Opu Hasnat

আজ ২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার ২০১৯,

বগুড়ায় ডাকসু’র ভিপি নুরুল হক নুরের উপর হামলা বগুড়া

বগুড়ায় ডাকসু’র ভিপি নুরুল হক নুরের উপর হামলা

ডাকসু’র ভিপি নুরুল হক নুর বগুড়ায় ইফতার মাহফিলে এসে হামলার শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় আরো পাঁচ জন আহত হয়েছে।

রোববার বিকেলে বগুড়ার উডবার্ণ পাবলিক গ্রন্থাগারের মধ্যে নুরের উপর হামলা করা হয়। বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীরা।

ভিপি নূরুল হক নুরকে প্রথমে বগুড়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অ্যাম্বুলেন্সে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক বিন ইয়ামিন মোল্লা।

আহতদের মধ্যে দুইজনের নাম পাওয়া গেছে। তারা হলেন- বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রাসুল ও বেসরকারি যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরা পারসন শাহনেওয়াজ শাওন। অন্যদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেওয়ার জন্য ভিপি নুরুল হক নুরসহ ১৮ জন ঢাকা থেকে রবিবার বিকেলে বগুড়ায় আসেন। উডবার্ণ সরকারি গ্রন্থাগার মিলনায়তনে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।

আয়োজকরা জানান, দুপুর ২টার দিকে শহরের স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোস্তাফিজ হাসান সেখানে অনুষ্ঠান করা যাবে না বলে জানিয়ে দেন। পরিদর্শক মোস্তাফিজ হাসান নিষেধ করার পর পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সদস্য এসে তাদের অনুষ্ঠান করতে নিষেধ করেন। এরপর তারা অনুষ্ঠানের সম্ভাব্য ভেন্যু নিয়ে আলোচনা করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সদস্যদের আলোচনার মধ্যে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ভিপি নুরসহ ১৮ জনের একটি দল গ্রন্থাগার চত্বরে প্রবেশ করেন। তখন পুলিশের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি না থাকায় সেখানে অনুষ্ঠানে বাধা দেন সহকারী লাইব্রেরিয়ান রাজু আহম্মেদ। রাজু আহম্মেদের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে গ্রন্থাগার ভবনের সামনে কথা বলছিলেন নুর।

এর কিছুক্ষণের মধ্যে এক দল যুবক গ্রন্থাগার চত্বরে প্রবেশ করেন। এরপর কোনো কথা বলার আগেই তাদের একজন ভিপি নুরকে ঘুষি মারেন। এরপর অন্যরা নুরের উপর অতর্কিত হামলা করেন। এ সময় ভিডিও করায় যমুনা টেলিভিশনের ক্যামেরা পারসনকে মারধর করেন তারা। পরে সাংবাদিকরা চলে গেলে ভিপি নুরকে গ্রন্থাগারের প্রধান ফটকে ফেলে বেধড়ক পেটানো হয়। এ সময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সদস্যরা এগিয়ে আসলে তাদেরও মারধর করা হয়।

স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোস্তাফিজ হাসান বলেন, এখানে অনুষ্ঠানের বিষয় আগেই নিষেধ করা হয়েছে। তারপরও ভিপি নুরসহ বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সদস্যরা সেখানে ছিলেন। তবে ঘটনার খবর শুনে পুলিশ গ্রন্থাগার চত্বরে যায়। তখন সেখানে কোনো ঝামেলা দেখেনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাইমুর রাজ্জাক বলেন, গ্রন্থাগারের কাছে আজকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইফতার মাহফিলের অনুষ্ঠান হচ্ছিল। কিন্তু এর মধ্য গ্রন্থাগার চত্বর থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এই কারণে ছাত্রলীগের সদস্যরা সেখানে গিয়ে দেখেন গ্রন্থাগার চত্বরে ভিপি নুর এসেছেন। এই সময়ে ভিপি নুরের সঙ্গে হালকা ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।