Opu Hasnat

আজ ১৯ আগস্ট সোমবার ২০১৯,

সৈয়দপুরে পচানালা খননের উদ্যোগ : গাছপালা রক্ষার দাবি কৃষকের, মামলার হুমকি নীলফামারী

সৈয়দপুরে পচানালা খননের উদ্যোগ : গাছপালা রক্ষার দাবি কৃষকের, মামলার হুমকি

সৈয়দা রুখসানা জামান শানু, নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে : গাছ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আর এই গাছগুলো কাটতেই মরিয়া হয়ে উঠেছে সংস্কার কাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। তারা বাধ্যতামুলক গাছ কাটতে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে মামলা ও জেল-জুলুমের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পঁচা নালা এলাকার বাসা-বাড়ীগুলোতে

এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র হতে জানা যায, সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের সোনাখুলি মৌজার নিম্নাঞ্চল একটি ডোবা থেকে সৈয়দপুরের পঁচা নালার উৎপত্তি। জনশ্রুতি রয়েছে জমিদার পঁচা সরকার কৃষিতে সেচ কার্যে সুবিধার জন্য এটি প্রায় দেড়শত বছর পুর্বে খনন করেন। যা দশ ফুট গভীর ৮ ফুট চওড়া হয়ে ২১.৮৩ কিলোমিটার দক্ষিনে রংপুরের বদরগঞ্জের বারাতি নদীতে গিয়ে মিশেছে। এ নালারটির বাঁধ ও পতিত জমিতে সরকারের ঘোষনানুযায়ী স্থানীয় কৃষক ও সৈয়দপুর বন বিভাগ দুই ধারে ইউক্যালিপটাস, গড়াই,  শিশু, মেহগনি, কদম, কড়াই, কাঁঠাল, আম, হরতকি, বহেরা, নারিকেল, খেজুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলজ ও ঔষধী মিলে প্রায় ৭০’হাজার গাছ রোপন করেন। যা কয়েক যুগে বিশালাকৃতি ধারন করেছে। এতে নালাটির ধারশক্ত হয়ে দীর্ঘকায় বনে পরিণত হয়েছে। বর্তমান তাপদাহে এ বনের গাছ-গাছালির শীতল ছায়ায় এলাকাবাসী ও পথচারীরাা বিশ্রাম নেন। এ বনকে কেন্দ্র করেই সৈয়দপুর ওয়াপদা নামক এলাকায় পাতাকুড়ি নামে একটি ব্যাক্তি মালিকানাধীন বিনোদন পার্ক তৈরি হয়েছে। যেখানে প্রতিদিন শত-শত দশনার্থী  ভিড় করছে। এতে গাছগুলো ছায়া, ফল, ফুলসহ ঔষধী উপকরন প্রদানে প্রতিনিয়ত মানুষের উপকারে লাগছে।

তবে বাঁধ সেধেছে এর উন্নয়ন কাজ। এ নালাটি সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের  আওতায় ৬৪ জেলার অভ্যন্তরীন' ছোট নদী খাল ও জলাশয় পুর্নঃখনন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে পুনঃখননের কাজ গত ২৭ মার্চ শুরু হয়।  যা খননে  ৩ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যায় ধরা হয়েছে। আর শুরুতেই স্কেভেটর লাগানোয় উভয় ধারের প্রায় ৫০ হাজার গাছের দীর্ঘ সারিগুলো বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে। কোন নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করে গাছ কাটতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুই দিন মাইকিং করেন। এরপরেও গাছমালিকরা অসম্মত হলে তাদেরকে বাড়িতে গিয়ে শাসিয়ে মামলার জড়ানোর হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে ওই এলাকার গাছ মালিকরা আতংকে দিন যাপন করছেন।

সোনাখুলি এলাকার মািটকাটা শ্রমিকদের সর্দার আবুল হোসেন জানান, এ কাজে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক সিডিউল সময়ে কাজ করতে পারবে। এতে গাছগুলো রক্ষা পাবে। এতে দরিদ্র মানুষরা ভালই থাকত। গাছ মালিক মুন্না, সফিয়ার রহমান ও জয়নাল আবেদীন জানান, সরকারের ঘোষনানুযায়ী পতিত জমিতে এ সকল গাছ কয়েক যুগ আগে লাগানো হয়েছে। দিন-রাত তাদের পরিচর্যাার মাধ্যমে বড় হয়েছে। আজ হঠাৎ করেই সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন নোটিশ ছাড়াই কাটতে বলছে। না কাটলে মামলায় জড়িয়ে জেল-জুলুম খাটাবে বলে হুমকি দিচ্ছে। এখন আমরা কোথায় যাব। এমন প্রশ্ন সকল গাছ মালিকদের। মো. আওলাদ হোসেন খোকন নামে গাছ মালিক জানান, সরকারি নির্দেশনায় এ গাছ লাগানো হয়েছে। এতে বাঁধ রক্ষাসহ তাপদাহে মরুময় রুপেও শীতল হয় এ এলাকা। মানুষসহ অন্যন্য প্রানীর উপকারে আসছে এ বন। অথচ তারা বাধ্যতামুলক ভাবে গাছ কাটতে বাড়িতে এসে হুমকি দিচ্ছে।

শফিকুল নামে এক কৃষক জানান, মানুষের দ্বারা খাল খনন করলে আমাদের গাছ রক্ষা পেত। রক্ষা পেত প্রকৃতি ও পরিবেশ। এ বিবেচনায় গাছ রক্ষায় স্থানীয় সকল সরকারি দপ্তরে আবেদন করেছি। কিন্ত কোন সুরাহা পেলাম না। এ নিয়ে কৃষকসহ সকল গাছ মালিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কথা হয় সৈয়দপুর সামাজিক বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আহসান হাবিবের সাথে। তিনি জানান পঁচা নালার ডাঙ্গার হাট ব্রিজ পর্যন্ত আমাদের ১৪ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধী, বনজ ও ফলজ গাছ রয়েছে। কোন গাছ কেউ কাটতে পারবেনা। এর জন্য অনেক প্রক্রিয়া রয়েছে। 

এ নিয়ে সৈয়দপুর পানি উনয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শত ভাগ নীতিমালা মেনেই কাজ করা হচ্ছে। শ্রমিকদের স্বার্থ আর গাছ রক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে উন্নয়নের স্বার্থে সকলের সহায়তা প্রয়োজন। তিনি বলেন, কৃষকদের হুমকি ও মামলা দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।