Opu Hasnat

আজ ২৫ মে শনিবার ২০১৯,

১০ম বাংলাদেশ ও ৩য় সানসো স্কাউট জাম্বুরীর সফল সমাপ্তি ! গাজীপুর

১০ম বাংলাদেশ ও ৩য় সানসো স্কাউট জাম্বুরীর সফল সমাপ্তি !

‘যোগ্য নেতৃত্ব উন্নত দেশ’ এই থিমকে সামনে নিয়ে বাংলাদেশ স্কাউটসের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় ৮ মার্চ থেকে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরের মৌচাকে বাংলাদেশ জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ১০ম বাংলাদেশ ও ৩য় সানসো স্কাউট জাম্বুরী শুরু হয়। ৭ মার্চ জাম্বুরী কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবক এবং ৮ মার্চ স্কাউট দলসমূহ জাম্বুরী মাঠে পৌঁছালেও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চীফ স্কাউট মো: আবদুল হামিদ ১০ মার্চ ১০ম বাংলাদেশ ও ৩য় সানসো স্কাউট জাম্বুরীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

জাম্বুরীতে বাংলাদেশের সকল জেলা ও উপজেলা থেকে ১০৪৬ টি স্কাউট দলের ৯৪১৪ জন স্কাউট ও গার্ল ইন স্কাউট অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ২০২ টি দলের ১৮১৮ জন গার্ল ইন স্কাউটের সদস্য। এছাড়াও ভারত-২৩৮, নেপাল-৯৬, মালদ্বীপ-২১, ভ‚টান-৮, শ্রীলংকা-৭, আফগানিস্তান-২, ব্রুনাই দারুস সালাম-১, আমেরিকা-২, ইংল্যান্ড-১ থেকে মোট ৩৭৭জন স্কাউট ও কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সেচ্ছাসেবকসহ  ১২ হাজারের অধিক স্কাউট, গার্ল ইন স্কাউট, স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। জাম্বুরী চিফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ও দুদকের কমিশনার (অনুসন্ধান) ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান, সাংগঠনিক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় কমিশনার (সংগঠন) ও পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ জামান খান কবির। এছাড়াও এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল স্কাউটসের পরিচালক মি. জোসে রিজেল সি. প্যাংগিলিন্যান এই জাম্বুরীতে অংশগ্রহণ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১ দিকে জাম্বুরী সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাম্বুরীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ড. মো: মোজাম্মেল হক খান ও জাতীয় কমিশনার (প্রচার, প্রকাশনা ও জনসংযোগ) সরোয়ার মোহাম্মদ শাহরিয়ার। সংবাদ সম্মেলনে এসময় উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় কমিশনার (সংগঠন) আখতারুজ জামান খান কবির, জাতীয় কমিশনার (আন্তর্জাতিক) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম খান, জাতীয় কমিশনার (প্রোগ্রাম) মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান রিপন, জাতীয় কমিশনার (প্রকল্প) মো. মহসীন, জাতীয় কমিশনার (এডাল্ট রিসোর্সেস) ফেরদৌস আহমেদ ও বাংলাদেশ স্কাউটসের নির্বাহী পরিচালক আরশাদুল মুকাদ্দিস।
  
