Opu Hasnat

আজ ২৭ মে সোমবার ২০১৯,

ডাকসুর ২৫তম ভিপি নূর শিক্ষাক্যাম্পাস

ডাকসুর ২৫তম ভিপি নূর

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অনুষ্ঠিত হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) হলেন বাংলাদেশ সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নুরুল হক নূর। এর মধ্য দিয়ে ২৫তম ভিপি হিসেবে ডাকসুর গৌরবমাখা ইতিহাসের অংশ হলেন তিনি। 

সোমবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টা ২৪ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফলাফলে নূরুল হক নূর পান ১১ হাজার ৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদের ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন পেয়েছেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট।

নুরুল হক নূর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে এ শিক্ষার্থী হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন। তিনি পটুয়াখালীতে জন্ম গ্রহণ করেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী তিনি আলোচনায় আসেন। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এ যুগ্ম-আহ্বায়ক আন্দোলন করার কারণে ছাত্রলীগের হাতে মারধরের শিকার হন।

তবে নিজের জয়লাভের পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছেন নব নির্বাচিত ভিপি।

আজ (১২ মার্চ) সকালে ফলাফলের এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচনের দিন হামলার শিকার হয়ে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এই যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন,  ‘এ রকম নির্বাচন আমাদের কারোরই প্রত্যাশা ছিল না। ২৮ বছর পর এই নির্বাচন হয়েছে। সারা দেশের মানুষ তাকিয়ে ছিল।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের পর নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর মানুষের যে অনাস্থার সৃষ্টি হয়েছিল— আমরা ভেবেছিলাম সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সেখানে আশার আলোর সঞ্চার করা হবে। কিন্তু প্রশাসনের সহায়তায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন যে কারচুপি করেছে, তা শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয় পুরো দেশকে হতাশ করেছে। আমর মনে করি, ১১ মার্চের নির্বাচন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়।’

ভিপি নির্বাচিত হওয়ায় এখন আপনাদের অবস্থান কী হবে? এর জবাবে নুরুল হকের ভাষ্য ছিল, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন বাদে বাকি সব সংগঠন এই নির্বাচন বর্জন করেছে। তাই তাদের সঙ্গে কথা বলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।