Opu Hasnat

আজ ২৬ এপ্রিল শুক্রবার ২০১৯,

বিশ্বম্ভরপুরে হেযবুত তওহীদের এক সদস্যের বসতঘরে আগুন সুনামগঞ্জ

বিশ্বম্ভরপুরে হেযবুত তওহীদের এক সদস্যের বসতঘরে আগুন

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের শক্তিয়ারখলা গ্রামে হেযবুত তওহীদের এক সদস্যের বসতঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার দিবাগত গভীর রাতে অজ্ঞাত লোকজন  এই অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি ঘটায়। এতে  আগুনের লেলিহান শিখায় পুরো বসতঘরটি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

স্থধানীয় ও ক্ষতিগ্রস্তের পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাতের খাবার খেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়লে কে বা কারা হঠাৎ রান্নাঘরে আগুণ দিয়ে পালিয়ে যায়। আগুনের লেলিহান শিখায় ততক্ষণে রান্নাঘর পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্যা হেযবুত তওহীদের সদস্য মো: দেলোয়ার হোসেন এর ঘুম ভাঙ্গলে দেখতে পান এই আগুনের শিখা।  তখন তিনি বসতঘরে আগুণ দেখে হাউ মাউ করে চিৎকার করতে থাকলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে কোনরকম আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে দেলোয়ার হোসেনের রান্নাঘরটি সম্পূর্ণরুপে পুড়ে ভষ্মিভূত হয়ে যায় এবং বসতঘরের কোণের এক অংশ পুড়ে যায়। এলাকাবাসীর সহায়তায় দেলোয়ার হোসেন তার স্ত্রীসহ দুই ছেলেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। ফলে অল্পের জন্য রক্ষা পায় চার চারটি জীবন। 

এর কারণ জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি হেযবুত তওহীদ আন্দোলনে যোগদানের পর থেকেই উপজেলার কতিপয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী, মৌলবাদী ধর্ম ব্যবসায়ী শ্রেণী ও ধর্মনিয়ে অপরাজনীতিক হেযবুত তওহীদ আন্দোলন ছেড়ে দেওয়ার জন্য বার বার চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। আমার ঘরবাড়ী পুড়িয়ে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিলো, এমন কি হেযবুত তওহীদ না ছাড়লে পেট্রোল ঢেলে আগুণ দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার হুমকিও দিয়ে আসছিলো। এ ব্যাপারে হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের সদস্যগণ জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জ (নং ৫২ তারিখ ১৪/০১/২০১৯) ও পুলিশ সুপার, সুনামগঞ্জ (নং ৫৭ তারিখ ১৬/০১/২০১৯) বরাবর তাদের জান মালের নিরাপত্তার জন্য আইনগত সহায়তা চেয়ে স্মারকলিপিও প্রদান করেছে বলেও জানান। তারা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে এবং অপরাজনীতিকদের হুমকি দামকির বিষয়টি উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেছে। কিন্তু দেলোয়ার হোসেনের অভিমত পুলিশ প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা না রাখায় তারা এ ধরণের জঘন্য অপরাধ করার সাহস পেয়েছে। 

হেযবুত তওহীদ আন্দোলনের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সভাপতি মো: কামাল হোসেন বলেন- সন্ত্রাসী, মৌলবাদী ধর্ম ব্যবসায়ী শ্রেণী ও ধর্মনিয়ে অপরাজনীতিকরা বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সকল হেযবুত তওহীদের সদস্যদেরকেই হুমকি দামকি দিয়ে যাচ্ছে। এটা পরিস্কার যে, এ ধরণের ঘৃণ কাজ তারাই সংগঠিত করেছে এবং ভবিষ্যতেও তারা এ ধরণের কাজ করবে । আমরা প্রত্যেকেই অনিরাপত্তার মধ্যে রয়েছি উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন। হেযবুত তওহীদের সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি মো: সাইফুল ইসলাম বলেন তারা ইতোপূর্বে হেযবুত তওহীদের প্রতিবন্ধী সদস্য ফখরুল ইসলাকে মেরে মূমুর্ষূ অবস্থায় ফেলে রেখে ঘরের আসবাবপত্র নষ্ট করেছিলো। তাকে একঘরে করে রাখার সর্বত্তক প্রচেষ্ঠা তারা অব্যাহত রেখেছে। এ ব্যাপারে আদালতে মামলাও রয়েছে। অপরাধীরা দেলোয়ার হোসেনের ঘরে আগুণ দিয়ে পরিবারের লোকজনকে পুড়িয়ে মেরে তাদের উদ্দেশ্য বাস্তাবয়ন করতে চেয়েছিলো। কিন্তু আল্লাহর অশেষ দয়ায় তারা অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে। তিনি এহেন জঘন্যতম অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত শাস্তি প্রদানের দাবী জানান।