Opu Hasnat

আজ ২৬ আগস্ট সোমবার ২০১৯,

একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট কবি হায়াৎ সাইফ আর নেই শিল্প ও সাহিত্যসংগঠন

একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট কবি হায়াৎ সাইফ আর নেই

একুশে পদকপ্রাপ্ত ষাট দশকের বিশিষ্ট কবি হায়াৎ সাইফ আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। 

রোববার (১২ মে) দিবাগত রাত ১২টা ৫মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।  মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন। 

ইউনাইটেট হাসপাতাল থেকে কবির মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করে জানানো হয়, কবি হায়াৎ সাইফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত রাতের প্রথম প্রহরে বারটা ৫ মিনিটের দিকে মারা যান। কবিকে গত ২২ মার্চ এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ভর্তির পর থেকেই তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। হাসপাতালের মরচুয়ারিতে কবির মরদেহ রাখা হয়েছে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী জানান, আগামীকাল কবি হায়াৎ সাইফের মরদেহ বাংলা একাডেমিতে আনা হবে। একাডেমিতে কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে। কবির ছেলে ও মেয়ে বিদেশে রয়েছেন। তারা দেশে আসার পর একাডেমিতে কবির মরদেহ আনার সময় ঠিক করা হবে।

প্রকৃত নাম সাইফুল ইসলাম খান হলেও হায়াৎ সাইফ নামেই সমধিক পরিচিত এই কবি। বাংলাদেশ স্কাউটস এর উপ পরিচালক (জনসংযোগ ও মার্কেটিং) মো. মশিউর রহমান জানান, কবি বাংলাদেশ স্কাউটসের সাবেক জাতীয় কমিশনার জনসংযোগ ও প্রকাশনা এবং আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কাউটসের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

এছাড়া স্কাউটিংয়ে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি বিশ্ব স্কাউট সংস্থার সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড ‘ব্রোঞ্জ উলফ’ এবং বাংলাদেশে স্কাউটসের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড ‘রৌপ্য ব্যাঘ্র’ অর্জন করেন।

বাংলাদেশ স্কাউটস এর পক্ষে প্রয়াত কবির জানাজা মঙ্গলবার (১৪ মে) রাজধানীর কাকরাইলে বাংলাদেশ স্কাউটস এর সদর দফতরে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে।

কবিতায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে কবি হায়াৎ সাইফ ২০১৮ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। কর্মজীবনে তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সদস্য ও পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

১৯৪২ সালে ঢাকায় জন্ম নেওয়া কবি হায়াৎ সাইফের বাবার নাম মোসলেম উদ্দিন খান ও মাতার নাম বেগম সুফিয়া খান। পিতার কর্মস্থল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার সুবাদে তিনি তার শৈশব কাটান রাজশাহীতে। 

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাজীবন শেষ করে তিনি ১৯৬৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।