Opu Hasnat

আজ ১৯ এপ্রিল শুক্রবার ২০১৯,

সৈয়দপুুরে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় সেবা বঞ্চিত এলাকাবাসী স্বাস্থ্যসেবানীলফামারী

সৈয়দপুুরে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক না থাকায় সেবা বঞ্চিত এলাকাবাসী

সৈয়দা রুখসানা জামান শানু নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে : নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্রে চিকিৎসক, মেডিকেল এসিস্টেন্ট ও ফার্মাসিস্টসহ প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকায় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী। দীর্ঘদিন থেকে এ অবস্থা থাকায় অনেকটা অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে কেন্দ্রটিতে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। ফলে জরুরী মুহূর্তসহ প্রায় সময়ই রোগাক্রান্ত হলেই ছুটতে হচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ ১০০’শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে। এতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ইউনিয়নের লোকজনকে। তাই দ্রুত তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সচল করতে ন্যুনতম হলেও একজন চিকিৎসকের দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা যায়, কামারপুকুর ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার ৫শ’ ৩০ জন (২০১৮ সালের হিসেবে অনুযায়ী)। এই বহুল সংখ্যক লোকজনের কেউ অসুস্থ হলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পেতে ছুটে যায় বাড়ির পাশের ইউনিয়নের ৪টি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন রোগী সাধারণ অসুখ নিয়ে উপস্থিত হয় এখানে। কিন্ত এ কেন্দ্রগুলোতে নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসক। এমবিবিএস ডিগ্রীধারী চিকিৎসক না থাকলেও উপ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল (স্যাকমো) চিকিৎসক থাকার কথা। সেটা থেকেও বঞ্চিত এখানকার রোগীরা। সেই সাথে নেই কোন ফার্মাসিস্ট, ইউনিয়ন ভিজিটর পদের স্বাস্থ্যকর্মী ও আয়া। বিশেষ প্রয়োজনে গর্ভবতী ও প্রসূতী নারীরা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এখান থেকে সেবা নিতে গেলেও তা পাচ্ছেন না। আর জরুরী কোন রোগী আসলে তাদের অবস্থা তো চরম দূরহ হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কেন্দ্র বা ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ছুটতে হয়। এর ফলে অনেক সময় প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়ে জরুরী রোগীরা পথেই দূর্ঘটনার শিকার হন। 

উপরোক্ত কথা গুলো বলছিলেন কামারপুকুর ইউনিয়নের আইসঢাল গ্রামের তুলশী রানী, কুজিপুকুর গ্রামের জমিলা খাতুন, নিজবাড়ি গ্রামের ছালেনূর বেগম ও অসুরখাই গ্রামের আয়শা খাতুনসহ কয়েকজন ভুক্তভোগী ব্যক্তি। তারা আরও বলেন, এ ব্যাপারে বার বার বলা সত্বেও উপজেলা প্রশাসন বা সরকার কোন ভ্রুক্ষেপ না করায় তৃণমূলের লোকজন সরকারী স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিতই রয়ে যাচ্ছে। প্রচার প্রচারণায় গ্রামাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে সরকারি নানা উদ্যোগের ফিরিস্তি দেয়া হলেও তা অত্র এলাকায় কল্পনা মাত্র। বাস্তবে এর কোন অস্তিত্ব খুজে পাওয়া মুশকিল। তাই তারা বাস্তবসম্মত ও যথার্থ সরকারি ব্যবস্থাপনা গ্রামে গ্রামে পৌছে দিতে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কামারপুকুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে একজন পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: সাজ্জাদ হোসেন ছাড়া আর কেউ নেই। নিয়োগপ্রাপ্ত ভিজিটর আখতার জাহান প্রশিক্ষণ নিতে ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানান তিনি। এসময় কোন রোগী আসলে তাকে কিভাবে সেবা দেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি জানান, সাধারণ রোগী আসলে তাদের আমরাই ওষুধ দিয়ে থাকি। কিন্ত অন্যরা আসলে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা ১০০ শয্যা হাসপাতালে রেফার্ড করে দেয়া হয়। তিনি বলেন, এছাড়া আর কি করা যাবে। চিকিৎসক তো দূরের কথা প্রয়োজনীয় আয়া, পিয়নও নেই এখানে।

এ ব্যাপারে কথা হয় কামারপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো: রেজাউল করিম লোকমানের সাথে। তিনি জানান, ইউনিয়নবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপন করেছেন। কিন্ত এসব কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকসহ লোকবল না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও সহযোগিতা করায় এক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা পাওয়া গেলেও এসব এনজিও’র প্রকল্প কার্যক্রম শেষ হয়ে গেলে সমস্যা দেখা দেবে। তাই দ্রুততম সময়ে এখানে একজন গেজেটেড চিকিসৎক নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন। এখনই যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে কমপক্ষে একজন মেডিকেল এসিস্টেন্ট জরুরী ভিত্তিতে দেয়া দরকার। তাহলে ইউনিয়নবাসীর ন্যুনতম স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যাবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।