Opu Hasnat

আজ ২০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ২০১৯,

খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে পাল্টা-পাল্টি মানববন্ধন খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়িতে আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে পাল্টা-পাল্টি মানববন্ধন

 

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ও সহকারী শিক্ষিকার অপসারণ-শান্তির দাবিতে পাল্টা-পাল্টি মানববন্ধন, ডিজিটাল নিরাপত্তা-পর্নোগ্রাফী একের অপরের মামলা দায়ের করা হয়েছে। সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি পদ থেকে নুরুল আজমকে বহিষ্কার ও তাঁর নানা কু-কুর্মের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে সহকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক-নৃত্য ও কন্ঠশিল্পী। শুক্রবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) সকালে খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৫ দফা দাবি সম্মলিত একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে প্রদান করে নেতৃবৃন্দরা।  

মানববন্ধন থেকে নেতৃবৃন্দরা দাবি তুলেন, দ্রæত সময়ের মধ্যে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি পদ থেকে নুরুল আজমকে বহিষ্কার করে একজন নারীকে নিয়ে সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্য কু-রুচিপূর্ণ ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজ বুকে পোস্ট করার বিষয়টি বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।  

এ সময় তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সুজস চাকমা, সদর উপজেলা কমিটির সম্পাদক পরিতোষ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি শিল্পী সংসদ সভাপতি আবুল কাশেম, শিল্পী ফারুক এবং শিল্পী পলাশ।

মানববন্ধন থেকে আগামী ৪৮ঘন্টার মধ্যে সাবেক শিবির নেতা ও বর্তমানে আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল আজমকে প্রেপ্তার, সাংবাদিক দম্পতির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, সহকারি শিক্ষিকা ও নৃত্যশিল্পী এ্যামিলি দেওয়ান ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা প্রদানসহ ৫ দফা দাবি জানিয়ে দ্রæত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা প্রহণ করা না হলে আমরণ অনশনসহ কঠোর কর্মসূচি দেয়ার ঘোষণা দেয় নেতৃবৃন্দরা। এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি’র সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী পদ-মর্যাদায় শরণার্থী টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ও জেলা প্রশাসক মো: শহিদুল ইসলাম-এর কাছে একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন শিক্ষক ও শিল্পীরা।

ঘটনার পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থানে জানা যায়, পেশাগতভাবে জীতেন বড়–য়া ও নুরুল আজম সাংবাদিকতায় যুক্ত থাকলেও তাঁরা দুই জনের মধ্যে বর্তমানে ‘টাগ অব ওয়ার’ চলছে। মূলত: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া জীতেন বড়–য়া’র স্ত্রী’র একটি অশ্লীল পর্ণো ভিডিওকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সূত্রপাত। এ ঘটনায় তাঁরা দুই জনই একে-অপরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পাল্টাপাল্টি মামলা করেছেন। এরই মধ্যে নুরুল আজম জেল থেকে জামিনে মুক্ত রয়েছেন।

অপরদিকে খাগড়াছড়ির প্রেসক্লবের সভাপতি জীতেন বড়ুয়া ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও পর্নোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। রোববার(১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খাগড়াছড়ির জ্যেষ্ঠ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের আদালতে খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল আজম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ৩রা মার্চের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য খাগড়াছড়ি সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে।

মামলায় খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল আজম অভিযোগ করেন, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি জীতেন বড়ুয়া ও তার স্ত্রী মিলে গোপন ভিডিও ধারণ করে তা দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে টাকা আদায় করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় নুরুল আজমের কাছে সাংবাদিক জীতেন বড়ুয়া ১০লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় তার ফেসবুক আইডি হ্যাকের মাধ্যমে মিথ্যাচার করে ১০কোটি টাকার মানহানি করেছে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক নুরুল আজম। এ বিষয়ে আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল আজম আরো বলেন, সাংগঠনিক মতামত না নিয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমী, সহকারি শিক্ষক সমিতি ও ঝর্ণাধারা’র নাম ভাঙিয়ে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত ১৮বছর ধরে জীতেন বড়চয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমী’র সা: সম্পাদক ও ঝর্ণাধারা’র কচিকাঁচার আসর-এর পরিচালক পদ দখল করে সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দ আত্মসাত করে চলেছেন। এসব বিষয়ে মুখ খোলার কারণেই তাঁরা চিহ্নিত কিছু মানুষ তাঁর(নুরুল আজম) সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

বাদীর আইনজীবী এডভোকেট আবদুল মমিন জানান, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ৩৪, ২২, ২৩, ২৫(ক), ২৯, ৩১ ধারা, পর্ণোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ৮(২ ও ৪) ধারা এবং দন্ডবিধি আইনের ৪২০, ২০৯, ৩৮৫, ৫০৫(ঘ) ও ৩৪ ধারায় সাংবাদিক নুরুল আজম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

খাগড়াছড়ির চীপ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ে জ্যেষ্ঠ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: মোরশেদুল আলমের আদালতে মামলা দায়ের করেন। সিআর মামলা নং-২৮/১৯। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আগামী ৩রা মার্চের মধ্যে খাগড়াছড়ি সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি জীতেন বড়ুয়া ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটিকে মিথ্যা ও বানোয়াট দাবী করে বলেন, বিস্তারিত জেনে পরবর্তিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান।

অন্যদিকে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের মুসলিমপাড়া এলাকায় এক সহকারী শিক্ষিকার অপসারণ ও শান্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। বুধবার(১৩ই ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিদ্যালয়ের সামনে বিদ্যালয়ের অভিভাবক, সমাজ কমিটি ও সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অশ্লীল ভিডিও এবং ছবি প্রচারের মাধ্যমে সামাজিক পরিবেশ নষ্টের অভিযোগ এনে তার বিচার দাবি করা হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মো: সেলিম খান, জানু শিকদার, ইলিয়াছ, রাবেয়া খাতুন প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা প্রশ্ন রেখে বলেন, যে শিক্ষিকা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেই নিজের অনৈতিক ও অশ্লীল ভিডিও করে প্রকাশ করতে পারে তার কাছ থেকে কোমলমতি শিশুরা কি শিক্ষা নিবে? এসব মানুষ সমাজিক অবক্ষয়ের জন্য দায়ী বলেও মন্তব্য করে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে এলাকাবাসীর স্কুল বর্জনসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার আহবান জানান।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন জানান, ঐ শিক্ষিকা বর্তমানে ছুটিতে আছেন। সমস্যাটি তার ব্যক্তিগত। এত দিন কেউ অভিযোগ করেনি। গত বুধবার একটি অভিযোগ এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান মনোদয়ের নির্দেশ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী অভিযোগপত্র পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ই জানুয়ারি খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি জীতেন বড়ুয়ার স্ত্রী সাংবাদিক নুরুল আজমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে ২০ জানুয়ারি ২০১৯খ্রি: আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দেন।