জাম্বুরী হচ্ছে স্কাউটদের মহামিলন মেলা। যেখানে স্কাউটরা ০৭ দিন অবস্থান করে শিক্ষামূলক বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে। এবার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত চ্যালেঞ্জগুলো ‘ভেঞ্চার’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। মোট ১৪টি ভেঞ্চার ও কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের সমন্বয়ে আকর্ষণীয়, উদ্দীপনামূলক, শিক্ষণীয় ও প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রাম ভিলেজ, সাব ক্যাম্প ও কেন্দ্রীয়ভাবে বাস্তবায়িত হয়। জাম্বুরীর ১৪টি ভেঞ্চার যথাক্রমে, (১) ভোরের পাখি, (২) তাঁবু কলা, (৩) অবস্ট্যাকল, (৪) শিক্ষা সফর, (৫) হাইকিং, (৬) করি ও শিখি, (৭) পাইওনিয়ারিং ও প্রাথমিক প্রতিবিধান, (৮) এসডিজি ও জিডিভি, (৯) ফান এন্ড গেম, (১০) পাশের বাড়ী, (১১) ফেইথস এন্ড বিলিফস, (১২) সাধারণ জ্ঞান, (১৩) তাঁবু জলসা, (১৪) গ্রীন ডিবেট। এছাড়াও জাম্বুরী প্রোগ্রামে কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত ছিল: উদ্বোধনী  অনুষ্ঠান, ভিলেজভিত্তিক তাঁবুজলসা, মহা তাঁবুজলসা, সমাপনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, টপ অ্যাচিভার’স গ্যাদারিং, উডব্যাজার’স গ্যাদারিং, রোভার ভলান্টিয়ার’স গ্যাদারিং। 

৮ মার্চ জাম্বুরীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এরিনায় বাংলাদেশে গার্ল ইন স্কাউট এর ২৫ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর ৫ আসনের সংসদ সদস্য মেহের আফরোজ চুমকি।

১০ মার্চ মৌচাক স্কাউট স্কুল ও কলেজ মাঠে স্থাপিত এসডিজি এর সম্মিলিত স্টলসমূহ সাসটেইন্যাবল ডিভেলপড ভিলেজ এর উদ্বোধন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি, প্রধান অতিথি হিসেবে সাসটেইন্যাবল ডেভেলপমেন্ট ভিলেজ এর উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বায়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ।
 
১১ মার্চ সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মনসুর আলী ভিলেজে ক্যাম্প ফায়ার অনুষ্ঠিত হয়। সৈয়দ নজরুল ইসলাম ভিলেজ ক্যাম্প ফায়ারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল।

ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মনসুর আলী ভিলেজে ক্যাম্প ফায়ারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্কাউটসের উপদেষ্টা মো. আবদুল করিম। সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আলমগীর।
 
১২ মার্চ তাজউদ্দীন আহমদ এবং এএইচএম কামারুজ্জামান ভিলেজে ক্যাম্প ফায়ার অনুষ্ঠিত হয়।  তাজউদ্দীন আহমদ ভিলেজ ক্যাম্প ফায়ারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এমপি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ। 

এএইচএম কামারুজ্জামান ভিলেজ ক্যাম্প ফায়ারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আকরাম আল হোসেন।
 
১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় মহা তাঁবুজলসা। মহা তাঁবুজলসায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, এমপি। বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ও জাম্বুরী চিফ ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খানের সভাপতিত্বে মহা তাঁবুজলসায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ সোহরাব হোসাইন ও এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল ডাইরেক্টর মি. জোসে রিজেল সি. প্যাংগিলিন্যান।
 
এছাড়াও ১১ মার্চ টপ অ্যাচিভার’স গ্যাদারিং এবং ১২ মার্চ উডব্যাজার’স গ্যাদারিং এর আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানসমূহে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ স্কাউটসের সহ সভাপতি মো: হাবিবুল আলম বীর প্রতীক এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের উপদেষ্টা ড. শাহ মোহাম্মদ ফরিদ।
 
১৪ মার্চ বেলা ৫ টায় মৌচাক স্কাউট স্কুল ও কলেজ মাঠে স্থাপিত এসডিজি এর সম্মিলিত স্টলসমূহ সাসটেইন্যাবল ডিভেলপড ভিলেজ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় জাম্বুরীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুল এরিনায় সমাপনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রী মোঃ আবদুল মান্নান, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানের  সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

উল্লেখ্য, ১৪ মার্চ সন্ধ্যায় ১০ম বাংলাদেশ স্কাউটস ও ৩য় সানসো স্কাউট জাম্বুলীর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলেও ১৫ মার্চ সকালে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ গন্তব্যেও উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।