Opu Hasnat

আজ ১৭ জুন সোমবার ২০১৯,

সৈয়দপুরে জমে উঠছে ঈদের কেনাকাটা নীলফামারী

সৈয়দপুরে জমে উঠছে ঈদের কেনাকাটা

সৈয়দা রুখসানা জামান শানু, নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে : ঈদ উৎসবের কেনাকাটায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে সৈয়দপুর শহরের সবগুলি মার্কেট। বিশেষ করে কাপড়ের দোকানগুলোর তৈরী পোশাক ও থান কাপড়ের পসরা নিয়ে ক্রেতা আকর্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছে। নতুন পোশাক ছাড়া ঈদ উৎসব কল্পনা করা যায় না বলেই মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের পদচারণা শুরু হয়ে গেছে। যারা দর্জি বাড়ির তৈরী পোশাক পরতে পছন্দ করেন, তারা এখন ভিড় করছেন থান কাপড়ের দোকানে। আগে ভাগে কাপড় না দিলে দর্জিবাড়ি অর্ডার নেবে না, তাই পুরুষ-মহিলারা ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন পছন্দের দেশি বিদেশি থান কাপড় কিনতে। এছাড়াও ক্রেতারা পছন্দের তৈরী পোশাক কিনতে ঢু মারছেন এ মার্কেট থেকে ও মার্কেটের রেডিমেড গার্মেন্টস দোকানগুলোতে। ক্রেতাদের আগমনে বিক্রিবাট্টা এখন তুঙ্গে উঠেছে। কারণ চাকুরিজীবী ব্যবসায়ীদের হাতে অর্থ থাকায় ঈদ বাজার ভালোই জমেছে। তবে ধানের দাম না থাকায় গ্রামের গৃহস্থদের আগমন তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না।  ঈদ বাজারের মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

রমজানের শুরু থেকে তৈরী পোশাকের নমুনা আর কাপড় সেলাইয়ের বাহারী নকশা নিয়ে ক্রেতারা মার্কেটমুখী হয়েছেন। দোকানীরাও নিত্যনতুন তৈরী পোশাক ও কাপড় তুলেছেন দোকানে। মার্কেটগুলোতে ব্যস্ততা এখন তৈরী পোশাক ও বাহারী কাপড় ঘিরে। ক্রেতারা বাছাই করছেন পাঞ্জাবী, প্যান্ট, সার্ট, থ্রি পিসসহ বিভিন্ন ডিজাইনের বাচ্চাদের তৈরী পোশাক।

ঈদের কেনাকাটায় বাহারি কাপড় আর হাল ফ্যাশনের গার্মেন্টস পোশাকের জন্য সুপার মার্কেট ও নিউ ক্লথ মার্কেটের আলাদা কদর রয়েছে ক্রেতাদের কাছে। ক্রেতারা প্রথমে ছুটে আসেন এসব মার্কেটে পছন্দের পোশাক খুঁজতে। দোকানীরা ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে মজুদ করেন দেশীয় উন্নতমানের থান কাপড়, তৈরী পোশাকসহ, ভারতীয় ও পাকিস্থানের লনের বর্ণীল পোশাক। এবার ঈদেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। সর্বশেষ বের হওয়া নজরকাড়া পোশাক পাওয়া যাচ্ছে মার্কেটগুলোর এসব দোকানে। মার্কেটের সুনাম বজায় রাখতে প্রতিটি দোকানী বিপুল পরিমাণ পোশাক সংগ্রহে রেখেছেন। যাতে কোন ক্রেতা যেন বিমুখ না হন মার্কেট থেকে। 

সরেজমিনে শহরের ওইসব মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, সব দোকানেই ক্রেতাদের আনাগোনা। এসব মার্কেটে মহিলা, তরুণী ও পরিবারের সন্তানদের নিয়ে আসা অভিভাবকদের দেখা যায় দরদাম করতে। দাম সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাপড়ের দাম খুব একটা বাড়েনি, গত বছরের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। তবে নকশা ও ডিজাইনের কারুকাজে দামের তারতম্য হচ্ছে। দোকানীদের অভিমত কাপড়ের দাম সহনীয় থাকায় বিক্রি ভালো হচ্ছে। ঈদের বোনাস ও ব্যবসার কারণে চাকুরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের হাতেও টাকা রয়েছে। সব মিলিয়ে ক্রেতাদের যেমন সমাগম বাড়ছে, তেমনি বেচা বিক্রি ভালই হচ্ছে। এরআগে তারা ঢাকা, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে অবস্থান করে হাল ফ্যাশানের পোশাক সংগ্রহ করেছেন। 

