Opu Hasnat

আজ ২৩ নভেম্বর শনিবার ২০১৯,

রাজবাড়ীকে সম্পুর্নরূপে মাদকমুক্ত করতে চাই : এসপি মিলি সাক্ষাৎকাররাজবাড়ী

রাজবাড়ীকে সম্পুর্নরূপে মাদকমুক্ত করতে চাই : এসপি মিলি

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বিপিএম ও পিপিএম রাজবাড়ীর কর্মস্থলে যোগদানের আজ মঙ্গলবার এক বছর পুর্তি হয়েছে। রাজবাড়ীর কর্মস্থলের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসুচী পালন করা হয়েছে। আর টাইমটাচ নিউজের পক্ষ থেকে আমরা রাজবাড়ীর সফল এই পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চেয়েছিলাম অনেক প্রাপ্তির মধ্যেও রাজবাড়ীবাসির জন্য আর কি কি উল্লেখ্য যোগ্য কাজ করার আছে। 

একান্ত স্বাক্ষাতকারে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি জানান, এখন আমার সবচেয়ে গুরুপূর্ন টার্গেট হচ্ছে মাদককে সম্পুর্নরুপে নির্মূল করা। কারন মাদক যে সেবন করে শুধু সে নয়, পুরো পরিবারটি ধ্বংস হয়ে যায়। মাদকের কারনেই অপরাধ বৃদ্ধি পায়। মাদকের কারনে সমাজ ও দেশ তথা পুরো জাতি ধ্বংসের দিকে ধাবিত হয়। শুধু মাদক সেবনকারী নয় এখন আমাদের টার্গেট হবে মাদক কারবারিদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা।     

সন্ত্রাস নির্মূল ও অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার জানান, আপনারা জানেন আমি যোগদাদের পরই সন্ত্রাস নির্মূলে কঠোর অবস্থানে ছিলাম। যখনই কোন অপকর্ম ও সন্ত্রাশী কার্যকলাপ বা অপরাধীদের আনাগোনার খবর পেয়েছি সেখানেই অভিযান চালিয়েছি। ফলাফল আপনারা দেখেছেন। আমাদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে একাধীক চরমপন্থ্যী নিহত হয়েছে। সেই সাথে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমান অস্ত্র ও মাদক।

দেশের গুরুত্বপূর্ন নেীপথ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ার দৌলতদিয়ায় ভোগান্তি কমাতে কিকি পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছিলো এ ব্যপারে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, এই রুট দিয়ে ২১ জেলার যানবাহন পারাপার হয়। আমি যোগদান করার পর এখানে বড় কয়েকটি উৎসব পার করেছি। সব কিছু একটি নিয়মের মধ্যে নিয়ে এসেছি। গুরুত্ব বিবেচনায় পার করা হচ্ছে যানবাহন। এখন আর ঘাটে তেমন একটা ভোগান্তি নেই। ঘাটের দালাল চক্র আর মাথাচারা দিয়ে উঠতে পারবে না। মানুষ স্বাভাবিকভাবে পারাপার হতে পারছে।

এত অল্প সময়ে কিভাবে কাজ করে সফলতা পেয়েছেন জানতে চাইলে পুলিশ সুপার জানান, রাজবাড়ী জেলায় কর্মরত আছে ৮ শতাধীক পুলিশ সদস্য। আমরা এক এক জন এসেছি এক এক জেলা থেকে। আমি মনে করি আমরা সকলে একটি পরিবার। পরিবারের সদস্য মনে করে সকলকে নিয়ে একটি টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছি। আমি পুলিশ পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে সম্মান করি ভালোবাসি। যে কারনে তারাও দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুুত। আমাদের এই সফলতা রাজবাড়ীর পুলিশ পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সফলতা।

জানাগেছে, গত ২০১৮ সালের ২৫ শে ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ অধিশাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন স্বাক্ষরিত ২৪৪ নম্বর প্রজ্ঞাপনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি’র) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন) আসমা সিদ্দিকা মিলি, বিপিএম-সেবা’কে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার নিয়োগ করা হয়। ওই বছর ৫ ই মার্চ রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন তিনি। 

উল্লেখ্য মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার দ্বারিয়াপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ হামিদ মিঞা ও রিজিয়া খানমের কৃতি সন্তান আসমা সিদ্দিকা মিলি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।

তিনি ২৪ তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০০৫ সালে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে যোগদান করে বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তি মিশনে কন্টিনজেন্ট কমান্ডার হিসেবে ডি আর কঙ্গোতে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ সময় তিনি জাতিসংঘ শান্তিপদকে ভূষিত হন। ২০১৭ সালে ভাল কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ আইজি ব্যাচ প্রাপ্ত হন।

২০১৮ সালের পুলিশ সপ্তাহ- তে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক বিপিএম-সেবা’ পদকে ভূষিত হন।

২০১৯ সালের পুলিশ সপ্তাহ-তে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি পিপিএম পদকে ভুষিত হন। জনকল্যাণকর কাজের মাধ্যমে দেশ ও জনগনের সেবা করতে দৃঢ় প্রত্যয়ী আসমা সিদ্দিকা মিলি আমৃত্যু দেশের সেবা করার জন্য সকলের দোয়া প্রার্থনা করেছেন।