Opu Hasnat

আজ ২৬ জুন বুধবার ২০১৯,

ঘন কুয়াশায় কাজ করছে না কোটি টাকা মুল্যের ফগ লাইট রাজবাড়ী

ঘন কুয়াশায় কাজ করছে না কোটি টাকা মুল্যের ফগ লাইট

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া - পাটুরিয়া নৌরুটে প্রায় পাচঁ কোটি ব্যায়ে ফেরিতে ফগ এন্ড সার্চ লাইট সংযোজন করা হলেও কুয়াশায় কাজ করছে না । মাঝে মধ্যেই বন্ধ থাকছে ফেরি চলাচল ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না এ রুটে চলাচল কারী যাত্রীরা। 

বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সুত্রে জানাযায়, ঘন কুয়াশার কারনে প্রতিবছরই রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া - পাটুরিয়া নৌরুটে  ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে প্রায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যায়ে ফেরি খানজাহান আলী, শাহ আলী, কেরামত আলী, ভাষা শহীদ বরকত ও কে-টাইপ ফেরি কপোতি, বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন, বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর, শাহ আমানত ও শাহ পরান ফেরিতে ফগ এন্ড সার্চ লাইট সংযোজন করা হয়। ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে পরীক্ষা মুলক এ লাইট গুলো সংযোজন করা হলেও ওই বছরের শীত মৌসুমে  কোন কাজ করেনি লাইট গুলো। এরপর তিন বছর পার হলেও লাইটগুলো মেরামতে কোন উদ্যোগ গ্রহন করেনি কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ঘন কুয়াশার কারনে শনিবার সকাল ৭ টা থেকে সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি সার্ভিস বন্ধ রাখে ঘাট কর্তৃপক্ষ। এ সময় যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে মাঝ নদীতে আটকা পরে পাচটি ফেরি। 

ফেরি সার্ভিস আড়াই ঘন্টা বন্ধ থাকার কারনে দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত তিন এলাকায় আটকে পরে কয়েকশত যানবাহন। তবে বেলা বারার সাথে সাথে কমতে থাকে যানবাহনের সিরিয়াল।

এ সময় ঢাকা থেকে ফেরি কেরামত আলীতে আসা যাত্রী বেলায়েত হোসেন বলেন, প্রচন্ড শীতের মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা ঘাটে অবস্থান করতে হচ্ছে তাদের। সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে ফেরিতে ফগ লাইট লাগিয়েছে। লাইট গুলো নিম্নমানের হওয়ায় সেগুলোর ব্যবহার হচ্ছে না সঠিক মতো। 

যাত্রী খোকন মিয়া বলেন, ফেরিগুলো কুয়াশায় দিক হারিয়ে পদ্মার চরে বেধে যাচ্ছে যে কারনে এই কুয়াশায় মাঝ নদীতে অতঙ্ক নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ ব্যপারে কর্তৃপক্ষের কোন নজরই নেই।

যশোহর থেকে ছেরে আসা সবজি বোঝাই ট্রাকের চালক আনোয়ার বলেন, এমনিতেই কুয়াশার কারনে দুর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এর উপর ঘাটে এসে বসে থাকতে হয় কয়েক ঘন্টা এতে ভোাগান্তি বাড়ছে। এছারাও ঘাটে বসে থেকে বাড়ছে পন্য পরিবহন খরচ।

ফেরি শাহ আলীর মাস্টার (চালক)  পরিমল চন্দ্র সরকার বলেন, ফগ লাইট শুধু রাতের বেলার সামান্য কাজ করে কিন্তুু কুয়াশা ভেদ করে সামনে কিছুই দেখা যায় না। যে কারনে যখন কুয়াশা পরে তখনই ফেরি বন্ধ করে বসে থাকতে হয়। এর একটা ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন।

বিআইডব্লিটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক সফিকুল ইসলাম বলেন, ঘন কুয়াশা এক প্রাকৃতিক কারন এতে কারো হাত নেই। আমাদের এই রুটে চলাচলকারী বর্তমানে ১৭ টি ফেরি আছে। কুয়াশায় কিছুটা যানজট হলেও কুয়াশা কেটে গেলে দ্রুত সময়ে যাত্রীদের পারাপার করা হয়। আর ফেরিতে ফগ লাইটের ব্যপারে আমি কিছু বলতে পারবো না। কারন সেটি প্রকৌশলী বিভাগের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। 

বিআইডব্লিউটিসি প্রকৌশল বিভাগের রাজবাড়ীতে কোন কার্যালয় না থাকায় তাদের সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।