্রিত হয়ে উক্ত খালের দু’পার দিয়ে পাইকগাছার বাইনবাড়িয়া ও কয়রার চান্নিরচক গ্রাম দুটি সন্ধ্যার পর আতংক সৃষ্টি করে। এক পর্যায়ে এলাকার শান্তিপ্রিয় জনগণকেও তারা হামলা-মামলা ও জীবন নাশের ভয় দেখায়। জলমহলের পাশে পাইকগাছা এবং কয়রা সীমান্ত দিয়ে কয়েকটি ছোট ছোট বাসা ছিল। শুক্রবার ভোর রাতে তারা বর্তমান ইজারাদারকে ফাঁসানোর জন্য প্রধান বাসা সহ ৫টি বাসায় আগুন জ্বালিয়ে ভস্মিভূত করে দেয়। প্রসাদ চক্রবর্তী, জয়ন্ত মন্ডল, সঞ্জয় মন্ডল, বাপ্পী মন্ডল, নিতিশ বৈরাগীরা জানান, বাসার খালের পূর্ব পাড়ে আমাদের বসতি। ভোরে আমরা দেখলাম কার্তিক সরদার, চোর বিল্লাল, সাইফুল ডাকাত চিৎকারে দিয়ে বাসাগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই বক্তব্য দেয় খালের পার্শ্ববর্তী বাসিন্দা ফুলকি মন্ডল, মমতা মন্ডল, শেফালী মন্ডল সহ একাধিক মহিলারা। বর্তমানে ইজারাদার পাটনীখালী পূর্বপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আনিছ সরদার প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকা সরকারী রাজস্ব জমা দিয়ে খালের দখল নিতে চরম আতংকের মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, ভোরে তৌহিদরা ঘেরে রক্ষিত বাসা আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে দিয়ে আমাদের নামে ব্যর্থ দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। তবে থানাপুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। 

এ ব্যাপারে তৌহিদ হোসেন জানান, এখানে এনটিভি চ্যানেল এসোছিল। তারা বিস্তারিত নিয়ে গেছে। অন্য কোন মন্তব্য করতে রাজী হয়নি। 

কয়রা থানার ওসি তারক বিশ্বাস জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এখনও পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এই বিভাগের অন্যান্য খবর