Opu Hasnat

আজ ১৯ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ২০১৯,

ওজোপাডিকো’র উদাসিনতায় মৃত্যু ঝুঁকিতে অর্ধশতাধিক পরিবার ফরিদপুর

ওজোপাডিকো’র উদাসিনতায় মৃত্যু ঝুঁকিতে অর্ধশতাধিক পরিবার


ওজোপাডিকো’র উদাসিনতায় প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার প্রতি মূহুর্তে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। জাতীয় পাওয়ার গ্রিডের ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিচে বসবাসকারি এই পরিবারগুলোর উপর যেকোন মূহুর্তে নেমে আসতে পারে মহাদূর্যোগ। প্রায় একবছর হল বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও তারা কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিবারগুলো অসহায়ভাবে দিনযাপন করছে।

জানা যায়, ফরিদপুর শহরের বাইপাস সড়কের দক্ষিনপশ্চিম পাশ দিয়ে ওজোপাডিকো’র ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন চলে গেছে। এই লাইনের মাঝ বরাবর ব্রা⊃2;নকান্দা এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার বসবাস করে। ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এই বসত ঘরগুলোর উপর দিয়ে যাওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে পরিবারগুলো। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এই বসতির টিনের ঘরগুলোর কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাত্র আধা হাত উপর দিয়ে চলে গেছে। কোনো বাড়িঘরের উপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্ট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন কোনো ভাবেই আইনসিদ্ধ নয়। এটা ওই বাড়িঘরে বসবাসকারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ন। যেকোনো মূহুর্তে এ লাইনের কারনে ঘটে যেতে পারে মারাত্মক দূর্ঘটনা। মালামাল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি জীবনহানির শংকা রয়েছে প্রতিমূহুর্তে। এ লাইন নেওয়ার অনেক আগে থেকেই এখানে পরিবারগুলো বসবাস করে আসছে। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে পরিবারগুলো বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনটি সড়িয়ে স্থাপনের জন্য বারবার কর্তৃপক্ষকে তখন অনুরোধ করেছিল। 

যথেষ্ঠ পরিমানে জায়গা থাকা সত্বেও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন টাঙানোর সময় পরিবারগুলোর অনুরোধ উপক্ষো করেই একগুয়েভাবে ওজোপাডিকো লাইন টেনে যায়। এই পরিবারগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টি তারা কোনোভাবেই আমলেতো নেয়ইনি উল্টো পানির মধ্য দিয়ে পিলার স্থাপন করে লাইন টেনে নিয়ে গেছে বিদ্যুৎ বিভাগ। ফলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। যেকোন মূহুর্তে পানিতে বিদ্যুৎ সঞ্চালিত হয়ে পুরো এলাকাটাই মারাত্মক বিপর্যয়ে পড়ে যেতে পারে। সার্বিক বিবেচনা করে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই স্থানীয়রা লাইন সরানোর জন্য ফরিদপুরের বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে লিখিত আবেদন করেন। প্রায় একবছর ধরে সে আবেদন ঝুলে আছে। কর্তৃপক্ষের উদাসিনতায় প্রতিমূহুর্তে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ঝুলে রয়েছে অর্ধশতাধিক পরিবারের সদস্যরা।

ব্রা⊃2;নকান্দা এলাকার বাসিন্দা ভূক্তভোগী শেখ বাশার জানান, আমার বসতঘরের উপর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন চলে গেছে। দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছি। বিদ্যুৎ লাইনের কারনে ঘরবাড়ী মেরামতও করতে পারছি না। ঝড় বাতাস হলে পরিবার পরিজন নিয়ে প্রতি মূহুর্তে শংকার মধ্যে থাকছি। এছাড়া লাইনের পিলার বাসার পাশে খালের মধ্যে থাকায় পানিতে নামতেও আমরা ভয় পাই। লাইনটি সড়ানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে লিখিত আবেদন করা হলেও দীর্ঘদিন যাবৎ তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। ব্রা⊃2;নকান্দা এলাকার একাধিক ভূক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, আমরা প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবার এরকম ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও টনক নড়ছে না বিদ্যুৎ বিভাগের। আমাদের জানমালের কোনো মূল্যেই যেন নেই তাদের কাছে। বিদ্যুৎ লাইন সড়ানোর মত যথেষ্ঠ জায়গা থাকা সত্বেও তারা আমাদেরকে দীর্ঘদিন যাবৎ মৃত্যুর ঝুঁকির মধ্যে রেখে দিয়েছে। এব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

বিষয়টি নিয়ে ওজোপাডিকো ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিপনন) মোঃ মুরশীদ আলমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন সরানোর ব্যাপারে ব্রা⊃2;নকান্দা এলাকাবাসীর লিখিত আবেদনটি আমলে নিয়ে সুপারিশ সহ খুলনায় তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। 

ওজোপাডিকো খুলনা কার্যালয়ের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এটিএম তারিকুল ইসলাম (পরিচালন ও সংরক্ষন সার্কেল, ফরিদপুর) জানান, ব্রা⊃2;নকান্দা এলাকাবাসীর লিখিত আবেদনটি আমি পেয়েছি। ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সরানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। এটা সম্পূর্নভাবে সদর দপ্তরের এখতিয়ারে। আবেদনটি গুরুত্বের সাথে নিয়ে সুপারিশ করে আমি সদর দপ্তরে পাঠিয়েছি। সদর দপ্তর থেকে অনুমোদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর