Opu Hasnat

আজ ১৫ আগস্ট বুধবার ২০১৮,

পাউন্ড ও ইউরো বন্ড চালু করবে বাংলাদেশ সরকার প্রবাস

পাউন্ড ও ইউরো বন্ড চালু করবে বাংলাদেশ সরকার

প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে নিরাপদ বিনিয়োগে আগ্রহী করতে পাউন্ড ও ইউরো বন্ড চালুর দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান।

বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) ইউকে বাংলাদেশ ক্যাটালিস্ট অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ইউকেবিসিসিআই) সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান গভর্নর।

ইউকেবিসিসিআই দীর্ঘদিন ধরে প্রিমিয়াম বন্ড ও ডলার বন্ডের পাশাপাশি পাউন্ড বন্ড ও ইউরো বন্ড চালুর দাবি জানিয়ে আসছিলো। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রিমিয়াম বন্ড ও ডলার বন্ড চালু থাকলেও পাউন্ড বন্ড নেই। ডলার বন্ডে ব্রিটেনের বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করলে কনর্ভাসন রেইটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন।

পাউন্ড ও ইউরো বন্ড চালু হলে ব্রিটেন ও ইউরোপ প্রবাসীরা কনভার্সন রেইটের কারণে অধিক মুনাফা থেকে বঞ্চিত হবেন না, এতে বিনিয়োগের আগ্রহ তৈরি হবে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং কোম্পানি মোদি’র তথ্যসূত্র উল্লেখ করে গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক স্থিতিশীল রাষ্ট্র। যেখানে ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার অর্থনীতিও এতটা স্থিতিশীল নয়। চলতি বছর বাংলাদেশের রফতানি বেড়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ। তাই এই স্থিতিশীল অর্থনীতিতে প্রবাসী বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে বাংলাদেশের জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা ৬ শতাংশ থেকে ৮ শতাংশে বৃদ্ধি করা সম্ভব।

ইউকেবিসিসিআই’র প্রেসিডেন্ট বজলুর রশীদ এমবিই বলেন, বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ফাইনান্সিয়াল সেক্টরে যে অভাবনীয় অগ্রগতি হয়েছে সে বিষয়গুলো ব্রিটিশ উদ্যোক্তাদের অবহিত করতে ও বাংলাদেশে ব্রিটিশ বিনিয়োগ বাড়তে প্রবাসী উদ্যোক্তাদের নিয়ে এ ধরণের সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে।

ফাইনান্সিয়াল সেক্টর ও ব্যাংকিং সিকিউরিটি সিস্টেমের দিক দিয়ে বাংলাদেশ ব্রিটেনের চেয়েও অধিক সুবিধা দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ইউকেবিসিসিআই’র চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা ইকবাল আহমেদ ওবিই। তাই এই সেক্টরে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশের ফাইনান্সিয়াল সেক্টরে বিগত কয়েক বছরের অভূতপূর্ব সাফল্যের অগ্রগতি তুলে ধরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী আবরার এ আনোয়ার বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পেছনে অন্যতম চালিকা শক্তি রেমিটেন্স। রেমিটেন্স গ্রহণের দিক দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের দশম বৃহত্তম রাষ্ট্র। বাংলাদেশের মোট জিডিপির ৬০ শতাংশ আসে রেমিটেন্স থেকে।

ইউকেবিসিসিআই’র পরিচালক ব্যরিস্টার আনোয়ার বাবুল মিয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাই কমিশন লন্ডনের ডেপুটি হাই কমিশনার খন্দকার এম তালহা, ইউকে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট’র বাংলাদেশের পরিচালক রুজিনা হাসান ও ব্যারোনেস পলা মঞ্জিলা উদ্দীন।