Opu Hasnat

আজ ২২ জানুয়ারী মঙ্গলবার ২০১৯,

কৃষক-জেলেসহ বেকার কয়েক লাখ মানুষ

নরসুন্দা শুকিয়ে সংকীর্ণ খাল কৃষি সংবাদকিশোরগঞ্জ

নরসুন্দা শুকিয়ে সংকীর্ণ খাল

এককালের উত্তাল নরসুন্দা নদ আজ স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাচ্ছে। নাব্যতা সঙ্কট নরসুন্দাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। নরসুন্দা নদের অববাহিকায় পরিবেশ বিপর্যয়সহ কৃষি আবাদে নেমে এসেছে ভয়াবহ স্থবিরতা। নদীর তলদেশে পলি জমার ফলে পানি না থাকায় সেচনির্ভর কৃষকরা পড়েছে এক মহাসঙ্কটে। নরসুন্দা নদের দু’পাড়ে মানুষের প্রাণের দাবি, অতিদ্রুত নদের ড্রেজিং করে পানির প্রবাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক।

সরেজমিন নরসুন্দা নদ এলাকায় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, বহুযুগ ধরে কোনো ড্রেজিং না করায় নদের তলদেশে পলি জমে এর নাব্যতা হ্রাস পেয়ে এককালের উত্তাল নরসুন্দা নদী ছন্দ হারিয়ে আজ মরা গাঙে পরিণত হয়েছে। বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে জীববৈচিত্রসহ মৎস্য সম্পদ ও নানা জলজ প্রাণী। হাজার হাজার জেলে পরিবার পেশা ছেড়ে বেকারত্ব ঘুচাতে বেছে নিয়েছে অন্য পেশা। খেয়াপাড়ের মাঝিরা বৈঠা ছেড়ে কলের নৌকা চালিয়েও শেষাবধি ছাড়তে হয়েছে বাপ-দাদার পুরুনো পেশা। জালের মতো ছড়িয়ে থাকা শাখা নদীগুলো এখন বিত্তবানদের ফসলি জমি। নরসুন্দা তীরবর্তী দু’পাশের কয়েক লাখ হেক্টর জমি এ নদের পানির সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে মূল অববাহিকায় পানি না থাকায় সেচ সঙ্কট বেড়েই চলেছে। নদীর পানিতে যেসব গরীব কৃষক স্বল্প খরচে সেচ ব্যবস্থার আওতায় ছিল, তাদের এখন মাথায় হাত। বিত্তবান কৃষকরা গভীর নলকূপ বসিয়ে সেচ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যারা নগদ টাকা দিতে পারছে তারাই শুধু হালে পানি পাচ্ছে। এ সুযোগে এক শ্রেণীর মহাজন চড়া সুদে হাতিয়ে নিচ্ছে কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসলের টাকা। শুকিয়ে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গিয়ে শুকনো মৌসুমে টিউবওয়েলে পানি না ওঠায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট চরম আকার ধারণ করেছে। জলবায়ু সঙ্কট ও নদের পানিশূন্যতায় এসব এলাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে দূর্ভোগ। ভৈরব থেকে নীলগঞ্জ, তাড়াইল থেকে ইটনা দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীতে এখন কোথাও কোথাও চলছে চাষাবাদ। এ সুযোগে এক শ্রেণীর সরকারী কর্মকর্তাকে কৌশলে ম্যানেজ করে বিশেষ প্রভাবশালী একটি মহল কোটি কোটি টাকার বালু ও মাটি অবৈধভাবে বাণিজ্য করে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাচ্ছে। ফলে একদিকে সরকার হারাচ্ছে বিরাট অংকের রাজস্ব, অন্যদিকে হুমকির মুখে রয়েছে বিভিন্ন এলাকা, বড় ব্রিজ ও কালভার্ট। শুকনা মৌসুমে পানি কমে গেলে বির্স্তীণ চরাঞ্চল দখলে নিতে প্রতি মৌসুমেই মারামারিতে প্রাণহানি ঘটে। 

তৎকালীন বাংলার বারো ভূঁইয়াদের অবিসংবাদিত নেতা ঈশা খাঁ নরসুন্দা নদে নৌবহর নিয়ে ভৈরব এলাকা দিয়ে যাতায়াত করতেন। ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানির নৌ-বহর নরসুন্দা নদ দিয়ে নিয়মিত টহল ও রসদ সরবরাহের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করত। সমৃদ্ধ সেই ইতিহাস আজ কেবল অতীত স্মৃতি। নাব্যতা সঙ্কটে নরসুন্দা আজ বিপন্ন। এই এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি, সময়ের দাবি নরসুন্দা নদ সরকারি উদ্যোগে দ্রুত ড্রেজিং করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হোক।