সুপার মার্কেটের শাড়ি কাপড়, থ্রী পিসসহ থান কাপড়ের দোকান বাগদাদ ক্লথ স্টোরের মালিক গোলাম ইয়াজদানি ও আহমেদ ক্লথ স্টোরের আবিদ হোসাইন ডলারের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বেচা বিক্রি জমে উঠেছে। ঈদ বাজার প্রসঙ্গে গোলাম ইয়াজদানি বলেন, তার দোকানে দেশী বিদেশী ফ্যাশন ও ব্র্যান্ডের শাড়ি কাপড়সহ সবধরণের পোশাকের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে। বাহারী থ্রী পিস, টু পিস, উন্নতমানের সার্ট ও প্যান্ট পিস সংগ্রহে রয়েছে। আহমেদ ক্লথ স্টোরের আবিদ হোসাইন ডলার বলেন, তার দোকানে মেয়েদের আকষর্ণীয় নকশার গাউন, থ্রিপিস, টু পিস, লেহেঙ্গার পাশাপাশি দেশি বিদেশি হাল ফ্যাশনের শাড়ি, ছেলেদের বিভিন্ন সার্ট, প্যান্ট, ক্যাটলগ পাঞ্জাবি পিসের কালেকশন রয়েছে। সংগ্রহে রয়েছে হাল ফ্যাশানের বিভিন্ন ব্রান্ডের আকর্ষণীয় পাঞ্জাবী। তাদের সংগ্রহে রাখা প্রতিটি পোশাক নতুনত্বে ভরা। শহরের নিউ ক্লথ মার্কেটের অভিজাত দোকান থ্যাংকস ক্লথ স্টোর-২ এর মালিক একরামুল হক জানান, দোকানে হাল ফ্যাশনের সব পোশাক রাখা হয়েছে। তার দোকানের সংগ্রহে রয়েছে দেশী, বিদেশী ও পাক-ভারত অঞ্চলে এখন যা চলছে এমন ফ্যাশনের পোশাক। এবারও ফ্যাশনের শীর্ষে সারারা, গাউন লং, শর্ট গাউন মাহাজাবিনসহ বর্ণীল নকশার থ্রী পিস, ওয়ান পিস ব্রান্ডের পাঞ্জাবী ও গেঞ্জি সেটের ক্রেজ চলছে। এছাড়াও ঈদের আগ পর্যন্ত যখন যে ফ্যাশন বের হবে তা তার দোকানে পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশেষ করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক এবার বেশি পরিমাণে দোকানে তোলা হয়েছে। ক্রেতাদের পছন্দ মাথায় রেখে সমাবেশ ঘটানো হয়েছে নারী-পুরুষ ও শিশুদের বর্ণিল পোশাক। দাম সহনীয় থাকায় রমজানের শুরু থেকে ক্রেতাদের আগমন দেখা যাচ্ছে। যা ব্যবসার জন্য ভালো লক্ষণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শহীদ ডা. শামসুল হক সড়কে অবস্থিত ঢাকা ফ্যাসনের মালিক নাজমুল হোসাইন মিলন জানান, তার দোকান পাঞ্জাবী আইটেমের জন্য খ্যাত। এবার ঈদেও নজরকাড়া ডিজাইনের পাঞ্জাবী তোলা হয়েছে। ছেলে ও মেয়েদের সারারা, মাহিরা, পাটি সেট, গেঞ্জি সেট, টিস্যু কাপড়ের তৈরী পোশাক, থ্রিপিস, লং ওয়ান পিস, গাউনসহ বাহারী সব কাপড় সংগ্রহে রয়েছে। সাশ্রয়ী দামে চলতি ফ্যাসনের সব রকম পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি পোশাকের ডিজাইনে নতুনত্ব রয়েছে, পছন্দের সেরা। লিটন টেইলার্সের মালিক আল আমিন জানান, ছেলেদের পোশাক তৈরীর অর্ডারই পাওয়া যাচ্ছে বেশী। প্যান্টের অর্ডার ভালো মিলছে। রমজানের শুরু থেকেই সেলাইয়ে ব্যস্ত কারিগররা। এখনও তারা সেলাইয়ের অর্ডার নিচ্ছেন, তবে ২/১ দিন পর হয়ত অর্ডার  নেয়া সম্ভব হবে না। নারীদের পোশাক তৈরীর প্রতিষ্ঠান সৌখিন টেইলার্সের কারিগররা এখন ব্যস্থ সময় পার করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে সেলাই মেশিনের চাকা। প্রতিষ্ঠানের মালিক রাজু ও পারভেজ জানান, বর্তমানে তাদের দম ফেলবার ফুরসত নেই।