Opu Hasnat

আজ ২৩ জুলাই মঙ্গলবার ২০১৯,

মালিপাখি’র একগুচ্ছ ‘ছড়া-কবিতা’ শিল্প ও সাহিত্য

মালিপাখি’র একগুচ্ছ ‘ছড়া-কবিতা’

উড়ান
 
পাতা তোকে চুমু খাই ! চুমু ! তারা গুলো জ্বলে মিটি মিটি !
কোনো হুঁশ নেই ! ঘাড় গুঁজে লিখি শুধু চিঠি আর চিঠি -- !
পাতা তোকে চুমু খাই ! চুমু ! তোর বুকে গড়েছি যে বাড়ি !
কেন ? কোনো এক কিশোরীর চোখে যদি পাখি হতে পারি !

ঘাস ! তুমি ভালো আছো ? দ্যাখা করা ভুলে গেছি ? তাই বুঝি ?
বেশ, তবে আজ এই রণসাজ পরে বলো কাকে খুঁজি ?
মাঝে মাঝে রাঙা হাঁস সেজে, পালকের রঙ রোদে নাড়ি !
কেন ? কোনো এক কিশোরীর চোখে যদি আলো হতে পারি !

নদী তোকে ভালোবাসি ! নদী তোকে আলোমাসি বলে ডাকি !
ডেকে, ডেকে ছুটে যাই ! রাত ভোর তোর কোলে শুয়ে থাকি !
শুয়ে, শুয়ে তারা নাম লিখি ! ঘেমে গেলে হই মরুচারী !
কেন ? কোনো এক কিশোরীর চোখে যদি নদী হতে পারি !

মরীচিকা ! মরি মরি ! হুলো রাজা, মিনি পরী, ওড়া বুলি !
এসো এসো ফিরে এসো ! হীরে এসো, চুনী এসো মুঠো খুলি !
মুঠো খোলো ! খুলে বাঁধো তাকে ! চলো পথ, চলো মেধা সারি !
কেন ? কোনো এক কিশোরীর চোখে যদি ভাষা হতে পারি !
              ****************

আমি জেগে দেখি 

আকাশের বোন নীল ঢেলে বলে  
            সামনে কে  ?
দোপাটির চারা বেড়ে বেড়ে জলে
             নাম লেখে  !!

আকাশের ভাই হুস্ করে যায়
             হাঁস এঁকে  !
পাহাড়ের চূড়ো সেই চিঠি পায়
             ঘাস থেকে  !!

চারিদিকে মায়া, হও তার মানে
             চুপ যদি  !
জলছবি আঁকে কবিতায়, গানে
             রূপ নদী  !!

ডিঙি গুলি ভাসে সোনা নদীটার
            কূল ধরে  !
আমি জেগে দেখি রামধনু হার
             ফুল ভোরে  !!
    *************

সাথী 

পাগল ছেলে ! শোনায় কেরে 
একলা নাকি তুই  ?
আঁধার ঘরে কাঁদিস বসে -
 আয়না তোকে ছুঁই  !

গেছিস বুঝি পাথর হয়ে, 
নেইকি মনে বল  ?
ছোটার তেজি সাহস নিয়ে 
সামনে হাঁটি চল  -- !

কাঁসাই আছে, তিতাস আছে,
 মেঘনা আছে আর  ;
বাঁধার পাহাড় থাকনা যতো
 থাকনা যতো ভার -- !

আঁধার কেটে দু দিন বাদে
 উঠবে নেচে বুক  !
বিজয় মালা সবাই দেবে 
দেখবি কতো সুখ  !

এই ছেলেটি আয়না কাছে
 আয়না সাথী হই  !
এইনে হাতে ছড়ার দেশের
 সাতটা খুশির বই  !
************

টাপুর-টুপুর 

মেঘরা এখন জল টুপ -- টুপ মেঘরা এখন জল --
চল ছুটে যাই নামতা পাড়ায়। নামতা পড়ি চল।

ঝলমলানো পোষাকটি বেশ । বাজায় কে শাঁখ মন  ?
বুলবুলি দেশ গান ধরেছে, পুঁতিরা সাত বোন  !

