Opu Hasnat

আজ ২০ এপ্রিল শনিবার ২০১৯,

রাজবাড়ীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি সচল করতে নেওয়া হবে উদ্যোগ রাজবাড়ী

রাজবাড়ীর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি সচল করতে নেওয়া হবে উদ্যোগ

 

রাজবাড়ী শহরের প্রাণকেন্দ্র শ্রীপুর এলাকায় প্রায় ২৫ বছর আগে পৌনে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় ‘রাজবাড়ী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল’।

শুরুতে টার্মিনালটির মালিক ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিল ‘রাজবাড়ী জেলা পরিষদ’। পরে মালিকানা ঠিক রেখে রাজবাড়ী পৌরসভার কাছে ইজারা দেওয়া হয় টার্মিনাল। তবে টার্মিনালের আর কোনো উন্নতি হয়নি। এটি চালুও হয়নি। বর্তমানে বিশাল আয়তনের টার্মিনালটি একটি ‘গাড়ি মেরামতের কারখানায়’ পরিণত হয়েছে। আর রাজস্ব আয় না পেয়ে ইজারা বাতিল চায় জেলা পরিষদ, তবে দুই দপ্তরের টানাটানির বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এরই মধ্যে একটি তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে জেলা প্রশাসন।

রবিবার সকালে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী ওই তদন্ত প্রতিবেদনটি পড়ে শোনান। সেখানে উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটির কোন বাউন্ডারি ওয়াল নেই, সেখানে একটি গ্যারেজ বড় গরে উঠেছে, যাওয়ার মতো কোন রাস্তা নেই, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো নেই, পুলিশ বক্স নেই, টয়লেট নেই, নামাজ পড়ার একটি ঘর আছে কিন্তুু ওযুখানা নেই, আলোর ব্যবস্থা নেই। আছে অবৈধ কয়েকজন দখলদার।

এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক মোঃ শওকত আলী বলেন, প্রায় চার শত কোটি টাকা ব্যয়ে গোয়ালন্দ মোড় থেকে পাংশার শিয়ালডাঙ্গি পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের কাজ চলছে। এই সড়কের কাজ শেষ হলে পাবণা অঞ্চলের যানবাহন গুলো এই সড়ক ব্যবহার করে ঢাকায় যাবে সে ক্ষেত্রে বাস টার্মিনালটি জরুরী। বাস টার্মিনালটি সচল করতে পৌরসভার অগ্রগতি জানতে চাইলে।

রাজবাড়ী পৌরসভার মেয়র মহম্মদ আলী চৌধুরী বলেন, এটি একটি বিশাল কর্মযোগ্য। বাস টার্মিনাল বন্ধ থাকায় ওই এলাকায় মাদক সেবীর আনাগোনা বেরেছে। টার্মিনালটি সচল না থাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও সেটিরমুখ বন্ধ হয়ে আছে। এই বিষয়ে আর একটি তারিখ নির্ধারন করে বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের নিয়ে বসে চালুর ব্যপারে উগ্যেগ গ্রহন করা হবে। 

এ সময় রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহম্মদ রাকিব খান, সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ রহিম বক্সসহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সরেজমিনে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, টার্মিনালটি একটি বাস-ট্রাক মেরামত কারখানায় পরিণত হয়েছে। টার্মিনাল ভবনের কিছু কিছু কক্ষ দখল করে রেখেছে বিভিন্ন পরিবহন শ্রমিক সংগঠন ও প্রভাবশালীরা। তারা ইচ্ছামতো কক্ষগুলোতে ট্রাক ও বাস মেরামতের সরঞ্জাম রেখে ব্যবহার করছে। দুই পাশে ইট দিয়ে দেয়াল তুলে বন্ধ করা হয়েছে প্রবেশ পথটি। টার্মিনালের দরজা-জানালাগুলো ভাঙা। টার্মিনালে কোনো বাস আসে না, এখান থেকে ছেড়েও যায় না। পরিচর্যার অভাবে ময়লা-আবর্জনায় ভরে আছে টার্মিনাল। অনেক স্থানে পাথর, বালু রেখে ব্যবসা করছেন বহিরাগতরা। কোথাও আবার রাখা হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি।

স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, রাজবাড়ী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাস না এসে শহরে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো হয়। সে কারণে হরহামেশাই তৈরি হয় যানজট। যেসব বাস শহরের নতুন বাজার এলাকায় গিয়ে থামে সেগুলো এ টার্মিনাল থেকে পরিচালনা করলে ধীরে ধীরে জমজমাট হয়ে উঠত টার্মিনালটি। রাজবাড়ী জেলা পরিষদ সূত্র জানায়, জেলা পরিষদের জমিতে এক কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত টার্মিনালটি ১৯৯৪ সালের ১১ এপ্রিল তৎকালীন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী জাহানারা বেগম উদ্বোধন করেন। পরে রাজবাড়ী পৌর এলাকা বর্ধিত হলে টার্মিনাল পৌরসভার আওতায় চলে যায়। তাই ২০০০ সালে তা শর্ত সাপেক্ষে পৌরসভার কাছে ইজারা চুক্তির মাধ্যমে হস্তান্তর করে জেলা পরিষদ।  এছারাও সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো থাকায় পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ প্রদান করা হয়। সেই সাথে কোন প্রকার কাজ না করার জন্য রাজবাড়ীর কাস্টমস অফিস ও আয়কর অফিসের কর্মকর্তাদের প্রতি অসন্তোশ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক।