Opu Hasnat

আজ ১৯ এপ্রিল শুক্রবার ২০১৯,

দিনাজপুরের চাঞ্চল্যকর আঁখি মনি হত্যাকান্ডের মামলা নিতে পুলিশের গড়িমশি! নারী ও শিশুদিনাজপুর

দিনাজপুরের চাঞ্চল্যকর আঁখি মনি হত্যাকান্ডের মামলা নিতে পুলিশের গড়িমশি!

দিনাজপুরের বিরলে চাঞ্চল্যকর আঁখি মনি’র হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা নিতে থানায় গড়িমশি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিচার না পাওয়ার আশংকা পরিবারের। তবে পুলিশ বলছে নিহতের পরিবার বিচার পাবে।

দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার রঘুনাথপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের আঁখি মনির পিতা আসাদুজ্জামান জানান, জামাই রাব্বি গত ৪ এপ্রিল বৃহষ্পতিবার তাঁর পিতা-মাতার উদ্দেশ্যে ঢাকায় যায়। ৫ এপ্রিল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২ টার দিকে মাধববাটি গ্রামের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মৃত মহসীন আলীর পুত্র বিরল সদর ইউপি’র নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মারুফ হোসেনের ছোট ভাই তোজাম্মেল হোসেন তোজা (২৫) আঁখি মনির বাড়ীর দরজা নক করে। এসময় আঁখি মনি তাঁর বৃদ্ধা নানী এসেছে ভেবে দরজা খুলে দিলে তোজা বাড়ীর ভিতরে জোর পূর্বক প্রবেশ করে। এসময় আঁখি মনি চিৎকার দিলে আশ-পাশের লোকজন এসে তোজাম্মেল হোসেন তোজাকে দরজায় শিকল তুলে তালাবদ্ধ করে আটক করে দেয়। বিষয়টি দ্রুত জানাজানি হলে তোজার লোকজন এসে তোজাকে ঘরের তালা ভেঙ্গে উদ্ধার করে এবং আঁখি মনিকে বেদম প্রহার করে। এক পর্যায় আঁখি মনি সংজ্ঞা হারিয়ে ফেললে সে মারা গেছে এই ভেবে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আঁখিমনিকে নানা মেহেরাব আলীর বাড়ীর সামনে ফেলে দেয় এবং সে বিষপান করেছে বলে অপপ্রচার চালাতে থাকে। আঁখিমনিকে ওই অবস্থায় উদ্ধার করে আঁখির নানা-মামা সহ বাড়ীর লোকজন রাত ৩ টার দিকে বিরল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। আঁখি মনি হাসপাতালে শনিবার দিবাগত ভোর রাত সাড়ে ৪ টার দিকে মারা যায়। নিহতর লাশ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজের মর্গে ময়না তদন্তের জন্য পাঠায় বিরল থানা কর্তৃপক্ষ। ময়না তদন্ত শেষে সন্ধ্যায় আঁখি মনির পিতার নিকট লাশ হস্তান্তর করে পুলিশ। রাতেই পার্বতীপুরের পিত্রালয়ে পারিবারিক কবরস্থানে আখি মনির লাশ দাফন করা হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর পিতা। নিহত আখিমনি বিরল মহিলা ডিগ্রী কলেজে এইচ এস সি শিক্ষার্থী ছিলেন। বাংলাদেশ ওয়াল্ড ভিশন নামে একটি বেসরকারি সংস্থার বিরল অফিসের নারী কর্মি হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তার ফুটফুটে ২ বছরের রাইসা নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিরল থানায় তোজাম্মেল হোসেন তোজাসহ প্রায় ১০/১১ জনকে আসামী করে থানায় এজাহার দাখিল করেছেন বলে নিহতর পিতা জানায়। তবে পুলিশ মামলা নিতে টালবাহানা করছেন বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। সাগর নামে একজন মেয়র মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে থানায় তদবির করছেন বলে জানা গেছে। 

বিরল থানার ওসি গোলাম রসুল জানান, এজাহার পেয়েছি, নিহতের পরিবার বিচার পাবে, ময়না তদন্তের রির্পোট পেলেই মামলা হবে। তদন্ত চলছে। অপরাধিরা পার পাবে না। এদিকে আখিমানির নিহত হওয়ার ঘটনায় বিরল উপজেলার সুশিল সমাজ অপরাধিদের দৃস্টান্ত মুলক শাস্তি দাবি করেছে।