Opu Hasnat

আজ ২৬ মার্চ মঙ্গলবার ২০১৯,

‘সবার জন্য সুস্থ কিডনি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত স্বাস্থ্যসেবা

‘সবার জন্য সুস্থ কিডনি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

কিডনি রোগের ব্যাপক প্রকোপ, এ রোগের মারাত্বক পরিনতি, অতিরিক্ত চিকিৎসার খরচ এবং সিংহভাগ কিডনি বিকল রোগীদের অর্থাভাবে প্রায় বিনা চিকিৎসায় করুণ মৃত্যুর চিত্র তুলে ধরে শনিবার সেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্যাম্পস আয়োজিত এক গোল টেবিল বৈঠকে সবার জন্য কিডনি স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সরকারী/বেসরকারী ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কিংবা প্রতিষ্ঠান গুলোর সমন্বিত ও পরিকল্পিত প্রয়াসের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন বক্তরা। 

বক্তরা বলেন, ধনি-গরীব কিংবা সুবিধা বঞ্চিত শ্রেনী নির্বিশেষে দেশের প্রত্যন্ত এলাকার সর্বস্তরের কিডনি রোগীদের চিকিৎসা প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করনের অঙ্গিকার এবং বস্তবায়নের সর্বাত্বক প্রচেষ্টা নিতে হবে।

‘বিশ্ব কিডনি দিবস ২০১৯’ উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজীত কর্মসূচীর অংশ হিসেবে দেশের শীর্ষস্থানীয় কিডনি বিষয়ক বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কিডনি এওয়ারনেস মনিটরিং এন্ড প্রিভেনশন সোসাইট (ক্যাম্পস) শনিবার (৯ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

গোলটেবিল বৈঠকে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশিদ, বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রফিকুল আলম, হলি ফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিন্সিপাল মেজর জেনারেল (অব) অধ্যাপক ডা. এইচ আর হারুন, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট টিমের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, মো: চলচ্চিত্র অভিনেতা ও মডেল নিরব হোসেন প্রমুখ।

ক্যাম্পস এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং বিআরবি হসপিটালস এর কিডনি বিভাগের প্রধান ও  চীফ কনসালটেন্ট, অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ এ গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালন করেন এবং তিনি কিডনি রোগ এর প্রতিরোধ, প্রতিকার এবং কিডনি রোগ চিকিৎসায় সবার জন্য সমান সুযোগ ও এ বিষয়ে বিভিন্ন পন্থা বাস্তবায়নের উপায় সম্পর্কে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়াম্যান অধ্যাপক ডা. হারুন উর রশিদ বলেন, বাংলাদেশে মোট  কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য দাতা হিসেবে ২০-২৫ ভাগ নিকট আত্মীয়দের মধ্য থেকে পাওয়া যায়। অথচ বাংলাদেশে মরণোত্তর কিডনি দান আইন প্রণয়ন করা হলেও, গণসচেতনতার অভাবে এখনো মরণোত্তর কিডনি দাতা অপ্রতুল । তাই, গণসচেতনতার মাধ্যমে, মরণোত্তর কিডনি দাতা বাড়াতে, দুর্ঘটনায় বা অকালে এবং রোগ-শোকে মৃত্যুবরণকরীদের কিডনিগুলো সংগ্রহ করে  কিডনি বিকল রোগীদের সংযোজন করে দিতে পারলে কিডনি চিকিৎসায় অনেক অগ্রগতি হবে।

বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রফিকুল আলম বলেন, ক্যাম্পস কিডনি রোগ প্রতিরোধে নিরলস কাজ করে দেশে ও বিদেশে সুখ্যাতি অর্জন করেছে। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ কিডনি রোগীর প্রাদূর্ভাবে ১১তম পর্যায়ে রয়েছে। কিডনি সমস্যা আজ এদেশে আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে । এর পেছনে এ্যাকসেস টু ট্রিটমেন্ট বড় কারণ। তিনি আরো বলেন, সরকার এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে আন্তরিক । কারণ ইতিমধ্যে মন্ত্রনালয়ে নির্দেশনা আছে প্রত্যেকটি সরকারী হাসপাতালে কিডনি বেড স্থাপন করার।

জাতীয় ক্রিকেট টিমের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু বলেন, আমাদের নেতৃত্বস্থানীয় লোক, শিক্ষক, ইমাম শ্রেনীর প্রতিনিধিবৃন্দ সচেতনতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

চলচ্চিত্র অভিনেতা নিরব হোসেন বলেন, কিডনি রোগের পেছনে ডায়াবেটিস, ব্লাডপ্রেশার মূল কারণ, তাই এগুলোকে নিয়ন্ত্রণে প্রাধান্য দিতে হবে যাতে, কিডনিকে আক্রান্ত না করতে পারে। তিনি আরো বলেন, ক্যাম্পস এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম এ সামাদ কিডনি রোগ প্রতিরোধে দেশব্যাপী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর এরূপ মানবিক কর্মকাণ্ডগুলোর সাথে সর্বাত্মক সমর্থন ও সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন ।

ডা. এম এ সামাদ তাঁর মূল প্রবন্ধে বলেন, পৃথিবীব্যাপি কিডনি রোগের প্রাদুর্ভাব অত্যন্ত ব্যাপক। বাংলাদেশে ২ কোটিরও অধিক লোক কোন না কোন কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি বিকলের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয় বহুল বিধায় এদেশের শতকরা ১০ জন এ রোগের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারে না। অর্থাভাবে চিকিৎসাহীন থেকে অকালে প্রাণ হারান সিংহভাগ রোগী। পক্ষান্তরে, একটু সচেতন হলে ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ক্ষেত্রে কিডনি বিকল প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগের উপস্থিতি ও এর কারণ শনাক্ত করে তার চিকিৎসা করা। তিনি সুস্থ জীবনধারা চর্চার উপর বেশী গুরুত্ব দেন। নিয়মিত ব্যায়াম করা, ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখা, ধুমপান না করা, পরিমিত সুসম খাবার, কাঁচা লবণ পরিহার করার তাগিদ দেন। তিনি রোগের প্রধান কারণ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরলের ঔষধ গরীব রোগীদের জন্য বিনামূল্যে প্রদানের দাবি জানান সরকারের কাছে। কিডনি বিকলের চিকিৎসা যেহেতু অনেক ব্যায়বহুল তাই এর চিকিৎসা ব্যায় নির্বাহে জন্য গরীবদের ভূর্তুকীসহ সবাইকে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের প্রতি জোর আবেদন জানান।

এ গোলটেবিল বৈঠকে অন্যান্য বক্তারাও অভিমত ব্যাক্ত করেন যে, চিকিৎসা করে নয় বরং প্রতিরোধ করেই এ রোগের প্রাদূর্ভাব প্রশমন করতে হবে আর এ জন্য সচেতনতাই একমাত্র উপায়।

এ ছাড়াও গোল টেবিল বৈঠকে দেশের সরকারী পর্যায়ের নীতি নির্ধারক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, ক্রীড়াবিদসহ বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।