Opu Hasnat

আজ ১৯ এপ্রিল শুক্রবার ২০১৯,

হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে : ডা. বিমল ছাজেড় স্বাস্থ্যসেবাচট্টগ্রাম

হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে : ডা. বিমল ছাজেড়

চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহরস্থ এলজিইডি অডিটরিয়ামে দু’দিনব্যাপী ১৮তম জাতীয় সাওল হার্ট সেমিনারের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম  বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান সেমিনারের উদ্বোধন করেন। শনিবার (২৩ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টায় সেমিনার সম্পন্ন হবে। সাওল হার্ট সেন্টার (বিডি) লি. সেমিনারের আয়োজন করেন। বিনা রিং, বিনা অপারেশনে হৃদরোগ প্রতিকার ও প্রতিরোধে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেমিনারে মূল বক্তা ছিলেন ভারতের সবচেয়ে সফল নন-ইনভেসিভ হৃদরোগ ও লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞ ডা. বিমল ছাজেড় এমডি। সূচনা বক্তব্য রাখেন সাওল হার্ট সেন্টার (বিডি) লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান কবি মোহন রায়হান। সাওল হার্ট সেন্টারের কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজিস্ট) প্রফেসর ডা. মাহমুদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা কেন্দ্র চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান, চট্টগ্রামস্থ বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি) ডা. বদিউল আলম বাদল ও সাওল হার্ট সেন্টারের কনসালটেন্ট ডা. ফারহান আহমেদ ইমন। 

ভারতের বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিমল ছাজেড়ের সাথে বাংলাদেশী হার্টের রোগীদের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কথা বলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান। সেমিনারের উদ্বোধনী দিনে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিজামী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. শহীদুল আলম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. মাশহুদুল কবীর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এল এ) মো. আমিরুল কায়ছার, বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক দাশসহ চিকিৎসক, হৃদরোগী, হৃদরোগীদের অভিভাবক, সাংবাদিক ও সাওল হার্ট সেন্টারের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। 

সেমিনারে হৃদরোগীদের উদ্দেশ্যে বিশিষ্ট হৃদরোগ ও লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞ ডা. বিমল ছাজেড় বলেন, যক্ষা হলে ছয় মাস কিংবা এক বছরের মধ্যে রক্ষা মেলে। নিউমোনিয়া ও অন্যান্য রোগ ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে  সারে। কিন্তু হৃদরোগ থেকে সেরে ওঠার কোনো সুযোগ নেই। রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসকদের উদ্দেশ্য হয়ে গেছে। মানুষকে রোগ থেকে দূরে রাখার কাজটি তারা করছেন না। ফলে প্রতিনিয়ত রোগীর বাড়ছে।  দেশে-বিদেশে বড় বড় হাসপাতাল হচ্ছে। কিন্তু হৃদরোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছে না। এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ব্যর্থতা। যদি মানুষকে রোগের কারণ জানানো হতো, তাহলে রোগীরা সেটি মেনে চলতো। ফলে রোগীর সংখ্যা কমতো। আর সেটিই হতো চিকিৎসা বিজ্ঞানের সফলতা। তাই হৃদরোগের কারণগুলো রোগীকে জানিয়ে সেগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিতে হবে। হার্টের রক্তনালির ৭০ শতাংশ ব্লকের পর বুকে ব্যথা অনুভব হয়। এর আগে কেউ বুঝতে পারে না তার হৃদরোগ আছে। মানব শরীরের প্রত্যেক অঙ্গ-পতঙ্গ  মহান স্রষ্টার সৃষ্টি। এগুলো কাটা-ছেঁড়া করলে আগের মতো হয় না। সুতরাং কাটা-ছেঁড়া না করে কিভাবে হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় সেটি রোগীকে জানাতে হবে। হৃদরোগ ধরা পড়লে রোগীকে ওষুধ প্রেসক্রাইব করে দায় সারছেন। অবস্থা খারাপ হলে রিং পরানো কিংবা বাইপাস সার্জারির পরামর্শ দিচ্ছেন। অথচ এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত হাটা, ব্যায়াম, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। হৃদরোগ মূলত অতিরিক্ত কোলেস্টেরল এবং ফ্যাটি প্লাকের কারণে হয়ে থাকে। এজন্য আমিষ খাবার নিয়ম অনুযায়ী খেতে হবে। তেলযুক্ত খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে তেল ছাড়া তৈরি তরকারি রান্না করে খেতে হবে।

তিনি বলেন, সুস্থ থাকতে হলে গরু, খাসি, মুরগির মাংস ও  মাছ বর্জন করতে পারলে ভাল। কলিজা, মগজ, হাড়ের মজ্জা কোলেস্টেরল হৃদরোগের জন্য ক্ষতিকর। এগুলোতে বেশি পরিমাণ কোলেস্টেরল থাকে। তাই হৃদরোগীদেরকে এসব খাবার পরিত্যাগ করা উচিত। স্বর বাদ দিয়ে দুধ ও কুসুম বাদ দিয়ে ডিম খাওয়া যেতে পারে। প্রচুর পরিমাণে শাক-সবজি ও চিকিৎসকের পরামর্শ মতে ফল খেলে হৃদরোগীদের সমস্যা হয় না।