Opu Hasnat

আজ ১৮ নভেম্বর সোমবার ২০১৯,

সিলেটে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে পাবলিক টয়লেট!! সিলেট

সিলেটে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে পাবলিক টয়লেট!!

অনীক ইসলাম জাকী : এবার জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের নামে সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা এলাকার কদমতলীতে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত পাবলিক টয়লেট স্থাপন করে সমালোচনায় পড়েছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। নির্মান প্রতিষ্ঠান ওয়াটার এইডের ভুলের দায় পড়েছে মেয়র আরিফের উপর। ওয়াটার এইডের ভুল না অসাবধানতা নাকি অবমাননা এ প্রশ্ন এখন নগর জুড়ে।

বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এ পাবলিক টয়লেট উদ্বোধন করেন।

উদ্ধোধনের পর থেকে সিলেটের নগর জুড়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা। পাবলিক টয়লেটটির নামফলকে লেখা ‘মুক্তিযোদ্ধা চত্বর পাবলিক টয়লেট’। এতে অনেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করা হচ্ছে বলে সমালোচনার ঝড় বইছে নগর জুড়ে।
কি কারনে এটা করা হলো তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন । নগর কর্তৃপক্ষ বলছেন অসাবধানতা বশতঃ আর নাগরিক সমাজ বলছেন এটি অবমাননা ।

সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি নাট্যকর্মী মিশফাক আহমদ মিশু বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নামে পাবলিক টয়লেট করতে হবে কেন। আর এই নামই বা দিতে হবে কেন।জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মানিত করতে সিসিকের কত সুযোগ আছে। দ্রুত এই নাম পরিবর্তন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

তিনি আরও বলেন এ রকম কাজে দায়িত্বশীলদের আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া উচিত।

মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক বলেন, মুক্তিযোদ্ধা চত্বর টিক আছে কিন্তু ‘পাবলিক টয়লেট’ এই শব্দটা শুনতেও তো খারাপ লাগে। আমি সিসিক মেয়রকে অনুরোধ করব নামটা পরিবর্তন করার জন্য। নতুবা সাধারণ মানুষ ফুসে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মান করতে গিয়ে যেন অসম্মান না হয় সে দিকে সবার দৃষ্টি রাখা উচিত।

একইভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সচেতন নাগরিক কমিটি সিলেট’র সভাপতি জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আজিজ আহমদ সেলিম। আলাপকালে তিনি বলেন- আমি এখনো দেখিনি, তবে ‘মুক্তিযোদ্ধা চত্বর পাবলিক টয়লেট’ লেখা হলে অবশ্যই আমার আপত্তি আছে।

তিনি বলেন- পাবলিক টয়লেটের প্রয়োজন আছে কিন্তু ‘মুক্তিযোদ্ধা চত্বর পাবলিক টয়লেট’ লেখা হবে কেন? এলাকাটি ‘কদমতলি’ নামেই পরিচিত, তাই কদমতলি পাবলিক টয়লেট নাম দিলেই তো সমাধান হয়ে যায়। এ বিষয়ে সিটি মেয়র অবশ্যই নজর দেবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে নগর ভবন সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এর অসাবধানতা বশতঃ কারনে সাইনবোর্ডে এটি হয়ে গেছে দ্রুত এটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর মুঠোফোনে কয়েক বার ফোন দেয়ার পর অপরপ্রান্ত থেকে ফোন রিসিভ করে বলা হয় মেয়র অভিযানে আছেন এখন কথা বলতে পারবেন না।

তবে সিসিকের গণসংযোগ কর্মকর্তা সাংবাদিক সাহাব উদ্দিন শিহাব বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নয়। নাম ফলকে যদি এরকম লিখা হয় তা অবশ্যই দুঃখজনক। আমার জানামতে এই প্রজেক্টের কাজ ওয়াটার এইড করে থাকে। বিষয়টি তাদের খেয়াল করা উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন সিসিকের দায়িত্বশীল ও ওয়াটার এইড কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে।