Opu Hasnat

আজ ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ২০১৯,

ঝুঁকিতে রংপুর সরকারি কলেজ ভবন রংপুর

ঝুঁকিতে রংপুর সরকারি কলেজ ভবন

রেজওয়ান হোসেন সুমন, রংপুর :  বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গে তথা সারা দেশের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি কলেজসমূহের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়ানোর ও আলোকিত মানুষ গড়ে তোলার অন্যতম একটি বিদ্যাপিঠ রংপুর সরকারি কলেজ। রংপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্রে ৫.২৬ একর জমির উপর ১৯৬৩ সাল থেকে শিক্ষার আলো ছড়ানোর যাত্রা শুরু করে অর্থাৎ প্রতিষ্ঠিত হয় রংপুর সরকারি কলেজ। সুযোগ্য অধ্যক্ষ প্রফেসর কানিজ উম্মে নাজমা নাসরীন এর নেতৃত্বে বর্তামানে প্রায় ৭৮ জন শিক্ষক ও প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থীর সমাগম নিয়ে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে এই বিদ্যাপিঠটি। কিন্তু যেকোনো মুহুর্তেই দূর্ঘটনার কবলে পড়ে সাময়িকভাবে থমকে কিংবা নিভে যেতে পারে এই বিদ্যাপীঠ থেকে উচ্চতর শিক্ষার আলো গ্রহণকারী অথবা প্রদানকারী প্রদীপ গুলোর। 

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে রংপুর সিটি কর্পোরেশন থেকে গ্রহণ করা নগরীর বিভিন্ন স্থানের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সনাক্তকরণ কার্যোক্রমের ঝুঁকিপূর্ণভবন হালনাগাদ করণ কর্মসূচির বিশেষ অভিযানে নগরীর বিভিন্ন স্থানের মত ঝুঁকিপূর্ন ভবনের তালিকায় উঠে এসেছে রংপুর সরকারি কলেজ এর তিন (০৩) তলা বিশিষ্ট প্রথম (মুল) ভবন। এবারে চলুন বিস্তারিতে, তিন (০৩) তলা বিশিষ্ট জরাজীর্ণ অবস্থার ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটি প্রায় ৩০টি কক্ষ সমন্বয়ে অবস্থিত। 

ভবনটির নিচ তলায় রযেছে সভা কক্ষ যেখানে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন আলোচনা সভা সহ বিভিন্ন দিবস সমূহ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উদযাপন কর হয়ে থাকে, এছাড়াও রয়েছে রসায়ন বিভাগ ও রসায়ন গবেষণাগার। যেখানে রয়েছে বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রবাদি যা এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের জন্য একটি মারাত্মক বিপজ্জনক বিষয়। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় বাংলা বিভাগ সহ রয়েছে পদার্থ বিভাগ ও পদার্থ গবেষণাগার, যেটি কিনা এই ভবনটির জন্য আরো একটি বিপজ্জনক বিষয় হিসেবে দাড়িয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটির তৃতীয় তলায় রয়েছে ছাত্রী কমন রুম, অফিস কক্ষ ও একাডেমিক সেকশন যেখানে হাজারোও শিক্ষার্থীর ও অফিসিয়াল দলিলাদি জমা রয়েছে। শুধু তাই নয় এই তলায় রয়েছে উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষের কক্ষ। 

ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটিতে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায় ভবনটির সাথে অন্যভবনের সাথে যাতায়াতের সংযোগস্থল থাকলেও ভবনের নিচ তলা থেকে শুরু করে তৃতীয় তলা পর্যন্ত উঠা ও নামার জন্য প্রায় দুই ফিট বিশিষ্ট দুটি সিড়ি রয়েছে যেখানে যেকোনো মুহুর্তে দূর্ঘটনার কবলে পড়ার পরবর্তীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দাড়াতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটিতে বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ, বৈদ্যুতিক সুইচ বোর্ডের অবস্থাও বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। ভবনটির তৃতীয় তলায় অফিস ও একাডেমিক সেকশনের ছাদ, বিম ও পিলারের দিকে তাকালে দেখা যায় কিছু কিছু জায়গায় ছাদ থেকে প্লাস্টার খুলে পড়ে যাওয়ায় ছাদ, বিম ও পিলারের রড বেরিয়ে এসেছে, অথচ এই কক্ষে রয়েছে গাদা গাদা কাগজ পত্রের সংগ্রহ। ঝুকিপূর্ন ভবনটির তৃতীয় তলায় উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষের কক্ষের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যপূর্ন হলেও ভবনটির বাহিরে দিক থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে দেওয়াল ও ছাদে ফাটল ধরেছে। 

রংপুর সিটি কর্পোরেশন থেকে সর্তকতা সম্বলিত সাইনবোর্ড বসানোর পরেও ভবন সংকটের কারনে কতৃপক্ষ নিরুপায় হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনটিতে কমবেশি প্রায়দিনই পাঠদান গবেষণাগার সমুহের ব্যবহার এবং বিভিন্ন পরিক্ষা পরিচালোনা করেই যাচ্ছে। এ প্রতিবেদন লেখা চলমান অবস্থায় এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষের নিকট জানতে চাইলে.... অপেক্ষায় থাকুন দ্বিতীয় পর্বের।