Opu Hasnat

আজ ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার ২০১৯,

ব্রেকিং নিউজ

হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের কৃষক নেতা আজাদ নিহত সুনামগঞ্জ

হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও আন্দোলনের কৃষক নেতা আজাদ নিহত

দুর্বৃত্তের হামলায় আহত হওয়ার তিনদিন হাসপাতালের বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানতে হলো ‘হাওর বাঁচাও সুনামগঞ্জ বাঁচাও’ আন্দোলনের নেতা আজাদ মিয়াকে।  রবিবার রাতে সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।  তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী ও স্বজনরা এই হামলার ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহত আজাদ মিয়া সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামেরমোঃ  লাল মিয়ার ছেলে।

নিহতের চাচাতো ভাই ফজলু মিয়া বলেন, ‘আজাদ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণসহ গ্রামের প্রভাবশালীদের অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আন্দোলন করে আসছিলেন। এ কারণে এলাকার প্রভাবশালী মহলের র্দূনীতিবাজদের সঙ্গে তার শত্রুতা সৃষ্টি হয়েছিল।’

নিহতের বোন রোজিনা আক্তার বলেন, ‘গ্রামের সালিশের অন্যায়ের ও অবিচারের প্রতিবাদ করায় প্রভাবশালী উকিল মিয়ার সঙ্গে আমাদের পরিবারের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এছাড়া হাওর রক্ষা বাধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে আজাদ মিয়া মামলা করায় আরেকটি মহল তার ওপর ক্ষিপ্ত হওয়ার কারনেই তারাই এঘটনা ঘটিয়েছে।’ তিনি জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন,‘আজাদ মিয়া এলাকার সালিশ করতেন। তিনি সালিশে গিয়ে ন্যায় বিচার করতেন বলে প্রভাবশালীরা তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। তাদের ইশারায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।’

নিহতের স্বজনরা জানান, গত ১৪ই মাচ রাত ১০টায় দিকে সুনামগঞ্জ শহরের পিটিআই এলাকায় তিনি দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়ার তার অবস্থার  অবনতি হলে  তাৎক্ষনিক তাকেসিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থা আরো আশঙ্কাজনক হওয়ায় সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত রবিবার রাতে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আজিজ মিয়া বাদী হয়ে মোল্লাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যনসহ চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮ জনকে অভিযুক্ত করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলা প্রধান আসামী উকিল মিয়াকে গতরাতে জালালপুর গ্রামে থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আজাদ মিয়ার ভাই আজিজ মিয়া বলেন, ‘গ্রামের প্রভাবশালীদের অন্যায় কাজের প্রতিবাদ করায় ভাইকে হত্যা করেছে। হাওরের অনিয়ম ও  দুর্নীতির নিয়ে প্রতিবাদ করায় মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের জলালপুর গ্রামের একটি প্রভাবশালী মহল আজাদ মিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। আমরা বিশ্বাস উকিল মিয়া ও তার সহযোগীরা এই হামলা চালিয়েছে।’

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ বাঁচাও হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন,‘ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম  দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় প্রতিপক্ষের প্রভাবশালী লোকেরা তাকে খুন করেছে। ’ 

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হায়াতুন নবী বলেন, ‘সদর থানার ওসি মো. শহীদুল্লাহর নেতৃত্বে মামলার প্রধান আসামি উকিল মিয়াকে গত রাতে আটক করেছে পুলিশ। গ্রেফতার উকিল মিয়াকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

উল্লেখ্য ২০১৮ সালে সদর উপজেলার দেখার হাওরের ৬টি অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে বাদী হয়ে তিনি একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠায়। মামলার বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন আছে।

এই বিভাগের অন্যান্য খবর