Opu Hasnat

আজ ১৯ মার্চ মঙ্গলবার ২০১৯,

ঝালকাঠির সড়কে বেপরোয়া অবৈধ ট্রলার টেম্পু, দূর্ঘটনার আতংক ঝালকাঠি

ঝালকাঠির সড়কে বেপরোয়া অবৈধ ট্রলার টেম্পু, দূর্ঘটনার আতংক

ঝালকাঠির সড়ক পথে বেপরোয়া ভাবে অবৈধ মালবাহী ট্রলার টেম্পুর দূর্ঘটনা আশংকা জনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। পথচারীদের মধ্যে দূর্ঘটনার আতংক বৃদ্ধি পেয়েছে। সড়ক দূর্ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্টদের কোন নিয়ন্ত্রণ বা নজরদারি না থাকায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে। গাড়ির লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রুটপারমিট, নম্বরবিহীন এসব অবৈধ ট্রলি কোন ট্রাফিক সিগন্যালের তোয়াক্কা করে না। একের পর এক দূর্ঘটনা ও প্রানহানীর ঘটনা ঘটলেও এসব অবৈধ ট্রলার টেম্পুর মালিক বা চালকদের বিরুদ্ধে কোন প্রকার  শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এমন কি এসব ট্রলার টেম্পুর দূর্ঘটনায় আহত বা নিহতদের পরিবার ও স্বজনরা পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগে অভিযোগ করলে সাময়িক ভাবে ট্রলার টেম্পু বা এর চালককে আটক করা হলেও পরিবহন সেক্টরে জড়িত কিছু রাজনৈতিক নেতার হস্তক্ষেপে পার পেয়ে যায়। 
   
  সম্প্রতি ঝালকাঠির বিকনা এলাকায় ট্রলার টেম্পুর ধাক্কায় ঝালকাঠি উদ্বোধন বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী কানিজ ফাতিশা (১৩), তার মা শিউলী বেম (৪০) ও মোটর সাইকেল চালক মিজানুর রহমান আহত হয়েছে। এরমধ্যে শিউলী বেগম গুরুতর আহত হয়ে ঢাকার ধানমন্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় সে আশংকাজনক অবস্থায় রয়েছে বলে চিকিৎসক জানান। গত ১ জানুয়ারি এ ঘটনার পর আহত মিজান ট্রলার টেম্পুর মালিক শাহজাহান মুন্সি ও চালক সাইদুল হাওলাদার (১২) কে আসামী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।   জানাগেছে, ১ জানুয়ারী সকাল ১০ টায় কলেজ মোড় থেকে আসা মালবাহী অবৈধ ট্রলার টেম্পুর শিশু চালক পিছন থেকে মিজানকে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে পরে তার ডান হাতে আঘাত পায় ও মটর সাইকেলের ক্ষয়ক্ষতি হয়। একই সময় ট্রলার টেম্পুটি বিপরীত দিক থেকে আসা শিশু শিক্ষার্থী কানিজ ফাতিমা ও তার মা শিউলি বেগমকে চাপা দিয়ে টেম্পুটি ছিটকে রাস্তার পাশে পরে গেলে চালক কিশোর ছেলেটি পালিয়ে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় পথচারীরা  আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত বাসন্ডা ইউপি চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন মল্লিক ফোন করে থানায় জানালে পুলিশ এসে অবৈধ ট্রলার টেম্পুটি আটক করে। 
   
 অভিযোগ রয়েছে, মালবাহী এসব অবৈধ ট্রলার টেম্পুর মালিকরা ভাড়া দিয়ে অবৈধ ভাবে অর্থ উপার্জন করলেও চালানোর জন্য অল্প বেতন কম বয়সের কিশোর-তরুনদের নিচ্ছেন চালক হিসাবে। সড়ক বা মহাসড়কে এসব অবৈধ যান চলাচল কাগজ-কলমে নিষিদ্ধ হলেও সিন্ডিকেট গঠন করে প্রকাশ্য রাজপথে চলাচল করছে। এরফলে প্রতিদিন এসব ঝূকিপূর্ন-অবৈধ ট্রলার টেম্পু মার্কা যানবাহন সড়ক পথে চলাচলকারী পথচারীদের দূর্ঘটনা ঘটিয়ে চলছে। এসব অবৈধ যানবাহনে দূর্ঘটনার শিকার হয়ে গত ২০১৮ সালের এক বছরে ঝালকাঠি জেলায় ১০জন নিহতসহ প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ, শিক্ষার্থী ও শিশু আহত হয়েছে। 
  
 এ বিষয়ে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন জানান, মহামান্য হাইকোর্ট, মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী ট্রলি, ট্রলার টেম্পু, নসিমন করিমনসহ এসব অবৈধ যানবহন আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সেই সাথে জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতিও এসব যান চলাচল বন্ধ করার অনুরোধে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু রহস্য জনক ভাবে এসব অবৈধ ও ঝুকিপূর্ন যান চলাচল অব্যাহত ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরবতায় কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ এসব অবৈধ যানবহনের দূর্ঘটনায় অনেক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে আবার অনেকে পঙ্গুত্ব বয়ে বেড়াচ্ছেন।
 
   ঝালকাঠি থানার ওসি শোনিত কুমার গায়েন জানান, মিজানের দায়েরকৃত আবেদনের বিষয়ে তদন্ত চলছে ও অবৈধ ট্রলার টেম্পুটি আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে।