Opu Hasnat

আজ ১৭ জুন সোমবার ২০১৯,

ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষের জন্য শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট প্রস্তুত মুন্সিগঞ্জ

ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষের জন্য শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট প্রস্তুত

রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম ব্যস্ততম নৌপথ শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট। ঈদ যাত্রায় এবার ঘরমুখো মানুষের জন্য প্রস্তুত শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট

ঈদ মৌসুমে এ নৌরুটে ঢল নামে ঘরমুখো মানুষের। নাড়ির টানে ঘরে ফেরা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের একটি বৃহৎ অংশ শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট ব্যবহার করে ঘরে ফেরে।

প্রতিবছরই ঈদ মৌসুমে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে ঘরে ফেরা নিশ্চিত করতে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ঘাটে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে থাকে কর্তৃপক্ষ। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এ নৌরুটে ১৮টি ফেরি, ৮৭টি লঞ্চ ও দুই শতাধিক স্পিডবোট চলাচল করবে বলে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্র জানিয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি’র শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্রে জানা যায়, ঈদের চাপ সামলাতে নৌরুটে ১৮টি ফেরি চলাচল করবে। বর্তমানে নৌরুটে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। ২৬ রোজার দিকে আরও দু’টি ফেরি যোগ হবার কথা রয়েছে।

বর্তমানে এ নৌরুটে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, এনায়েতপুরী ও শাহ পরাণ নামের তিনটি রোরো ফেরি, ল্যান্টিন, টাপলো, রামশ্রী, রাণীগঞ্জ, রাণীক্ষেত ও রায়পুরা নামের ছয়টি ফ্ল্যাট ফেরি, কাকলী, কামিনী, ক্যামেলিয়া ও কপোতী নামের চারটি কে-টাইপ ফেরি এবং ফরিদপুর, কুমিল্লা ও কর্ণফুলী নামের তিনটি মিডিয়ামসহ মোট ১৬ ফেরি চলাচল করছে।

শিমুলিয়া ফেরি ঘাটের বিআইডব্লিউটিসি’র ম্যানেজার আব্দুল আলিম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে পর্যাপ্ত ফেরি রয়েছে। তাছাড়া নৌরুটে বর্তমানে নাব্যতা সংকট অনেকটাই কেটে গেছে। ফলে ফেরি চলাচলে এবার ভোগান্তি হবেনা আশা করি। তবে ঈদের সময় যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ থাকে। সে সময় দূরপাল্লার যাত্রীদের জন্য লোকাল বাসগুলো ফেরি ঘাটের কাছে চলে আসে। এতে করে পরিবহন ওঠা-নামার পথে যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে ফেরি থেকে পরিবহন আনলোডে আমাদের কিছুটা সমস্যা হয়। এবারে এ বিষয়টা নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করা হবে। যাতে করে নির্বিঘ্নে ফেরি থেকে পরিবহন আনলোড করা যায়।

বিআইডব্লিউটিসি’র ম্যানেজার আব্দুল আলিম আরো বলেন, লঞ্চ ঘাট উদ্দেশ্যে বলেন, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ঈদে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যায়। ঘরে ফেরা মানুষের একটা বড় অংশই পদ্মা নদী পার হয় লঞ্চে করে। ফলে এই সময়টায় নৌপথে ভিড় থাকে প্রচন্ড। লঞ্চগুলোর ব্যস্ততার কমতি থাকে না। যাত্রীদের নির্বিঘ্নে পারাপার করতে প্রতিবছরই ঈদ মৌসুমে লঞ্চগুলোকে ত্রুটিমুক্ত রাখার চেষ্টা করা হয়। সারাবছর চলাচলের পর ঈদের আগেই প্রত্যেকটি লঞ্চকে সার্ভে করা হয়। ঝালাই-মেরামতসহ, ইঞ্জিন, সিট, ডেক ঠিক করা ও রঙ করা হয়ে থাকে। যাতে করে এই সময়ে কোনো লঞ্চের সমস্যা না হয়।

৮৭টি লঞ্চ ঈদ মৌসুমে যাত্রীদের পারাপারে ব্যবহৃত হবে। ইতোমধ্যে ত্রুটিপূর্ণ ১০টি লঞ্চ মেরামতের জন্য ডকইয়ার্ডে রয়েছে। সেগুলোও যথাসময়ে নৌরুটে যুক্ত হবে।

একাধিক লঞ্চ মালিক বলেন, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে লঞ্চ চলাচল শৃঙ্খলার সঙ্গে হয়ে আসছে। ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হয় না। তাছাড়া প্রতিটি লঞ্চেই পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী বয়া ও লাইফ জ্যাকেট রয়েছে। একমাত্র ঈদ মৌসুমে লঞ্চেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হয় না।

অন্যদিকে, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী উভয় ঘাট মিলিয়ে এ নৌরুটে ২ শতাধিক স্পিডবোট রয়েছে। ঈদ মৌসুমে যাত্রী পারাপারে নিয়োজিত থাকবে স্পিডবোটগুলো।

যাত্রীদের নির্বিঘ্নে পারাপার করতে ৮৭টি লঞ্চ ঈদ মৌসুমে ব্যবহৃত হবে। ত্রুটিপূর্ণ লঞ্চগুলো মেরামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। যেগুলো ঈদের আগেই নিয়ে আসা হবে। কোনো দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে সেই লক্ষ্যে লঞ্চ ঘাটে কঠোর নজরদারি থাকবে বলে বিআইডব্লিউটিসি’র ম্যানেজার আব্দুল আলিম জানিয়েছেন।