Opu Hasnat

আজ ১৯ আগস্ট সোমবার ২০১৯,

বড়াইগ্রামে পুলিশের অভিযানে তক্ষক উদ্ধার, আটক ২ নাটোর

বড়াইগ্রামে পুলিশের অভিযানে তক্ষক উদ্ধার, আটক ২

নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কয়েকজন পুলিশ বিভিন্ন সাধারণ পোষাকে ছদ্মবেশ ধারণ করে ক্রেতা সেজে উদ্ধার করলো বিরল প্রাণী তক্ষক। এসময় তক্ষক বিক্রয়ের সাথে জড়িত দুইজনকে আটকও করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার নগর ইউনিয়নের নগর বাজারের উত্তর দিকের পচাবড়াল ব্রিজ এলাকা থেকে তক্ষক সহ তাদেরকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- নগর ইউনিয়নের কুরশাইট গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে ইদ্রিস আলী (৩২) ও কদিমচিলান ইউনিয়নের চাঁদপুর সাজীপাড়া গ্রামের শ্রী শুকুমারের ছেলে শ্রী সঞ্জয় কুমার (২৮)। 

বুধবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পারভেজ ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে অভিযুক্ত করে ওই দুইজনকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থ দন্ডাদেশ প্রদান করেন। এসময় তিনি ওই তক্ষককে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার জিম্মায় দিয়ে তক্ষক রক্ষায় উপযুক্ত পরিবেশে বিচরণ করার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। 

বনপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক নাজমুল হক জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইদ্রিস সহ সংঘবদ্ধ কয়েকজন বিরল প্রজাতির তক্ষক পাচার ও মোটা দামে বিক্রি করে আসছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিলো। কিন্তু তারা ছিলো অনেকটাই ধরা ছোঁয়ার বাইরে। মঙ্গলবার তারাবি নামাজের পর তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণ মোহন সরকার ও রফিকুল ইসলাম সহ ৪ জন পুলিশ সদস্য ছদ্মবেশে ক্রেতা সেজে তক্ষকের খোঁজে যায়। তক্ষক বিক্রেতা ইদ্রিস জীবন্ত একটি তক্ষক দিতে পারবে বলে জানিয়ে তার দাম তিন লক্ষ টাকা দাবী করে। ছদ্মবেশী ক্রেতা পুলিশ সদস্যরা দামাদামীর এক পর্যায়ে তা ২ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়। তক্ষক নিতে ইদ্রিস ছদ্মবেশী ক্রেতাদের বিভিন্ন গ্রামীণ পথ, বাঁশ বাগান, আম বাগান, বাড়ির আনাচে-কানাচে দিয়ে প্রায় ৪৫ মিনিট পথ পাড়ি দেয় এবং সবশেষে পচাবড়াল ব্রিজ এলাকায় গিয়ে একটি ভাঙ্গাঘরের ভিতর থেকে তক্ষক বের করে। পরবর্তীতে ছদ্মবেশী ক্রেতা পুলিশ পরিচয় দিয়ে তক্ষকসহ ২ জনকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদেরকে ভ্রাম্যমান আদালতের সামনে হাজির করে।