তিনটি পুঁতি মাটির কুটির ! বাকিরা সব ফুল  !
আয় জোনাকি, পাহাড়ী পথ ; নাচছে নদীর কূল  -- !

ধান ঝুর ঝুর, গান ঝুর ঝুর, বাজলো নুপুর যেই  ;
জুঁই দরিয়া বললে হেসে - আরতো সময় নেই  !

আর দেরি নয়, আর দেরি নয়, নামতা পড়া যাক  ।
তিন খানা ঘর । নামতা পড়ি । একশো তারার ঝাঁক  -- !

নামতা শুনে নাম ভুলে যায় । চরকি মনে তাই
সাজলো ভোরের শাপলা সানাই মেঘনা কুটুম ভাই  !

মেঘনা পাগল, নামতা পাগল, আয়না ও মেঘ আয়  -- !
এই ছড়ালুম টাপুর-টুপুর -- পানসি ভেসে যায়।
             ***********

শুভ হোক 

কবি মানেই লোকটা পাগল। লোকটা বাজে লোক।
কবি লেখেন আগামি দিন। সবার শুভ হোক।

ওরা সবাই কি মেধাময়। চোখে মেধার ঘোর।
কবি খোঁজেন রূপকথা আর নতুন আলোর ভোর।

ওরা সবাই নেয় কেড়ে নেয় কবির সকল মান।
পাতায় পাতায় কবি ছড়ান ভালোবাসার গান।

ওরা সবাই নিজে বাঁচে। পোড়ায় কবির মুখ।
কবি লেখেন পারুল,  পলাশ সবাইকে দাও সুখ।

ওরা সবাই খুশির পাহাড়। ওরা সবাই বীর।
ওদেরতো নয়, ওদের কাছে কবির নত শির।

কবির গায়ে ছড়ায় ওরা মেধার কালো ছাপ।
কবি বলেন ও দয়াময়, দাও ধুয়ে সব পাপ।

কবি একাই পথের পথিক। ইতিহাসের দাস।
মাথা দোলায় গোলাপ, টগর, সবুজ কচি ঘাস।

কবি মানেই লোকটা পাগল। লোকটা বাজে লোক।
কবি লেখেন আগামি দিন। সবার শুভ হোক।
         **************

ফুল হয়ে যাই

ঝরনা পাতায় রঙের বাড়ি,
দু-একটা রঙ তাই কুড়ালাম।
কেউ বা শালিক কেউ বা ফিঙে,
এই নিয়ে এক রূপকথা গ্রাম।

পাহাড় ছুঁয়ে শীতল হাওয়ায়
কোলাজ আঁকে নীল দুটি চোখ।
পাতায় পাতায় পথের মিছিল  ---
কেউ বা দোয়েল কেউ বা চাতক।

ঢেউ বয়ে যায় ঘাসের ডগায় -- 
নাম লেখে এক ফুল ঘোড়া তার ।
বাউরি বাতাস আপন মনে
সুর বোনে রোজ চুমকি পাতার।

মেঘনা মেঘের হাতছানিতে 
অনুভূতির বীজ ওড়ে তাই
অলীক ভূবন কেবল ভাবে
মাঠ পেরিয়ে ফুল হয়ে যাই।
  *********

মায়াতরু 

গাছটি যেন নদী,
দেয় ছড়িয়ে প্রীতির মোহর একলা এদিক ওদিক  !

গাছটি যেন তারা,
ভালোবাসার ফুল বুনে দেয় রোজ আমাদের পাড়ায়  !

গাছটি যেন পাখি,
শুধুই বলে ও ভাই তোরা সবাই সুখে থাকিস  !

গাছটি যেন বাঁশি,
বাজতে বাজতে দেয় ছুঁয়ে মন পাগলি রাঙামাসির  !

গাছটি যেন ঘোড়া,
ছুটতে ছুটতে পথ গুলো রোজ রূপকথাতে মোড়ায়  !

গাছটি যেন আশা,
আমাকে রোজ ভুবন ডাঙার ওড়না মেঘে ভাসায়  !